মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

মাইটোসিস কোষ বিভাজন: প্রতিটি ধাপ চোখের সামনে

যে কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমান সংখ্যক ক্রোমোজোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বা সমীকরণিক বিভাজন বলে। নিচের অ্যানিমেশনে ইন্টারফেজ থেকে সাইটোকাইনেসিস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ দেখো, থামাও, আর ক্রোমোজোম ও ক্রোমাটিড নিজে গুনে মিলিয়ে নাও।

ইন্টারফেজ: G₁ দশা: কোষ বড় হচ্ছে, প্রোটিন আর অঙ্গাণু তৈরি করছে। ক্রোমোজোমগুলো সুতার মতো লম্বা ক্রোমাটিন হয়ে নিউক্লিয়াসে ছড়িয়ে আছে, প্রতিটিতে একটিই ক্রোমাটিড।

সমসংস্থ জোড়া ১সমসংস্থ জোড়া ২স্পিন্ডল তন্তুএকই রঙের গাঢ় ও হালকা ক্রোমোজোম একটি সমসংস্থ জোড়া
গতি

নিয়ন্ত্রণ

যেকোনো ধাপে যাও

০ %

ক্রোমোজোম সংখ্যা

কোষের ধরন

পরিমাপ

বর্তমান দশা
ইন্টারফেজ: G₁ দশা
ক্রোমোজোম (সেন্ট্রোমিয়ার গুনে)
৪
ক্রোমাটিড
৪
DNA-র পরিমাণ
২C
অগ্রগতি
০%

সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে

  1. ▶ চাপলে কোষটি নিজে নিজে পুরো কোষচক্র ঘুরে আসবে: ইন্টারফেজ, প্রোফেজ, প্রোমেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ আর সাইটোকাইনেসিস।
  2. “আগের ধাপ” ও “পরের ধাপ” বোতাম দিয়ে এক ধাপ করে এগোও বা পেছাও; প্রতিবার অ্যানিমেশন থেমে যাবে যাতে তুমি ভালো করে দেখতে পারো।
  3. সময়রেখার স্লাইডার টেনে যেকোনো মুহূর্তে যাও। নিচের লেখায় সেই মুহূর্তে কী ঘটছে তা লেখা থাকবে।
  4. ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = ৪ থেকে ৬ করো: একই রঙের গাঢ় ও হালকা ক্রোমোজোম হলো একটি সমসংস্থ জোড়া।
  5. কোষের ধরন বদলে উদ্ভিদকোষ দেখো: সেখানে সেন্ট্রিওল নেই, আর শেষে খাঁজের বদলে মাঝখানে কোষপ্লেট তৈরি হয়।
  6. পরিমাপ প্যানেলে প্রতিটি দশায় ক্রোমোজোম, ক্রোমাটিড আর DNA-র পরিমাণ খাতায় লিখে নিচের টেবিলের সাথে মিলাও।

একটা কোষ থেকে কোটি কোটি কোষ: কীভাবে?

তুমি জীবন শুরু করেছিলে মাত্র একটি কোষ হিসেবে, যার নাম জাইগোট। আজ তোমার শরীরে লক্ষ কোটি কোষ। এত কোষ এলো কোথা থেকে? উত্তরটা খুব সহজ: একটা কোষ ভেঙে দুটো, দুটো থেকে চারটা, চারটা থেকে আটটা। এই ভেঙে ভাগ হওয়ার প্রক্রিয়াটাই কোষ বিভাজন।

হাত কেটে গেলে কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষত জোড়া লাগে। নতুন চামড়া কে বানায়? ক্ষতের চারপাশের কোষগুলো বারবার বিভাজিত হয়ে ফাঁকা জায়গা ভরে দেয়। চুল বড় হয়, নখ বাড়ে, গাছের মূল মাটির গভীরে যায়, সবখানেই একই কাজ চলছে।

কিন্তু এখানে একটা বড় শর্ত আছে। নতুন কোষটা যদি মাতৃকোষের মতো একই তথ্য না পায়, তাহলে বিপদ। চামড়ার কোষ থেকে চামড়ার কোষই হতে হবে, আর প্রতিটি কোষে সঠিক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকতে হবে। এই নিখুঁত ভাগাভাগির নামই মাইটোসিস। কোষ প্রথমে তার সব DNA-র একটা কপি বানায়, তারপর দুই কপি সমান করে দুই দিকে পাঠায়।

বইয়ে এই প্রক্রিয়ার একটা স্থির ছবি থাকে, আর আমাদের সেটা মুখস্থ করতে হয়। কিন্তু মাইটোসিস আসলে একটা চলমান নাচ, যেখানে ক্রোমোজোমগুলো জোড়া বেঁধে মাঝখানে দাঁড়ায়, তারপর হঠাৎ দুই দিকে ছুটে যায়। উপরের অ্যানিমেশন সেই নাচটাই দেখায়। চলো ধাপে ধাপে বুঝি।

কোষ বিভাজন কাকে বলে ও কত প্রকার

যে প্রক্রিয়ায় একটি জীবকোষ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকে কোষ বিভাজন বলে। যে কোষটি ভাগ হয় তাকে মাতৃকোষ, আর যে কোষগুলো তৈরি হয় সেগুলোকে অপত্য কোষ বলে।

