মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

আধানের চারপাশের অদৃশ্য তড়িৎ ক্ষেত্র দেখো

কোনো আধানের চারপাশে যে অঞ্চলজুড়ে অন্য একটি আধান আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল অনুভব করে, তাকে ওই আধানের তড়িৎ ক্ষেত্র বলে। ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান যে বল অনুভব করে, তা-ই ওই বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা বা প্রাবল্য, E = kq/r²। নিচে আধান টেনে সরাও, বলরেখা সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাবে।

আধান টেনে সরাও · দুবার ক্লিকে মুছে ফেলো · মাউস রাখলে সেই বিন্দুর E দেখাবে

বলরেখাধনাত্মক আধানঋণাত্মক আধানপরীক্ষণ আধান (+১ nC)
গতি

নিয়ন্ত্রণ

আধানের বিন্যাস

২.০ µC

আধানের প্রকৃতি

পরিমাপ

নির্দিষ্ট বিন্দুতে তীব্রতা, E
৪.৪৬ × 10⁶N/C
E-এর দিক (+x থেকে)
৫০°
ওই বিন্দুর বিভব, V
২.৩২ × 10⁵V
নিকটতম আধানের দূরত্ব, r
৬.৪cm
পরীক্ষণ আধানের উপর বল, F
৪.৪৬ × 10⁻³N
মোট আধান
০.০µC

সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে

  1. “আধানের বিন্যাস” থেকে একক আধান, ডাইপোল, দুটি সমধর্মী আধান বা চারটি আধান বেছে নাও।
  2. যেকোনো আধান টেনে সরাও — বলরেখাগুলো সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আঁকা হবে। দুবার ক্লিক করলে আধানটি মুছে যাবে।
  3. কোনো আধানে ক্লিক করে নির্বাচন করো, তারপর স্লাইডারে তার মান বাড়াও-কমাও — দেখবে বলরেখার সংখ্যাও বদলায়।
  4. মাউস বা আঙুল যেকোনো বিন্দুতে রাখো: সেখানকার E-এর মান, দিক আর বিভব V পরিমাপ প্যানেলে ভেসে উঠবে।
  5. ▶ চাপলে কমলা রঙের পরীক্ষণ আধান (+১ nC) ছাড়া পায় — দেখো সেটি বলরেখা ধরে কোন দিকে ছুটে যায়।

চুলে ঘষা স্কেল কেন কাগজ টানে?

একটা প্লাস্টিকের স্কেল নিয়ে শুকনো চুলে কয়েকবার জোরে ঘষো, তারপর টেবিলের উপর রাখা ছোট ছোট কাগজের টুকরোর কাছে ধরো। স্কেলটা কাগজ ছোঁয়ার আগেই টুকরোগুলো লাফিয়ে উঠে স্কেলে লেগে যায়! মজার ব্যাপার হলো, স্কেল আর কাগজের মধ্যে কোনো সুতো নেই, কোনো ধাক্কা নেই — তবু বল কাজ করছে।

শীতকালে সোয়েটার খুলতে গিয়ে চিড়চিড় শব্দ আর ছোট্ট শক, কিংবা দরজার হাতলে হাত দিতেই হালকা ঝাঁকুনি — এগুলোও একই কাহিনি। আর কালবৈশাখীর আকাশে যে বিশাল বজ্রপাত দেখো, সেটা এর সবচেয়ে বড় রূপ: মেঘে জমা বিপুল আধান বাতাস ভেদ করে মাটিতে নেমে আসে।

এই প্রতিটি ঘটনার পেছনে আছে “আধান” আর তার চারপাশের এক অদৃশ্য প্রভাব-অঞ্চল — তড়িৎ ক্ষেত্র। এই পাতায় আমরা সেই অদৃশ্য জিনিসটাকে চোখে দেখার চেষ্টা করব, আর ধাপে ধাপে বুঝব এটা কীভাবে মাপা হয়।

