ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন — কোথায় কত নম্বর
To read this in English, visit: Admission-Test Mark Distribution — Where the Marks Are
মানবন্টন না জেনে প্রস্তুতি নেওয়া মানে ভুল জায়গায় সময় দেওয়া। ভর্তি পরীক্ষায় দুটি জিনিস মিলিয়ে চূড়ান্ত নম্বর হয় — পরীক্ষার নম্বর এবং এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ থেকে পাওয়া নম্বর। দ্বিতীয় অংশটি তুমি আর বদলাতে পারবে না, তাই প্রথম অংশে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেই হবে।
গুচ্ছ (GST) পরীক্ষার মানবন্টন
গুচ্ছ পরীক্ষা ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নে ১০০ নম্বরের, সময় ১ ঘণ্টা। পাস নম্বর ৩০। তিনটি ইউনিটে বিষয়ভিত্তিক বিভাজন আলাদা।
| ইউনিট | বিষয় ও নম্বর |
|---|---|
| A — বিজ্ঞান | পদার্থবিজ্ঞান ২৫, রসায়ন ২৫, জীববিজ্ঞান বা উচ্চতর গণিত ২৫, চতুর্থ বিষয়/বাংলা-ইংরেজি ২৫ |
| B — মানবিক | বাংলা ৩৫, ইংরেজি ৩৫, সাধারণ জ্ঞান ৩০ |
| C — ব্যবসায় শিক্ষা | বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ৩৫, হিসাববিজ্ঞান ৩৫ |
গুচ্ছে ভর্তির চূড়ান্ত মেধাক্রমে পরীক্ষার নম্বরের সাথে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর একটি অংশ যোগ হয়। যোগের হার বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া থাকে।
মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন
মেডিকেল ভর্তিতে চূড়ান্ত নম্বর দুই অংশের যোগফল — ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা এবং এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ থেকে পাওয়া নম্বর।
- এমসিকিউর বিষয়ভিত্তিক বিভাজন (২০২৫-২৬): জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়ন ২৫, পদার্থবিজ্ঞান ১৫, ইংরেজি ১৫, সাধারণ জ্ঞান ও মানসিক দক্ষতা ১৫।
- প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যায় — অর্থাৎ ৪টি ভুলে ১ নম্বর।
- এমসিকিউতে ন্যূনতম ৪০ নম্বর না পেলে মেধাতালিকায় বিবেচনা করা হয় না।
- সাধারণ জ্ঞানের অংশে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বেশি গুরুত্ব পায়।
| অংশ | হিসাব | সর্বোচ্চ নম্বর |
|---|---|---|
| এমসিকিউ পরীক্ষা | ১০০টি প্রশ্ন, প্রতিটি ১ নম্বর, সময় ১ ঘণ্টা | ১০০ |
| এসএসসির জিপিএ | জিপিএ × ৮ | ৪০ |
| এইচএসসির জিপিএ | জিপিএ × ১২ | ৬০ |
| মোট | এমসিকিউ + দুই জিপিএ | ২০০ |
নেগেটিভ মার্কিং থাকায় মেডিকেলে অনুমান করে উত্তর দেওয়া ব্যয়বহুল — নিশ্চিত না হলে প্রশ্ন ছেড়ে দেওয়াই ভালো। মোট নম্বর ও জিপিএ গুণনের হার কিছু বছর সংশোধিত হয়েছে, তাই চলতি বছরের বিজ্ঞপ্তি দেখে নাও।
কৃষি গুচ্ছ ও প্রকৌশল পরীক্ষার মানবন্টন
- কৃষি গুচ্ছ: ১০০ নম্বরের এমসিকিউ — ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গণিত থেকে প্রশ্ন; প্রতি ভুলে ০.২৫ নম্বর কাটা।
- বুয়েট: দুই ধাপ — প্রথমে প্রাক-নির্বাচনী এমসিকিউ, উত্তীর্ণদের নিয়ে চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা।
- CKRUET (চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট): একটি সমন্বিত পরীক্ষা, স্থাপত্যের জন্য অতিরিক্ত মুক্তহস্ত অঙ্কন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: এমসিকিউ ৬০ + লিখিত ৪০, এর সাথে এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ থেকে ২০ নম্বর যোগ হয়।
ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন, যোগ্যতার শর্ত ও ফি প্রায় প্রতি বছরই সংশোধিত হয়। আবেদনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা ভর্তি কমিটির চলতি বছরের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির সাথে মিলিয়ে নাও।
মানবন্টন থেকে প্রস্তুতির অগ্রাধিকার
- যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি নম্বর, সেখানেই সবচেয়ে বেশি সময় দাও — মেডিকেলে জীববিজ্ঞান, গুচ্ছ C-তে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা।
- নেগেটিভ মার্কিং আছে কি নেই, সেটা জেনে অনুমানের নীতি ঠিক করো।
- জিপিএ থেকে কত নম্বর যোগ হচ্ছে হিসাব করে দেখো — এতে বুঝবে পরীক্ষায় কত নম্বর দরকার।
- লিখিত অংশ থাকলে (ঢাবি, বুয়েট) হাতে লিখে অনুশীলন করো, শুধু এমসিকিউ প্র্যাকটিস যথেষ্ট নয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
২০২৫-২৬-এর নিয়মে এসএসসির জিপিএকে ৮ দিয়ে (সর্বোচ্চ ৪০) এবং এইচএসসির জিপিএকে ১২ দিয়ে (সর্বোচ্চ ৬০) গুণ করা হয় — জিপিএ থেকে সর্বোচ্চ ১০০, আর এমসিকিউ ১০০ মিলিয়ে মোট ২০০। আগের বছরের এইচএসসি পাস হলে ৩ নম্বর কাটা যায়।
গুচ্ছ পরীক্ষা ১০০ নম্বরের এবং পাস নম্বর ৩০। পাস করলেই ভর্তি নিশ্চিত নয় — মেধাক্রম ও আসন সংখ্যার ভিত্তিতে ভর্তি হয়।
মেডিকেল ও কৃষি গুচ্ছসহ অনেক ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা হয়। এসএসসি-এইচএসসির বোর্ড পরীক্ষার মতো এখানে নির্ভয়ে অনুমান করা যায় না — প্রতিটি পরীক্ষার নিয়ম আগে জেনে নাও।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