বিজ্ঞানী রুডলফ ভিরশো ১৮৫৫ সালে বলেছিলেন, প্রতিটি কোষ আগে থেকে থাকা কোনো কোষ থেকেই আসে। আর ১৮৮২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ওয়াল্টার ফ্লেমিং সালামান্ডারের কোষে বিভাজন পর্যবেক্ষণ করে এর নাম দেন মাইটোসিস। গ্রিক শব্দ মাইটোস মানে সুতা, কারণ বিভাজনের শুরুতে ক্রোমোজোমগুলো সুতার মতো দেখায়।

জীবকোষে তিন ধরনের বিভাজন দেখা যায়। পরীক্ষায় “কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী” প্রশ্নের উত্তর এটাই:

  • অ্যামাইটোসিস (প্রত্যক্ষ বা সরাসরি বিভাজন): নিউক্লিয়াস সরাসরি মাঝখান থেকে চাপা খেয়ে দুই ভাগ হয়, তারপর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়। কোনো স্পিন্ডল তৈরি হয় না, ক্রোমোজোম আলাদা করে দেখা যায় না। অ্যামিবা, ইস্টের মতো সরল এককোষী জীবে এমন বিভাজন দেখা যায়।
  • মাইটোসিস (সমীকরণিক বিভাজন): নিউক্লিয়াস একবার ভাগ হয়, অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। দেহকোষে এটি ঘটে, তাই একে দেহকোষ বিভাজনও বলা যায়।
  • মিয়োসিস (হ্রাসমূলক বিভাজন): নিউক্লিয়াস পরপর দুবার ভাগ হয়, কিন্তু ক্রোমোজোম একবারই অনুলিপি হয়। ফলে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়, প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক। জনন মাতৃকোষে গ্যামেট তৈরির সময় এটি ঘটে।
বৈশিষ্ট্যঅ্যামাইটোসিসমাইটোসিসমিয়োসিস
নিউক্লিয়াস কয়বার ভাগ হয়একবার, সরাসরিএকবারদুবার
স্পিন্ডল তৈরি হয় কিনাহ্যাঁহ্যাঁ
অপত্য কোষের সংখ্যা২টি২টি৪টি
ক্রোমোজোম সংখ্যানিয়ন্ত্রিত নয়মাতৃকোষের সমান (2n → 2n)অর্ধেক (2n → n)
কোথায় ঘটেসরল এককোষী জীবদেহকোষ, ভাজক টিস্যুজনন মাতৃকোষ

কোষচক্র: বিভাজনের আগের দীর্ঘ প্রস্তুতি

একটি কোষ জন্ম নেওয়া থেকে আবার বিভাজিত হয়ে দুটি কোষ তৈরি করা পর্যন্ত যে ঘটনাচক্র, তাকে কোষচক্র বলে। কোষচক্রের দুটি বড় অংশ: ইন্টারফেজ আর M দশা (মাইটোটিক দশা)। মজার ব্যাপার হলো, কোষ তার জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটায় ইন্টারফেজে। মানুষের অনেক কোষের পুরো চক্র প্রায় ২৪ ঘণ্টা, তার মধ্যে আসল বিভাজন চলে মাত্র এক ঘণ্টার মতো।

আগে ইন্টারফেজকে “বিশ্রাম দশা” বলা হতো, কারণ অণুবীক্ষণে তখন ক্রোমোজোম দেখা যায় না। কিন্তু এটা মোটেও বিশ্রাম না। পরীক্ষার আগের রাতের মতো, এই সময় কোষ সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। ইন্টারফেজের তিনটি উপদশা আছে:

G₁ দশা (প্রথম বৃদ্ধি দশা)

সদ্য জন্ম নেওয়া কোষ আকারে বাড়ে, প্রোটিন, RNA আর নানা অঙ্গাণু তৈরি করে। এই সময় প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটিই ক্রোমাটিড, আর DNA-র পরিমাণকে আমরা 2C ধরি। অ্যানিমেশনের শুরুতে লম্বা পাতলা সুতাগুলো লক্ষ করো, প্রতিটি একা।

S দশা (সংশ্লেষণ দশা)

S মানে synthesis। এই দশায় DNA অনুলিপন হয়: প্রতিটি DNA অণু হুবহু আরেকটি কপি তৈরি করে। ফলে প্রতিটি ক্রোমোজোমে দুটি একই রকম সিস্টার ক্রোমাটিড হয়, যারা সেন্ট্রোমিয়ারে জোড়া থাকে। DNA দ্বিগুণ হয়ে 2C থেকে 4C হয়, কিন্তু ক্রোমোজোম সংখ্যা বদলায় না, কারণ সেন্ট্রোমিয়ার তখনো একটিই।

G₂ দশা (দ্বিতীয় বৃদ্ধি দশা)

কোষ বিভাজনের জন্য দরকারি প্রোটিন (যেমন স্পিন্ডলের টিউবুলিন) তৈরি করে, শক্তি জমায়। প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল জোড়াও দুই জোড়া হয়ে যায়। অ্যানিমেশনে নিউক্লিয়াসের উপরে কমলা রঙের ছোট দণ্ড দুটি জোড়ায় ভাগ হতে দেখবে।

G₀ দশা: যারা আর ভাগ হয় না

কিছু কোষ G₁ থেকে বেরিয়ে একটা স্থির অবস্থায় চলে যায়, যাকে G₀ বলে। স্নায়ুকোষ আর হৃৎপেশির কোষ বেশির ভাগই এই অবস্থায় থাকে, তাই এরা নষ্ট হলে সহজে নতুন করে তৈরি হয় না। আবার যকৃতের কোষ দরকার হলে G₀ থেকে ফিরে এসে বিভাজিত হতে পারে।

