কুমিল্লার সেরা কলেজ — একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তালিকা
To read this in English, visit: Best Colleges in Cumilla — the Class XI Admission List
কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের সামনে প্রতি বছর একটি বাড়তি প্রশ্ন থাকে, যা দেশের অনেক শহরে থাকে না — ঢাকায় গিয়ে পড়ব, নাকি এখানেই থাকব। মহাসড়কের কারণে ঢাকা কাছে, আত্মীয়স্বজন থাকার সম্ভাবনাও বেশি, তাই প্রলোভনটি বাস্তব।
সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সময় একটি হিসাব প্রায়ই বাদ পড়ে যায়। ঢাকার শীর্ষ কলেজগুলোর বড় অংশ নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা নেয়, আর কেন্দ্রীয় আবেদনে ঢাকার যে কলেজগুলো পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যম সারিতে ভর্তি হওয়ার চেয়ে কুমিল্লার শীর্ষ কলেজে পড়া অনেক ক্ষেত্রেই ভালো — খরচ কম, পরিবার কাছে, আর ফলাফলে পার্থক্য সামান্য।
কুমিল্লার নিজের তালিকাও ছোট নয়। জেলায় দেড়শোর বেশি কলেজ, শহরে একাধিক প্রতিষ্ঠিত সরকারি কলেজ, আলাদা বাণিজ্য কলেজ এবং সেনানিবাসের প্রতিষ্ঠান — বিকল্পের অভাব এখানে সমস্যা নয়।
কুমিল্লাের সেরা কলেজ — তালিকা
| কলেজ | কেন তালিকায় | মূল তথ্য |
|---|---|---|
| কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ | জেলার সবচেয়ে পরিচিত নাম; দেশজুড়ে স্বীকৃত এবং সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১০৫৮২২ |
| কুমিল্লা সরকারি কলেজ | শহরের দ্বিতীয় প্রধান সরকারি কলেজ; তিন বিভাগেই ভর্তি নেয়। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১০৫৮২৪ |
| কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ | ছাত্রীদের জন্য শহরের প্রধান সরকারি কলেজ। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১০৫৮২১ |
| কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ | শীর্ষ দুটির তুলনায় চাপ কম, অথচ সরকারি কলেজের সুবিধা অটুট। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১৩৩২২৭ |
| কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল কলেজ | শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত মডেল প্রতিষ্ঠান; শহরের ভেতরে। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১৩২০৯২ |
| ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস | সেনানিবাস পরিচালিত; ফল ধারাবাহিক, নিজস্ব নিয়মকানুন আছে। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১০৫৮২৬ |
| কুমিল্লা কমার্স কলেজ | ব্যবসায় শিক্ষায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান — বাণিজ্য বিভাগে পড়তে চাইলে বিবেচনায় রাখো। | কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন · EIIN ১৩১৯০৩ |
এই তালিকা কীভাবে ব্যবহার করবে
ঢাকা আর কুমিল্লা দুই জায়গার কলেজ একই তালিকায় রাখতে চাইলে ক্রমটা ভেবে সাজাও। ঢাকার কলেজ ওপরে রাখলে সেখানে নির্বাচিত হলে যেতেই হবে — নির্বাচনের পর “ভেবে দেখব” বলে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই, কারণ নিশ্চায়ন না করলে আসনটি চলে যায় এবং কুমিল্লার পছন্দগুলোও তখন হাতছাড়া।
খরচের হিসাবটা আগে করে নাও। ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ কুমিল্লায় বাড়ি থেকে পড়ার তুলনায় অনেক বেশি, আর সেটি দুই বছর ধরে বইতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতিতেও খরচ আছে — দুটো একসঙ্গে হিসাব করলে সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকেও শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা শহরে আবেদন করে। শহরের শীর্ষ কলেজে চাপ তাই স্থানীয় প্রতিযোগিতার চেয়ে বেশি — অন্তত দুটি নিরাপদ পছন্দ তালিকায় রাখো।
একাদশ ভর্তি ২০২৬-২৭ — কোন ধাপ কবে (১ম ধাপ শেষ, ২য় ধাপ চলছে)
১ম ধাপে আবেদন করেছিল প্রায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ শিক্ষার্থী; মেধাতালিকায় কলেজ পেয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন, আর ১৪ হাজার ৪১৫ জন কোনো কলেজ পায়নি — তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জনও আছে। মাইগ্রেশন শেষে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন, অথচ আসন ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি — অর্থাৎ আসনের সংকট নয়, পছন্দক্রমের ভুলই বেশির ভাগকে বাদ রেখেছে।
| ধাপ | তারিখ |
|---|---|
| এসএসসি ২০২৬ ফল প্রকাশ | ১০ আগস্ট ২০২৬ |
| ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ | ২৪ আগস্ট ২০২৬ |
| ১ম ধাপ: অনলাইন আবেদন | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ – ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ১ম ধাপ: বাড়তি আবেদনের সুযোগ | ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| ১ম ধাপ: মেধাতালিকা | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ১ম ধাপ: নিশ্চায়ন | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ১ম ধাপ: মাইগ্রেশনের ফল | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| কলেজে ভর্তি (১ম ধাপ) | ২০–২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ক্লাস শুরু | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ২য় ধাপ: অনলাইন আবেদন | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) – ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ২য় ধাপ: ফল | ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ২য় ধাপ: নিশ্চায়ন | ১–৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| ২য় ধাপ: মাইগ্রেশনের ফল | ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ২য় ধাপ: কলেজে ভর্তি | ৫–৭ অক্টোবর ২০২৬ |
| ৩য় ধাপ | এখনো ঘোষণা হয়নি |
| আবেদনের ঠিকানা | xiclassadmission.gov.bd |
যারা ১ম ধাপে কলেজ পায়নি বা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের সুযোগ ২য় ধাপ: আবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত। ১ম ধাপে আবেদন করে কোথাও মনোনীত না হলে এবার আবেদন ফি লাগবে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
সবসময় নয়। ঢাকার সবচেয়ে ভালো কলেজগুলোর অনেকটাই নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেয়; কেন্দ্রীয় আবেদনে যে কলেজগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যম সারির চেয়ে কুমিল্লার শীর্ষ কলেজ প্রায়ই ভালো বিকল্প। প্রশ্নটা শহরের নয়, প্রতিষ্ঠানের।
যাবে — কেন্দ্রীয় আবেদনে জেলা বা বোর্ডের সীমা নেই। শুধু মনে রেখো, ফল প্রকাশের পর তোমার তালিকার যে কলেজটি সবচেয়ে ওপরে এবং যেখানে জায়গা হয়েছে, সেটিই বরাদ্দ হবে — নিচের পছন্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।
কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদনেই ভর্তি হয়, আলাদা পরীক্ষা নেই — নির্ধারক তোমার এসএসসির ফল ও পছন্দক্রম। ন্যূনতম জিপিএ কলেজ তার নিজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তাই সংখ্যাটি সেখান থেকেই দেখে নিয়ো।
শহরে আবাসিক ব্যবস্থাসহ প্রতিষ্ঠান আছে, তবে আসন সীমিত এবং ভর্তির সঙ্গে আপনাআপনি আবাসিক আসন পাওয়া যায় না — কলেজের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