একদম শুরু থেকে: আধান আর ক্ষেত্র

সব পদার্থ পরমাণু দিয়ে তৈরি, আর পরমাণুর ভেতরে আছে ধনাত্মক প্রোটন ও ঋণাত্মক ইলেকট্রন। সাধারণ অবস্থায় দুটো সমান থাকে, তাই বস্তু নিস্তড়িৎ। চুলে স্কেল ঘষলে কিছু ইলেকট্রন চুল থেকে স্কেলে চলে যায় — স্কেল হয়ে যায় ঋণাত্মক আধানযুক্ত, চুল ধনাত্মক। আধানের SI একক কুলম্ব (C)।

এখন ভাবো, পৃথিবী তোমাকে না ছুঁয়েও নিচে টানে — কারণ পৃথিবীর চারপাশে একটা মহাকর্ষ ক্ষেত্র আছে। চুম্বকের কাছে লোহার পিন নিলে সেটা ছুটে যায় — চুম্বকের চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্র আছে। ঠিক তেমনি, প্রতিটি আধান তার চারপাশের জায়গাটাকে “বদলে” দেয়। সেই জায়গায় অন্য কোনো আধান এলেই সে বল অনুভব করে।

আধানের চারপাশের এই প্রভাব-অঞ্চলকেই বলে তড়িৎ ক্ষেত্র। একটা সহজ তুলনা: কোনো বড় ভাই ক্লাসে ঢুকলে পুরো রুমের আবহাওয়া বদলে যায় — কেউ ছুঁয়ে না দেখলেও সবাই টের পায়। কাছে থাকলে প্রভাব বেশি, দূরে গেলে কম। তড়িৎ ক্ষেত্রও ঠিক এমন — আধানের কাছে তীব্র, দূরে দুর্বল।

দুই ধরনের আধানের নিয়ম মাত্র একটা লাইনে মনে রাখো: সমধর্মী আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, বিপরীতধর্মী আধান আকর্ষণ করে। ধনাত্মক-ধনাত্মক দূরে সরে, ধনাত্মক-ঋণাত্মক কাছে টানে।

যে শব্দগুলো বারবার আসবে

পড়তে পড়তে যেন আটকে না যাও, তাই আগেই শব্দগুলো এক জায়গায় রাখলাম:

শব্দসহজ ভাষায় মানেপ্রতীক ও একক
আধানপদার্থের যে ধর্মের জন্য সে তড়িৎ বল অনুভব করে বা প্রয়োগ করেq, কুলম্ব (C)
কুলম্বআধানের SI একক; একটি ইলেকট্রনের আধান মাত্র ১.৬ × ১০⁻¹⁹ CC
পরীক্ষণ আধানখুব ছোট একটা ধনাত্মক আধান, যা দিয়ে ক্ষেত্র “মাপা” হয়, কিন্তু ক্ষেত্রকে নষ্ট করে নাq₀
তড়িৎ তীব্রতা বা প্রাবল্যকোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান যে বল অনুভব করেE, N C⁻¹ বা V m⁻¹
তড়িৎ বলরেখাকাল্পনিক রেখা যার প্রতিটি বিন্দুর স্পর্শক সেখানকার E-এর দিক দেখায়—
তড়িৎ বিভবঅসীম থেকে একক ধনাত্মক আধান ওই বিন্দুতে আনতে যে কাজ করতে হয়V, ভোল্ট (V)
ভেদনযোগ্যতামাধ্যম তড়িৎ বলকে কতটা “দুর্বল” করে তার পরিমাপ; শূন্যস্থানে ε₀ε₀ = ৮.৮৫ × ১০⁻¹² C² N⁻¹ m⁻²

কুলম্বের সূত্র থেকে তড়িৎ তীব্রতা

তড়িৎ ক্ষেত্রকে সংখ্যায় মাপতে হলে আগে জানতে হবে দুটি আধানের মধ্যে বল কত। এর উত্তর দেয় কুলম্বের সূত্র।

কুলম্বের সূত্র

দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল আধান দুটির গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। বলটি আধান দুটির সংযোগ-সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

“দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক” কথাটার মানে খুব গুরুত্বপূর্ণ: দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল হয়ে যায় চার ভাগের এক ভাগ, তিনগুণ করলে নয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ একটু দূরে সরলেই বল অনেক কমে যায়।