মাইটোসিসের ধাপসমূহ: প্রতিটি ধাপ বিস্তারিত

মাইটোসিসকে দুই ভাগে পড়া হয়। প্রথমে নিউক্লিয়াসের বিভাজন, যাকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে; তারপর সাইটোপ্লাজমের বিভাজন, যাকে সাইটোকাইনেসিস বলে। ক্যারিওকাইনেসিসের পাঁচটি ধাপ: প্রোফেজ, প্রোমেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ আর টেলোফেজ। ধাপগুলো আসলে একটা আরেকটার সাথে মিশে চলে, আমরা বোঝার সুবিধার জন্য ভাগ করি। প্রতিটি ধাপ পড়ার সময় উপরের অ্যানিমেশন সেই ধাপে থামিয়ে মিলিয়ে দেখো।

১. প্রোফেজ: ক্রোমোজোম দৃশ্যমান হয়

এটিই মাইটোসিসের সবচেয়ে দীর্ঘ ধাপ। নিউক্লিয়াসের ভেতরের লম্বা ক্রোমাটিন সুতাগুলো পানি হারিয়ে কুণ্ডলী পাকাতে থাকে, ফলে ক্রোমোজোম খাটো ও মোটা হয়ে অণুবীক্ষণে দেখা যায়। প্রতিটি ক্রোমোজোমে দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড স্পষ্ট হয়, সেন্ট্রোমিয়ারে তারা জোড়া।

নিউক্লিওলাস ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওলের দুই জোড়া কোষের দুই মেরুর দিকে সরে যায়, আর তাদের চারদিকে তারার মতো অ্যাস্টার রশ্মি তৈরি হয়। দুই মেরুর মাঝে প্রোটিনের সূক্ষ্ম তন্তু দিয়ে তৈরি হতে থাকে স্পিন্ডল যন্ত্র।

২. প্রোমেটাফেজ: পর্দা ভাঙে, তন্তু আটকায়

নিউক্লিয়ার পর্দা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যায়, ফলে ক্রোমোজোমগুলো সরাসরি সাইটোপ্লাজমে চলে আসে। স্পিন্ডল তন্তু প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের কাইনেটোকোর নামের জায়গায় আটকে যায়। একটি ক্রোমোজোমের দুই সিস্টার ক্রোমাটিড দুই বিপরীত মেরুর তন্তুর সাথে যুক্ত হয়। তারপর টানাটানি করে ক্রোমোজোমগুলো কোষের মাঝখানের দিকে সরতে থাকে।

৩. মেটাফেজ: মাঝখানে এক সারিতে

সব ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার কোষের ঠিক মাঝখানে, বিষুবীয় প্লেটে এক সারিতে সাজানো থাকে। দুই দিকের তন্তুর টান সমান, তাই ক্রোমোজোমগুলো স্থির। এই সময় ক্রোমোজোম সবচেয়ে বেশি ঘন ও স্পষ্ট থাকে, তাই ক্রোমোজোম গোনা আর তাদের আকৃতি দেখার জন্য মেটাফেজই সবচেয়ে ভালো ধাপ। ক্যারিওটাইপ তৈরির জন্য বিজ্ঞানীরা কোষকে এই ধাপেই আটকে দেন।

৪. অ্যানাফেজ: দুই দিকে ছোটা

প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার লম্বালম্বি দুই ভাগ হয়। ফলে সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো আলাদা হয়ে যায়, আর এখন থেকে প্রতিটিকে একটি স্বাধীন অপত্য ক্রোমোজোম বলা হয়। স্পিন্ডল তন্তু ছোট হতে থাকে আর অপত্য ক্রোমোজোমগুলোকে বিপরীত মেরুর দিকে টেনে নেয়।

চলার সময় সেন্ট্রোমিয়ার থাকে সামনে, বাহু দুটি পেছনে ঝুলে থাকে। তাই ক্রোমোজোমগুলোকে V, J বা I আকৃতির দেখায়। অ্যানিমেশনে দেখো, প্রতিটি ক্রোমাটিড মেরুর দিকে সূচালো মাথা করে ছুটছে। অ্যানাফেজ মাইটোসিসের সবচেয়ে ছোট ধাপ।

৫. টেলোফেজ: দুটি নতুন নিউক্লিয়াস

অপত্য ক্রোমোজোমগুলো দুই মেরুতে পৌঁছে যায়। এবার প্রোফেজের উল্টো ঘটনা ঘটে: ক্রোমোজোমের কুণ্ডলী খুলে আবার লম্বা সুতার মতো ক্রোমাটিন হয়, প্রতিটি মেরুতে নতুন নিউক্লিয়ার পর্দা আর নিউক্লিওলাস তৈরি হয়, স্পিন্ডল মিলিয়ে যায়। ফলে একটি কোষে দুটি নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। এখানে ক্যারিওকাইনেসিস শেষ।

৬. সাইটোকাইনেসিস: কোষ দুই ভাগ

প্রাণিকোষে কোষের মাঝ বরাবর কোষঝিল্লিতে একটি খাঁজ তৈরি হয়, যা বাইরে থেকে ভেতরের দিকে গভীর হতে থাকে এবং শেষে কোষটিকে দুই ভাগ করে ফেলে। উদ্ভিদকোষের শক্ত কোষপ্রাচীর থাকায় এভাবে চাপা যায় না, তাই মাঝখানে গলজি বস্তুর ছোট ছোট থলি জমে কোষপ্লেট তৈরি হয়, যা ভেতর থেকে বাইরের দিকে বাড়তে বাড়তে দুই পাশের প্রাচীরে গিয়ে মেশে।