F = k·q₁q₂ / r²কুলম্বের সূত্র

k = 1/(4πε₀) ≈ 9 × 10⁹ N m² C⁻²শূন্যস্থানে কুলম্বের ধ্রুবক

তড়িৎ তীব্রতার সংজ্ঞা

ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি খুব ছোট ধনাত্মক পরীক্ষণ আধান q₀ রাখো। তার উপর যে বল F পড়বে, সেটাকে q₀ দিয়ে ভাগ করলেই পাবে ওই বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা। ভাগ কেন করছি? যাতে উত্তরটা পরীক্ষণ আধানের মাপের উপর নির্ভর না করে — শুধু ক্ষেত্রটার ধর্ম দেখায়।

কোনো বইয়ে এই রাশিকে “তড়িৎ তীব্রতা”, কোনো বইয়ে “তড়িৎ ক্ষেত্রের প্রাবল্য” বলা হয় — দুটো একই জিনিস, ঘাবড়ানোর কিছু নেই।

E = F / q₀তীব্রতার সংজ্ঞা

E = k·q / r²বিন্দু আধান q থেকে r দূরে তীব্রতা

দিক কীভাবে ঠিক করবে

তড়িৎ তীব্রতা একটি ভেক্টর রাশি — মান আর দিক দুটোই আছে। দিকটা মনে রাখার সহজ কৌশল: ধনাত্মক পরীক্ষণ আধানকে ওই বিন্দুতে বসিয়ে কল্পনা করো, সে যেদিকে ধাক্কা খাবে সেটাই E-এর দিক।

  • ধনাত্মক আধানের ক্ষেত্রে E বাইরের দিকে, আধান থেকে দূরে।
  • ঋণাত্মক আধানের ক্ষেত্রে E ভেতরের দিকে, আধানের দিকে।
  • ঋণাত্মক আধান (যেমন ইলেকট্রন) ক্ষেত্রে রাখলে সে E-এর উল্টো দিকে বল পায়।

একাধিক আধান থাকলে: উপরিপাতন

একাধিক আধান থাকলে কোনো বিন্দুতে মোট তীব্রতা পেতে প্রতিটি আধানের জন্য আলাদা করে E বের করো, তারপর ভেক্টর নিয়মে যোগ করো। একই দিকে হলে সরাসরি যোগ, উল্টো দিকে হলে বিয়োগ, কোণ থাকলে ভেক্টর যোগের সূত্র।

E⃗ = E⃗₁ + E⃗₂ + E⃗₃ + …উপরিপাতন নীতি

তড়িৎ তীব্রতার একক

E = F/q₀ থেকে একক আসে নিউটন/কুলম্ব (N C⁻¹)। আবার অন্যভাবে হিসাব করলে একই রাশির একক হয় ভোল্ট/মিটার (V m⁻¹)। দুটো সমান: ১ N C⁻¹ = ১ V m⁻¹। পরীক্ষায় যেকোনোটা লিখতে পারো।

তড়িৎ বলরেখা: অদৃশ্য ক্ষেত্রের ছবি

ক্ষেত্রটা তো চোখে দেখা যায় না। বিজ্ঞানী ফ্যারাডে তাই একটা চমৎকার কৌশল দিলেন — কাল্পনিক রেখা আঁকো, যার প্রতিটি বিন্দুতে স্পর্শক টানলে সেটা ওই বিন্দুর E-এর দিক দেখাবে। এই রেখাগুলোই তড়িৎ বলরেখা। ওপরের সিমুলেশনে যে রেখাগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলো ঠিক এভাবেই হিসাব করে আঁকা।

বলরেখার বৈশিষ্ট্য মুখস্থ না করে “কেন” বুঝে নাও — তাহলে আর ভুলবে না:

  • বলরেখা ধনাত্মক আধান থেকে শুরু হয়ে ঋণাত্মক আধানে শেষ হয় — কারণ ধনাত্মক পরীক্ষণ আধান ধনাত্মক থেকে দূরে আর ঋণাত্মকের দিকে যায়।
  • দুটি বলরেখা কখনো পরস্পরকে ছেদ করে না — ছেদ করলে ছেদবিন্দুতে দুটি স্পর্শক, মানে E-এর দুটি দিক হতো, যা অসম্ভব।
  • যেখানে বলরেখা ঘন, সেখানে ক্ষেত্র প্রবল; যেখানে ফাঁকা, সেখানে দুর্বল — তাই আধানের কাছে রেখা ঘন, দূরে পাতলা।
  • বলরেখা পরিবাহীর পৃষ্ঠে লম্বভাবে শুরু বা শেষ হয় — তির্যক হলে পৃষ্ঠ বরাবর একটা উপাংশ থাকত আর আধান গড়িয়ে চলত।
  • বলরেখা কখনো বদ্ধ লুপ তৈরি করে না (স্থির আধানের ক্ষেত্রে) — এটা চৌম্বক বলরেখা থেকে বড় পার্থক্য।
  • আধানের মান যত বেশি, তার থেকে তত বেশি বলরেখা বের হয় বা তাতে ঢোকে।

একক আধানের নকশা

একটি ধনাত্মক আধানের বলরেখা চাকার স্পোকের মতো চারদিকে সোজা বেরিয়ে যায়; ঋণাত্মক আধানে একই নকশা, শুধু তীর ভেতরের দিকে।

ডাইপোলের নকশা

সমান ও বিপরীত দুটি আধানকে পাশাপাশি রাখলে (ডাইপোল) বলরেখাগুলো ধনাত্মক থেকে বেঁকে গিয়ে ঋণাত্মকে ঢোকে — দেখতে অনেকটা দুই পাশে বাঁকা ধনুকের মতো। মাঝখানে রেখা সবচেয়ে ঘন।

দুটি সমধর্মী আধানের নকশা

দুটি ধনাত্মক আধানের বলরেখা একে অপরকে যেন “ঠেলে” সরিয়ে দেয়। ঠিক মাঝখানে একটা বিন্দু থাকে যেখানে দুই দিকের E সমান ও বিপরীত — সেটাই নিরপেক্ষ বিন্দু, সেখানে E = ০।

তড়িৎ ক্ষেত্র আর তড়িৎ বিভব কি একই?

না, এবং এটা খুব জনপ্রিয় প্রশ্ন। তড়িৎ তীব্রতা বলে “এখানে একক আধান কত জোরে কোন দিকে ধাক্কা খাবে”; বিভব বলে “এখানে একক আধান আনতে কত কাজ লাগবে”। একটা পাহাড়ের উদাহরণ ভাবো: বিভব হলো কোনো জায়গার উচ্চতা, আর তীব্রতা হলো ঢাল কতটা খাড়া।

বিষয়তড়িৎ তীব্রতা (E)তড়িৎ বিভব (V)
রাশির ধরনভেক্টর — দিক আছেস্কেলার — দিক নেই
সূত্র (বিন্দু আধান)E = kq/r²V = kq/r
দূরত্বের সাথেr²-এর ব্যস্তানুপাতে কমেr-এর ব্যস্তানুপাতে কমে
এককN C⁻¹ বা V m⁻¹J C⁻¹ বা ভোল্ট (V)
একাধিক আধানেভেক্টর যোগসাধারণ বীজগাণিতিক যোগ
ডাইপোলের মাঝখানেশূন্য নয়শূন্য

সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো

পড়া শেষ হলে ওপরের সিমুলেশনে ফিরে গিয়ে নিচের পরীক্ষাগুলো একে একে করো। প্রতিটি পরীক্ষা বইয়ের একটা নিয়মকে চোখের সামনে প্রমাণ করবে।

  • “একক ধনাত্মক” বেছে নাও, মাউস আধানের কাছে থেকে দূরে সরাও — E-এর মান কীভাবে দ্রুত কমে, পরিমাপ প্যানেলে দেখো। দূরত্ব দ্বিগুণ হলে মান প্রায় চার ভাগের এক ভাগ হয় কি না মিলিয়ে নাও।
  • “ডাইপোল” নিয়ে দুটি আধানের ঠিক মাঝখানে মাউস রাখো — E শূন্য নয়, আর দিক ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মকের দিকে।
  • “দুটি সমধর্মী” নিয়ে মাঝখানটা খোঁজো — এক জায়গায় E প্রায় শূন্য হয়ে যাবে। সেটাই নিরপেক্ষ বিন্দু।
  • একটি আধানে ক্লিক করে তার মান বাড়াও — তার থেকে বের হওয়া বলরেখার সংখ্যাও বাড়বে।
  • ▶ চাপো: কমলা পরীক্ষণ আধান বলরেখা ধরে এগোয় আর ঋণাত্মক আধানের দিকে যত যায় তত দ্রুত হয়।

ধাপে ধাপে গাণিতিক সমাধান

এখানে সব হিসাবে k = ৯ × 10⁹ N m² C⁻² ধরা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নে আগে এককগুলো SI-তে বদলে নাও — µC-কে ১০⁻⁶ দিয়ে গুণ করে C বানাও, cm-কে m বানাও। বেশিরভাগ ভুল এখানেই হয়।

সমস্যা ১: দুটি আধানের মধ্যে বল

৩ µC ও −৪ µC আধান দুটি ০.২ m দূরে আছে। বল কত এবং কী ধরনের?

সমাধান: F = k·q₁q₂/r² = ৯ × 10⁹ × (৩ × ১০⁻⁶) × (৪ × ১০⁻⁶) / ০.০৪ = ২.৭০ N। আধান দুটি বিপরীতধর্মী, তাই বলটি আকর্ষণ।

সমস্যা ২: বিন্দু আধানের তীব্রতা ও বিভব

২ µC আধান থেকে ০.৩ m দূরে তড়িৎ তীব্রতা ও বিভব বের করো। সেখানে ১ nC পরীক্ষণ আধান রাখলে বল কত হবে?

সমাধান: E = kq/r² = ৯ × 10⁹ × ২ × ১০⁻⁶ / ০.০৯ = ২.০০ × 10⁵ N C⁻¹, দিক আধান থেকে বাইরের দিকে। V = kq/r = ৬.০০ × 10⁴ V। বল F = q₀E = ২.০০ × 10⁻⁴ N।

সমস্যা ৩: দূরত্ব দ্বিগুণ করলে

একই আধান থেকে ০.৬ m দূরে গেলে E = ৫.০০ × 10⁴ N C⁻¹ — আগের চেয়ে ৪ গুণ কম। কারণ E ∝ ১/r², দূরত্ব দ্বিগুণ মানে তীব্রতা চার ভাগের এক ভাগ। এটা সিমুলেশনে মাউস সরিয়ে নিজে মিলিয়ে দেখতে পারো।

সমস্যা ৪: ডাইপোলের মাঝবিন্দুতে তীব্রতা

+২ µC ও −২ µC আধান ০.২ m দূরে আছে। মাঝবিন্দুতে তীব্রতা কত?

সমাধান: মাঝবিন্দু প্রতিটি আধান থেকে ০.১ m দূরে। প্রতিটির জন্য E = ৯ × 10⁹ × ২ × ১০⁻⁶ / (০.১)² = ১.৮০ × 10⁶ N C⁻¹। ধনাত্মক আধানের E মাঝবিন্দু থেকে দূরে, অর্থাৎ ঋণাত্মকের দিকে; ঋণাত্মক আধানের E-ও ঋণাত্মকের দিকে। দুটো একই দিকে, তাই যোগ হবে: মোট E = ৩.৬০ × 10⁶ N C⁻¹, ঋণাত্মক আধানের দিকে।

যদি দুটিই +২ µC হতো, তাহলে মাঝবিন্দুতে দুটি E সমান ও বিপরীত — মোট E = ০। এটাই নিরপেক্ষ বিন্দু।

সমস্যা ৫: তড়িৎ ক্ষেত্রে ইলেকট্রন

১ × 10⁴ N C⁻¹ সুষম তড়িৎ ক্ষেত্রে একটি ইলেকট্রনের উপর বল ও ত্বরণ কত? (e = ১.৬ × 10⁻¹⁹ C, mₑ = ৯.১১ × 10⁻³¹ kg)

সমাধান: F = eE = ১.৬ × 10⁻¹⁵ N। ত্বরণ a = F/m = ১.৭৬ × 10¹⁵ m s⁻²! ইলেকট্রন এত হালকা বলে এত বিশাল ত্বরণ পায়। বল ক্ষেত্রের উল্টো দিকে, কারণ ইলেকট্রন ঋণাত্মক।

যে ভুলগুলো সবাই করে

পরীক্ষার খাতায় বারবার দেখা যায় এমন কয়েকটা ভুল, আগে থেকে জেনে রাখো:

  • µC-কে C-তে না বদলে সরাসরি বসিয়ে দেওয়া — উত্তর ১০⁶ গুণ ভুল হয়ে যায়।
  • r না লিখে r² ভুলে যাওয়া, অথবা বিভবের সূত্রে r² বসিয়ে দেওয়া।
  • একাধিক আধানের E সরাসরি যোগ করে ফেলা, দিক না দেখে — E ভেক্টর, বিভব স্কেলার।
  • ইলেকট্রনের উপর বলের দিক E-এর দিকেই লিখে ফেলা।
  • বলরেখাকে পরীক্ষণ আধানের গতিপথ ভাবা — বলরেখা বলের দিক দেখায়, বেগের নয়।

বাস্তব জীবনে তড়িৎ ক্ষেত্র

তড়িৎ ক্ষেত্র শুধু বইয়ের জিনিস নয়, চারপাশে প্রতিদিন কাজ করছে:

  • বজ্রনিরোধক দণ্ড: উঁচু ভবনের মাথায় সূচালো ধাতব দণ্ড থাকে, মোটা তার দিয়ে মাটির সাথে যুক্ত। বজ্রপাত হলে আধান ভবনের দেয়াল দিয়ে না গিয়ে এই সহজ পথে নিরাপদে মাটিতে চলে যায়।
  • ফটোকপি মেশিন: একটি ড্রামের উপর আলো দিয়ে লেখার আকারে আধান সাজানো হয়; গুঁড়া কালি (টোনার) শুধু আধানযুক্ত জায়গাতেই লেগে কাগজে ছাপ পড়ে।
  • কারখানার ধোঁয়া পরিষ্কার: চিমনিতে ধুলাবালিকে আধানযুক্ত করে বিপরীত আধানের প্লেটে টেনে নেওয়া হয়, ফলে বাতাসে কম ধুলা যায়।
  • গাড়ির ভেতর নিরাপদ: বজ্রপাতের সময় ধাতব ছাদওয়ালা গাড়ির ভেতরে থাকা তুলনামূলক নিরাপদ, কারণ আধান ধাতব আবরণের বাইরের পৃষ্ঠ দিয়ে চলে যায় — একে ফ্যারাডে খাঁচা বলে।
  • রং স্প্রে: গাড়ি রং করার সময় রঙের কণাকে আধানযুক্ত করা হয় যাতে সেগুলো ধাতব গায়ে সমানভাবে টেনে লেগে যায়, রং কম নষ্ট হয়।

পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC

SSC-র “স্থির তড়িৎ” আর HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্রের “স্থির তড়িৎ” অধ্যায় থেকে সৃজনশীল প্রশ্নে এই ধরনগুলো বারবার আসে। নিচে প্রশ্নের ধরন আর উত্তরের মূল কথা:

জ্ঞানমূলক

প্রশ্ন: তড়িৎ তীব্রতা কাকে বলে? উত্তর: তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে, তার মান ও দিককে ওই বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা বলে।

অনুধাবনমূলক

প্রশ্ন: দুটি বলরেখা পরস্পরকে ছেদ করে না কেন? উত্তর: ছেদবিন্দুতে দুটি স্পর্শক আঁকা যেত, অর্থাৎ একই বিন্দুতে তীব্রতার দুটি দিক হতো — যা অসম্ভব। তাই বলরেখা কখনো ছেদ করে না।

প্রশ্ন: তড়িৎ ক্ষেত্রের সকল বিন্দুতে তীব্রতা সমান নয় কেন? উত্তর: E = kq/r², তাই দূরত্ব বাড়লে তীব্রতা দূরত্বের বর্গের অনুপাতে কমে।

প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা

সাধারণত একটি উদ্দীপকে দুটি আধান আর তাদের দূরত্ব দেওয়া থাকে। প্রয়োগে বল বা কোনো বিন্দুর তীব্রতা বের করতে বলে (ওপরের সমস্যা ১ ও ৪-এর মতো); উচ্চতর দক্ষতায় জানতে চায় কোন বিন্দুতে তীব্রতা শূন্য হবে বা আধান বদলালে বল কীভাবে বদলাবে — উত্তরে গাণিতিক যুক্তি দেখাতে হয়।