এভাবে একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ হয়, যাদের ক্রোমোজোম সংখ্যা আর জিনগত তথ্য হুবহু মাতৃকোষের মতো।

ক্রোমোজোম আর ক্রোমাটিড গোনার নিয়ম

মাইটোসিসের অঙ্কে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় গোনায়। নিয়মটা একটাই: ক্রোমোজোম গোনো সেন্ট্রোমিয়ার গুনে। যতগুলো সেন্ট্রোমিয়ার, ততগুলো ক্রোমোজোম। একটা ক্রোমোজোমে দুটি ক্রোমাটিড থাকলেও সেটা একটাই ক্রোমোজোম, কারণ সেন্ট্রোমিয়ার একটি।

নিচের টেবিল অ্যানিমেশনের নিজের মান 2n = ৪ দিয়ে হিসাব করা। অ্যানিমেশন চালিয়ে পরিমাপ প্যানেলের সংখ্যাগুলো এই টেবিলের সাথে মিলিয়ে দেখো।

ক্রোমোজোম সংখ্যা = সেন্ট্রোমিয়ার সংখ্যাসব দশায় এই নিয়ম

S দশার পরে: ক্রোমাটিড = 2 × ক্রোমোজোমঅ্যানাফেজের আগ পর্যন্ত

অ্যানাফেজে: ক্রোমোজোম = ক্রোমাটিড = 4nপুরো কোষে, সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হওয়ার পর

দশাক্রোমোজোমক্রোমাটিডDNA
G₁ দশা৪৪২C
G₂ দশা৪৮৪C
প্রোফেজ৪৮৪C
মেটাফেজ৪৮৪C
অ্যানাফেজ৮৮৪C
টেলোফেজ (পুরো কোষে)৮৮৪C
প্রতিটি অপত্য কোষ৪৪২C

মানুষের কোষে হিসাব (2n = ৪৬)

মানুষের দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। একই নিয়ম বসিয়ে প্রতিটি দশার হিসাব নিচে। পরীক্ষায় প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হয় “মানুষের কোষের মেটাফেজে কয়টি ক্রোমাটিড থাকে?” উত্তর ৯২, কিন্তু ক্রোমোজোম তখনো ৪৬।

দশাক্রোমোজোমক্রোমাটিডDNA
G₁ দশা৪৬৪৬২C
G₂ দশা৪৬৯২৪C
প্রোফেজ৪৬৯২৪C
মেটাফেজ৪৬৯২৪C
অ্যানাফেজ৯২৯২৪C
টেলোফেজ (পুরো কোষে)৯২৯২৪C
প্রতিটি অপত্য কোষ৪৬৪৬২C

উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের মাইটোসিসের পার্থক্য

মূল ধাপগুলো একই, কিন্তু উদ্ভিদকোষের শক্ত প্রাচীর আর সেন্ট্রিওল না থাকার কারণে কয়েকটা জায়গায় পার্থক্য হয়। অ্যানিমেশনে কোষের ধরন বদলে পার্থক্যগুলো নিজে দেখো।

বিষয়প্রাণিকোষউদ্ভিদকোষ
সেন্ট্রিওলথাকে, দুই মেরুতে যায়সাধারণত থাকে না
অ্যাস্টার রশ্মিতৈরি হয় (অ্যাস্ট্রাল স্পিন্ডল)তৈরি হয় না (অ্যানাস্ট্রাল স্পিন্ডল)
সাইটোকাইনেসিসখাঁজ তৈরি হয়ে, বাইরে থেকে ভেতরেকোষপ্লেট তৈরি হয়ে, ভেতর থেকে বাইরে
কোথায় বেশি ঘটেদেহের প্রায় সব দেহকোষেভাজক টিস্যুতে: মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ, ক্যাম্বিয়াম

মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য

এই দুটোর তুলনা SSC আর HSC দুই পরীক্ষাতেই প্রায় নিশ্চিত প্রশ্ন। টেবিলটা বুঝে পড়লে মুখস্থ করতে হবে না।

বিষয়মাইটোসিসমিয়োসিস
কোথায় ঘটেদেহকোষেজনন মাতৃকোষে
নিউক্লিয়াস কয়বার ভাগ হয়একবারদুবার (মিয়োসিস-১ ও মিয়োসিস-২)
অপত্য কোষ২টি৪টি
ক্রোমোজোম সংখ্যাঅপরিবর্তিত (2n → 2n)অর্ধেক (2n → n)
সমসংস্থ ক্রোমোজোমের জোড় বাঁধাহয় নাহয় (সিন্যাপসিস)
ক্রসিং ওভারহয় নাহয়, ফলে নতুন বৈচিত্র্য আসে
অপত্য কোষ মাতৃকোষের মতো কিহুবহু একইভিন্ন
কাজবৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, অযৌন জননগ্যামেট তৈরি, প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা ঠিক রাখা

মাইটোসিসের গুরুত্ব

মাইটোসিস না থাকলে বহুকোষী জীবের অস্তিত্বই থাকত না। এর প্রধান গুরুত্বগুলো মনে রাখো, “মাইটোসিসের গুরুত্ব লেখো” প্রশ্নে এগুলোই লিখতে হয়:

  • বৃদ্ধি: জাইগোট থেকে পূর্ণাঙ্গ দেহ তৈরি হয় বারবার মাইটোসিসের মাধ্যমে। গাছের দৈর্ঘ্য ও বেড় বাড়ে ভাজক টিস্যুর মাইটোসিসে।
  • ক্ষয়পূরণ ও ক্ষত নিরাময়: প্রতিদিন আমাদের চামড়া, অন্ত্রের আবরণ আর রক্তকোষের লাখো কোষ মারা যায়, মাইটোসিস তাদের জায়গা পূরণ করে।
  • ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখা: প্রতিটি দেহকোষে একই সংখ্যক ক্রোমোজোম আর একই জিন থাকে, ফলে সব কোষ একই নির্দেশনা মেনে চলে।
  • অযৌন ও অঙ্গজ জনন: অ্যামিবা, ইস্ট থেকে শুরু করে কলম, কাটিং বা টিস্যু কালচারে গাছ তৈরি সবই মাইটোসিসের উপর নির্ভরশীল।
  • নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য: কোষ বেশি বড় হয়ে গেলে নিউক্লিয়াস পুরো কোষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; বিভাজন সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

সিমুলেশনে নিজে করে দেখো

পড়ার চেয়ে নিজে দেখা অনেক বেশি মনে থাকে। এই পাঁচটা ছোট পরীক্ষা করো:

  • S দশায় থামাও: দেখো প্রতিটি সুতার পাশে একটি হালকা কপি তৈরি হচ্ছে। পরিমাপে ক্রোমোজোম সংখ্যা একই, কিন্তু ক্রোমাটিড দ্বিগুণ হচ্ছে।
  • প্রোফেজের শুরু আর শেষ তুলনা করো: একই ক্রোমোজোম লম্বা সুতা থেকে খাটো মোটা দণ্ড হয়ে গেল, আর নিউক্লিয়ার পর্দা ড্যাশ দাগ হয়ে ভাঙতে শুরু করল।
  • মেটাফেজে থামিয়ে সেন্ট্রোমিয়ারের কালো বিন্দু গোনো। 2n = ৬ করলে ছয়টি বিন্দু পাবে, ক্রোমাটিড বারোটি।
  • অ্যানাফেজের ঠিক শুরুতে থামাও আর এক ধাপ এগোও: সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হওয়া মাত্র পরিমাপে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
  • উদ্ভিদকোষ বেছে সাইটোকাইনেসিস দেখো: খাঁজ নেই, মাঝখান থেকে কোষপ্লেট উপরে-নিচে বাড়ছে।

গাণিতিক উদাহরণ: ধাপে ধাপে সমাধান

সৃজনশীল প্রশ্নের প্রয়োগ আর উচ্চতর দক্ষতা অংশে মাইটোসিসের হিসাব আসে। নিচের সমাধানগুলো নিজে খাতায় করে দেখো।

উদাহরণ ১: কয়বার বিভাজনে কয়টি কোষ

একটি কোষ মাইটোসিসে ভাগ হলে ২টি কোষ হয়, প্রতিবার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। তাই n বার বিভাজনের পর কোষ সংখ্যা = 2ⁿ। একটি কোষ ৫ বার বিভাজিত হলে কোষ হবে 2^৫ = ৩২টি। ১০ বার হলে ১,০২৪টি।

যদি শুরুতে ৩টি কোষ থাকে আর প্রতিটি ৪ বার বিভাজিত হয়, তাহলে কোষ = ৩ × 2^৪ = ৩ × ১৬ = ৪৮টি।

N = N₀ × 2ⁿN₀ = শুরুর কোষ, n = বিভাজনের সংখ্যা

উদাহরণ ২: দশ লক্ষ কোষ পেতে কতবার

একটি কোষ থেকে অন্তত ১০,০০,০০০টি কোষ পেতে কতবার বিভাজন লাগবে? 2^১৯ = ৫,২৪,২৮৮, যা এখনো কম। 2^২০ = ১০,৪৮,৫৭৬, যা লক্ষ্য পার হয়ে গেছে। তাই কমপক্ষে ২০ বার বিভাজন লাগবে। মাত্র কুড়ির মতো ধাপে দশ লক্ষ, দ্বিগুণ হওয়ার ক্ষমতা এমনই।

উদাহরণ ৩: পেঁয়াজের কোষে ক্রোমোজোম গোনা

পেঁয়াজের মূলের কোষে 2n = ১৬। মেটাফেজে ক্রোমোজোম ১৬টি (সেন্ট্রোমিয়ার ১৬টি), ক্রোমাটিড ৩২টি। অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হয়, তাই পুরো কোষে ক্রোমোজোম ৩২টি, ক্রোমাটিডও ৩২টি। সাইটোকাইনেসিসের পরে প্রতিটি অপত্য কোষে আবার ১৬টি ক্রোমোজোম।

উদাহরণ ৪: ড্রসোফিলা মাছির কোষ

ফলের মাছি ড্রসোফিলার দেহকোষে 2n = ৮। G₂ দশায় ক্রোমোজোম ৮টি, ক্রোমাটিড ১৬টি। অ্যানাফেজে ক্রোমোজোম ১৬টি। প্রশ্নে “কোষে কয়টি ক্রোমাটিড” আর “কয়টি ক্রোমোজোম” দুটো আলাদা করে পড়বে।