এক নজরে পুরো অধ্যায়

রিভিশনের আগের রাতে শুধু এটুকু পড়লেও মূল কথাগুলো মনে পড়বে:

  • তড়িৎ ক্ষেত্র: আধানের চারপাশের যে অঞ্চলে অন্য আধান বল অনুভব করে।
  • কুলম্বের সূত্র: F = kq₁q₂/r², k ≈ ৯ × ১০⁹ N m² C⁻²।
  • তড়িৎ তীব্রতা: E = F/q₀ = kq/r², ভেক্টর, একক N C⁻¹ = V m⁻¹।
  • বিভব: V = kq/r, স্কেলার, একক ভোল্ট।
  • বলরেখা ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মকে যায়, ছেদ করে না, ঘনত্ব = ক্ষেত্রের প্রাবল্য।
  • একাধিক আধানে তীব্রতা ভেক্টর যোগে, বিভব সাধারণ যোগে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

তড়িৎ ক্ষেত্র কাকে বলে?

কোনো আধানের চারপাশে যে অঞ্চলজুড়ে অন্য কোনো আধান আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল অনুভব করে, সেই অঞ্চলকে ওই আধানের তড়িৎ ক্ষেত্র বলে।

তড়িৎ ক্ষেত্র ও তড়িৎ তীব্রতা একই নয় কেন?

তড়িৎ ক্ষেত্র হলো একটি অঞ্চল, আর তড়িৎ তীব্রতা হলো সেই অঞ্চলের কোনো বিন্দুতে ক্ষেত্রের শক্তির মাপ — একক ধনাত্মক আধানের উপর বল। একটি জায়গা, অন্যটি সেই জায়গার পরিমাপ।

তড়িৎ ক্ষেত্রের সকল বিন্দুতে তীব্রতা সমান নয় কেন?

বিন্দু আধানের ক্ষেত্রে E = kq/r², তাই তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। আধান থেকে দূরে গেলে তীব্রতা দ্রুত কমে যায়।

তড়িৎ তীব্রতার একক কী?

SI একক নিউটন/কুলম্ব (N C⁻¹)। এর সমতুল্য একক ভোল্ট/মিটার (V m⁻¹)।

দুটি বলরেখা পরস্পরকে ছেদ করে না কেন?

ছেদবিন্দুতে দুটি স্পর্শক টানা যেত, অর্থাৎ একই বিন্দুতে তীব্রতার দুটি দিক হতো। কিন্তু কোনো বিন্দুতে তীব্রতার দিক একটিই, তাই বলরেখা ছেদ করে না।

নিরপেক্ষ বিন্দু কাকে বলে?

যে বিন্দুতে একাধিক আধানের তীব্রতা পরস্পরকে বাতিল করে মোট তীব্রতা শূন্য হয়, তাকে নিরপেক্ষ বিন্দু বলে। দুটি সমান সমধর্মী আধানের ঠিক মাঝবিন্দু এর উদাহরণ।

তড়িৎ তীব্রতা ভেক্টর না স্কেলার?

ভেক্টর। এর মান ও দিক দুটোই আছে — ধনাত্মক আধান থেকে বাইরের দিকে, ঋণাত্মক আধানের দিকে ভেতরে। অন্যদিকে বিভব স্কেলার।

এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা

অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।

আরও পদার্থবিজ্ঞান অ্যানিমেশন

SSC · HSC

আলোর প্রতিসরণ

আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে, প্রতিসরণের সূত্র, সংকট কোণ ও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন — সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যানিমেশন ও গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

ওহমের সূত্র

ওহমের সূত্র কাকে বলে, বিবৃতি ও ব্যাখ্যা, V-I লেখচিত্র — বিভব পার্থক্য ও রোধ বদলে তড়িৎ প্রবাহ দেখো। শ্রেণি ও সমান্তরাল সমবায়, গাণিতিক উদাহরণসহ।

HSC

প্রাসের গতি

প্রাস কাকে বলে? কোণ ও আদিবেগ বদলে প্রাসের গতিপথ দেখো — বিচরণকাল, সর্বাধিক উচ্চতা ও আনুভূমিক পাল্লার সূত্র, গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