উদাহরণ ৫: কোষচক্রের কোন অংশে কত সময়

ধরো একটি কোষচক্র ২৪ ঘণ্টার, যার ৯৫% সময় ইন্টারফেজ। তাহলে ইন্টারফেজ = ২৪ × ৯৫/১০০ = ২২.৮ ঘণ্টা। M দশা বাকি ৫%, অর্থাৎ ১.২ ঘণ্টা বা ৭২ মিনিট।

M দশার ৪০% সময় যদি প্রোফেজে যায়, তাহলে প্রোফেজ = ৭২ × ৪০/১০০ = ২৮.৮ মিনিট। এজন্যই অণুবীক্ষণে বেশির ভাগ কোষ ইন্টারফেজে, আর বিভাজনরত কোষের মধ্যে প্রোফেজেই বেশি দেখা যায়।

উদাহরণ ৬: মাইটোটিক ইনডেক্স

পেঁয়াজের মূলের একটি স্লাইডে ৪৮০টি কোষ গুনে ৩৬টিকে বিভাজনরত পাওয়া গেল। মাইটোটিক ইনডেক্স = বিভাজনরত কোষ ÷ মোট কোষ × ১০০ = ৩৬ ÷ ৪৮০ × ১০০ = ৭.৫%।

কোষচক্র ২০ ঘণ্টার হলে, মাইটোসিসে আনুমানিক সময় = ২০ × ৭.৫/১০০ = ১.৫ ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রায় ৯০ মিনিট।

মাইটোটিক ইনডেক্স = (বিভাজনরত কোষ ÷ মোট কোষ) × 100

উদাহরণ ৭: DNA-র পরিমাণ

একটি কোষের G₁ দশায় DNA ৬ পিকোগ্রাম হলে S দশার পরে (G₂, প্রোফেজ, মেটাফেজ) DNA হবে ১২ পিকোগ্রাম। অ্যানাফেজ আর টেলোফেজেও পুরো কোষে ১২, কারণ তখনো কোষ ভাগ হয়নি। সাইটোকাইনেসিসের পরে প্রতিটি অপত্য কোষে আবার ৬ পিকোগ্রাম।

ব্যবহারিক: পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগে মাইটোসিস দেখা

স্কুল আর কলেজের ব্যবহারিক পরীক্ষায় এটি খুব পরিচিত। পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগ একটি ভাজক টিস্যু, সেখানে কোষ অনবরত বিভাজিত হয়। তাই একটি স্লাইডেই মাইটোসিসের সব ধাপ পাওয়া যায়।

  • একটি পেঁয়াজ পানিভর্তি গ্লাসের মুখে বসিয়ে কয়েক দিন রাখো, নিচে সাদা মূল গজাবে।
  • মূলের একদম আগার ১–২ মিলিমিটার কেটে নাও, কারণ বিভাজন সেখানেই সবচেয়ে বেশি।
  • মূলের টুকরো হালকা হাইড্রোক্লোরিক এসিডে কিছুক্ষণ রাখো, যাতে কোষগুলো আলগা হয়।
  • অ্যাসিটোকারমিন বা অ্যাসিটো-অরসিন রঞ্জকে রাঙাও, ক্রোমোজোম গাঢ় রঙ নেবে।
  • স্লাইডে রেখে কভারস্লিপ দিয়ে আলতো চাপ দাও (স্কোয়াশ), তারপর অণুবীক্ষণে দেখো।
  • ইন্টারফেজ, প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ আর টেলোফেজের কোষ খুঁজে চিত্র আঁকো এবং গুনে মাইটোটিক ইনডেক্স বের করো।

যে ভুলগুলো সবাই করে

এই ভুলগুলো এড়ালেই মাইটোসিসের প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ।

  • S দশায় ক্রোমোজোম দ্বিগুণ হয়, এটা ভুল। দ্বিগুণ হয় DNA আর ক্রোমাটিড; সেন্ট্রোমিয়ার একটিই, তাই ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে।
  • মেটাফেজে ক্রোমোজোম 4n লেখা ভুল। মেটাফেজে ক্রোমোজোম 2n, ক্রোমাটিড 4n। ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয় অ্যানাফেজে।
  • ইন্টারফেজকে বিশ্রাম দশা বলে “কিছুই হয় না” ভাবা ভুল; এটি সবচেয়ে কর্মব্যস্ত দশা, DNA অনুলিপন এখানেই হয়।
  • মাইটোসিস শুধু দেহকোষে হয়, কিন্তু “শুধু দ্বিপ্লয়েড কোষে” বলা ভুল; কিছু হ্যাপ্লয়েড কোষও মাইটোসিসে ভাগ হয়।
  • চিত্রে মেটাফেজে ক্রোমোজোম এলোমেলো আঁকা ভুল; সেন্ট্রোমিয়ারগুলো অবশ্যই মাঝখানের এক সরলরেখায় থাকবে।
  • উদ্ভিদকোষেও খাঁজ দিয়ে সাইটোকাইনেসিস দেখানো ভুল; উদ্ভিদে কোষপ্লেট হয়।

বাস্তব জীবনে মাইটোসিস

ক্যান্সার আসলে নিয়ন্ত্রণ হারানো মাইটোসিস। স্বাভাবিক কোষ জানে কখন থামতে হবে, কিন্তু কিছু জিনে পরিবর্তন হলে কোষ থামার সংকেত মানে না, অবিরাম বিভাজিত হয়ে টিউমার তৈরি করে। অনেক ক্যান্সারের ওষুধ তাই স্পিন্ডল তৈরি বা DNA অনুলিপন আটকে দ্রুত বিভাজিত কোষকে থামায়। এ কারণেই কেমোথেরাপিতে চুল পড়ে যায়, কারণ চুলের গোড়ার কোষও দ্রুত বিভাজিত হয়।