সরল দোলক

সরল দোলক কাকে বলে, দোলনকালের সূত্র T=2π√(L/g) ও দোলকের সূত্রসমূহ — দৈর্ঘ্য বদলে দেখো। অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ণয়ের গাণিতিক উদাহরণসহ।

HSC

তরঙ্গের ব্যতিচার

তরঙ্গের উপরিপাতন নীতি ও ব্যতিচার কাকে বলে, গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক ব্যতিচারের শর্ত, ডোরার প্রস্থ — দুই উৎস সরিয়ে নিজে দেখো, গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র

পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কী, কে আবিষ্কার করেন, অভিকর্ষজ ত্বরণ ৯.৮ বলতে কী বোঝায়: মুদ্রা আর পালক ফেলে নিজে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে, প্রতিবিম্ব কীভাবে গঠিত হয়, লেন্সের সূত্র 1/u + 1/v = 1/f, বিবর্ধন ও লেন্সের ক্ষমতা: বস্তু টেনে সরিয়ে রশ্মি চিত্র নিজে দেখো।

SSC · HSC

নিউটনের গতির সূত্র

নিউটনের গতির তিনটি সূত্র, জড়তা, ভরবেগ, F = ma, ঘাত বল আর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া: ট্রলি ঠেলে নিজে দেখো, সহজ উদাহরণ, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ (SSC, HSC)।

SSC · HSC

গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন

অবতল দর্পণ ও উত্তল দর্পণ কাকে বলে, মেরু, বক্রতার কেন্দ্র, প্রধান ফোকাস, দর্পণের সূত্র 1/u + 1/v = 1/f ও বিবর্ধন: বস্তু টেনে সরিয়ে প্রতিবিম্ব গঠন নিজে দেখো।

SSC · HSC

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ কাকে বলে, ফ্যারাডের সূত্র ও লেঞ্জের সূত্র কী বলে: চুম্বক টেনে কুণ্ডলীর ভেতর দিয়ে নিয়ে নিজে দেখো, গ্যালভানোমিটারের কাঁটা কেন দোলে, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ

ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র কী, স্থিতিস্থাপক ও অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের পার্থক্য কী: দুটো গাড়ি সংঘর্ষ করিয়ে নিজে দেখো, পুনরুদ্ধার সহগ e বদলে ভরবেগ ও গতিশক্তির বার-লেখচিত্র মিলিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

কাজ কাকে বলে, গতিশক্তি ও বিভবশক্তির সূত্র কী, ক্ষমতা কীভাবে মাপা হয়: গড়িয়ে পড়া কার্টের সিমুলেশনে শক্তির রূপান্তর নিজে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

নততল

নততলে ওজন কীভাবে দুই উপাংশে ভাগ হয়, স্থিতি কোণ কী, ঘর্ষণ কীভাবে ব্লককে ধরে রাখে বা পিছলে দেয়: কোণ বদলে ব্লক নিজে ছেড়ে দিয়ে বল-চিত্র ও সূত্র দেখো।

অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন

রসায়ন

পরমাণুর গঠন

রসায়ন

এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল

রসায়ন

ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন

গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ

রসায়ন

আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়

রসায়ন

তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র

রসায়ন

সমযোজী বন্ধন

রসায়ন

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

জীববিজ্ঞান

মাইটোসিস কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান

ব্যাপন ও অভিস্রবণ

জীববিজ্ঞান

সালোকসংশ্লেষণ

জীববিজ্ঞান

মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

জীববিজ্ঞান

মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র

জীববিজ্ঞান

ডিএনএ রেপ্লিকেশন

জীববিজ্ঞান

কোষীয় শ্বসন

জীববিজ্ঞান

এনজাইম ক্রিয়া

জীববিজ্ঞান

স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল

জীববিজ্ঞান

নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া

জীববিজ্ঞান

মিয়োসিস কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান

পরিপাকতন্ত্র

গণিত

পিথাগোরাসের উপপাদ্য

গণিত

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত

গণিত

দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র

গণিত

বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য

গণিত

দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ

গণিত

সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা

গণিত

সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা

গণিত

গড়, মধ্যক ও প্রচুরক