কলচিসিন নামের একটি রাসায়নিক স্পিন্ডল তৈরি হতে দেয় না, ফলে কোষ মেটাফেজে আটকে থাকে। বিজ্ঞানীরা এভাবে মেটাফেজের ক্রোমোজোমের ছবি তুলে ক্যারিওটাইপ বানান, যা দিয়ে ডাউন সিনড্রোমের মতো ক্রোমোজোমজনিত রোগ শনাক্ত করা যায়।

টিস্যু কালচারে একটি ছোট্ট উদ্ভিদাংশ থেকে হাজার হাজার একই রকম চারা তৈরি হয়, কারণ মাইটোসিসে তৈরি কোষ জিনগতভাবে হুবহু একই। বাংলাদেশে কলা, আলু আর অর্কিডের চারা এভাবেই তৈরি হয়। স্টেম কোষ গবেষণা, পোড়া রোগীর জন্য চামড়া তৈরি, সবখানেই মাইটোসিস কাজ করে।

পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC

SSC জীববিজ্ঞানে কোষ বিভাজন অধ্যায় থেকে সৃজনশীল প্রশ্নে সাধারণত একটি চিত্র দেওয়া থাকে, আর জিজ্ঞেস করা হয় চিত্রের ধাপটি কোনটি, সেই ধাপের বৈশিষ্ট্য কী, আর মাইটোসিসের গুরুত্ব কী। HSC জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রে কোষচক্র, মিয়োসিসের সাথে তুলনা আর ক্রসিং ওভার পর্যন্ত আরও গভীরে প্রশ্ন আসে।

  • জ্ঞানমূলক: মাইটোসিস কাকে বলে? ক্যারিওকাইনেসিস কী? কাইনেটোকোর কী? কোষচক্র কাকে বলে?
  • অনুধাবনমূলক: মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন? মেটাফেজে ক্রোমোজোম গোনা সহজ কেন? ইন্টারফেজকে বিশ্রাম দশা বলা যৌক্তিক নয় কেন?
  • প্রয়োগ: চিত্রের কোষটিতে ক্রোমোজোম ও ক্রোমাটিড সংখ্যা নির্ণয় করো; নির্দিষ্ট বিভাজনের পর কোষ সংখ্যা বের করো।
  • উচ্চতর দক্ষতা: মাইটোসিস না ঘটলে জীবের কী সমস্যা হতো বিশ্লেষণ করো; উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের বিভাজনের পার্থক্য মূল্যায়ন করো।
  • চিত্র আঁকার সময় মেটাফেজ আর অ্যানাফেজে স্পিন্ডল তন্তু, সেন্ট্রোমিয়ার আর মেরু অবশ্যই চিহ্নিত করবে।

এক নজরে রিভিশন

পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই অংশটা পড়লেই মূল কথাগুলো মনে পড়বে।

  • মাইটোসিস = সমীকরণিক বিভাজন: ১টি মাতৃকোষ → ২টি হুবহু অপত্য কোষ, ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত।
  • কোষচক্র = ইন্টারফেজ (G₁ → S → G₂) + M দশা; DNA অনুলিপন হয় S দশায়।
  • ক্যারিওকাইনেসিস: প্রোফেজ → প্রোমেটাফেজ → মেটাফেজ → অ্যানাফেজ → টেলোফেজ; তারপর সাইটোকাইনেসিস।
  • প্রোফেজ সবচেয়ে দীর্ঘ, অ্যানাফেজ সবচেয়ে ছোট; ক্রোমোজোম গোনার সেরা সময় মেটাফেজ।
  • ক্রোমোজোম গোনো সেন্ট্রোমিয়ার গুনে; অ্যানাফেজে পুরো কোষে ক্রোমোজোম দ্বিগুণ হয়।
  • প্রাণিকোষে খাঁজ, উদ্ভিদকোষে কোষপ্লেট; প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল ও অ্যাস্টার থাকে।
  • গুরুত্ব: বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, অযৌন জনন, ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখা; নিয়ন্ত্রণ হারালে ক্যান্সার।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

মাইটোসিস কাকে বলে?

যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে মাতৃকোষের সমান সংখ্যক ক্রোমোজোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে। অপত্য কোষ জিনগতভাবে মাতৃকোষের মতো হয় বলে একে সমীকরণিক বিভাজনও বলে।

কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী?

কোষ বিভাজন তিন প্রকার: অ্যামাইটোসিস (প্রত্যক্ষ বিভাজন), মাইটোসিস (সমীকরণিক বিভাজন) এবং মিয়োসিস (হ্রাসমূলক বিভাজন)। বহুকোষী জীবের দেহকোষে মাইটোসিস আর জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস ঘটে।

মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?

কারণ এই বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ও জিনগত বৈশিষ্ট্য মাতৃকোষের সমান থাকে। প্রতিটি ক্রোমোজোম আগে অনুলিপি হয়, তারপর দুই কপি সমানভাবে দুই কোষে যায়।

মাইটোসিসের কোন ধাপ সবচেয়ে দীর্ঘ আর কোনটি সবচেয়ে ছোট?

প্রোফেজ সবচেয়ে দীর্ঘ ধাপ, কারণ এই সময়ে ক্রোমোজোম ঘনীভবন, নিউক্লিওলাস বিলুপ্তি আর স্পিন্ডল তৈরির মতো অনেক কাজ হয়। অ্যানাফেজ সবচেয়ে ছোট ধাপ।

কোষ বিভাজনের কোন ধাপে ক্রোমোজোম সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়?

মেটাফেজে। এই সময় ক্রোমোজোম সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত থাকে আর সব সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় প্লেটে এক সারিতে সাজানো থাকে, তাই ক্রোমোজোম গোনা ও এর আকৃতি বোঝা সহজ।

মাইটোসিস কে আবিষ্কার করেন?

জার্মান বিজ্ঞানী ওয়াল্টার ফ্লেমিং ১৮৮২ সালে সালামান্ডারের কোষে বিভাজন পর্যবেক্ষণ করে এর নাম দেন মাইটোসিস। তার আগে রুডলফ ভিরশো ১৮৫৫ সালে বলেছিলেন, প্রতিটি কোষ পূর্ববর্তী কোষ থেকে সৃষ্টি হয়।

অ্যানাফেজে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয় কেন?

অ্যানাফেজে প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার দুই ভাগ হয়, তাই প্রতিটি ক্রোমাটিড নিজস্ব সেন্ট্রোমিয়ারসহ স্বাধীন ক্রোমোজোম হয়ে যায়। ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার দিয়ে গোনা হয়, ফলে কোষ ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো কোষে সংখ্যা দ্বিগুণ দেখায়।

উদ্ভিদকোষে সাইটোকাইনেসিস কীভাবে হয়?

উদ্ভিদকোষে শক্ত কোষপ্রাচীর থাকায় খাঁজ তৈরি হয় না। মাঝখানে গলজি বস্তুর থলি জমে কোষপ্লেট তৈরি হয়, যা ভেতর থেকে বাইরের দিকে বেড়ে দুই পাশের প্রাচীরে মেশে এবং দুটি কোষ আলাদা করে।

ইন্টারফেজকে বিশ্রাম দশা বলা হয় কেন, আর এটা কি সঠিক?

অণুবীক্ষণে তখন ক্রোমোজোম দেখা যায় না বলে আগে একে বিশ্রাম দশা বলা হতো। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ এই সময়েই কোষ বৃদ্ধি পায়, প্রোটিন তৈরি করে আর DNA অনুলিপন করে।

এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা

অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।

আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন

SSC · HSC

ব্যাপন ও অভিস্রবণ

ব্যাপন ও অভিস্রবণ কাকে বলে, এদের মধ্যে পার্থক্য, প্লাজমোলাইসিস, রসস্ফীতি ও ইমবাইবিশন: কণার সিমুলেশনে নিজে দেখে সহজ ভাষায় শেখো, উদাহরণ ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

সালোকসংশ্লেষণ

সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।

SSC · HSC

মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, লাব-ডাব শব্দ আর চলমান ইসিজি একসাথে দেখো। দ্বিচক্রী সংবহন, হৃৎচক্র ও কার্ডিয়াক আউটপুট শেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র

মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।

HSC

ডিএনএ রেপ্লিকেশন

ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।

SSC · HSC

কোষীয় শ্বসন

কোষীয় শ্বসন কাকে বলে, সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য, গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব: মাইটোকন্ড্রিয়ার অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও গণনা করো।

SSC · HSC

এনজাইম ক্রিয়া

এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।

SSC · HSC

স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল

প্রান্তিক মাত্রা (−৫৫ mV) পার হলেই অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়ে অ্যাক্সন বেয়ে ছোটে, তারপর সিন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয় — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া

বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে মাত্র দেড় লিটার মূত্র তৈরি করে কীভাবে? গ্লোমেরুলাসে ছাঁকন, নালিকায় পুনঃশোষণ আর গ্লুকোজের প্রান্তিক মাত্রা — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

মিয়োসিস কোষ বিভাজন

মিয়োসিস কাকে বলে, ক্রসিং ওভার কী, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য কী: 2n = 4 কোষে প্রোফেজ I থেকে টেলোফেজ II পর্যন্ত নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

SSC

পরিপাকতন্ত্র

পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।

অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন

পদার্থবিজ্ঞান

আলোর প্রতিসরণ

পদার্থবিজ্ঞান

ওহমের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

প্রাসের গতি

পদার্থবিজ্ঞান

সরল দোলক

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎ ক্ষেত্র

পদার্থবিজ্ঞান

তরঙ্গের ব্যতিচার

পদার্থবিজ্ঞান

পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

নিউটনের গতির সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন

পদার্থবিজ্ঞান

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র

পদার্থবিজ্ঞান

ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ

পদার্থবিজ্ঞান

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

পদার্থবিজ্ঞান

নততল

রসায়ন

পরমাণুর গঠন

রসায়ন

এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল

রসায়ন

ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন

গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ

রসায়ন

আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়

রসায়ন

তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র

রসায়ন

সমযোজী বন্ধন

রসায়ন

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

গণিত

পিথাগোরাসের উপপাদ্য

গণিত

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত

গণিত

দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র

গণিত

বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য

গণিত

দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ

গণিত

সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা

গণিত

সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা

গণিত

গড়, মধ্যক ও প্রচুরক