একাদশ ভর্তি ২য় ধাপ ২০২৬ (২০২৬-২৭) — তারিখ, কারা আবেদন করবে ও কীভাবে
To read this in English, visit: Class XI Admission 2nd Phase 2026 (2026-27) — Dates, Who Can Apply and How
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তির ২য় ধাপের অনলাইন আবেদন শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার), চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত — মাত্র দুই দিন। ফল প্রকাশ ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা, আর কলেজে ভর্তি ৫–৭ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন হবে আগের মতোই xiclassadmission.gov.bd-এ।
১ম ধাপে কলেজ না পাওয়া মানে আসন ফুরিয়ে যাওয়া নয়। দেশজুড়ে আসন ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি, অথচ মাইগ্রেশনের পরে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন — আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যে ১৪ হাজার ৪১৫ জন কোথাও সুযোগ পায়নি, তাদের বেশির ভাগ হেরেছে পছন্দক্রমের কারণে, আসনের অভাবে নয়। এই ধাপটি সেই তালিকা ঠিক করার সুযোগ।
২য় ধাপের সময়সূচি ২০২৬-২৭
| ধাপ | তারিখ |
|---|---|
| অনলাইন আবেদন শুরু | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) |
| অনলাইন আবেদনের শেষ সময় | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| ফল প্রকাশ | ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা |
| নিশ্চায়ন | ১–৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| মাইগ্রেশনের ফল | ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা |
| কলেজে ভর্তি | ৫–৭ অক্টোবর ২০২৬ |
| আবেদন ফি | ২২০ টাকা; ১ম ধাপে আবেদন করে কোনো কলেজ না পেলে ফি লাগবে না |
| পছন্দক্রম | সর্বনিম্ন ৫টি, সর্বোচ্চ ১০টি |
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে ২৪ আগস্ট ২০২৬, তবু বোর্ড পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে তারিখ বা সংখ্যা বদলাতে পারে। আবেদনের আগে xiclassadmission.gov.bd-এ প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নাও। এই পাতার তথ্য সর্বশেষ যাচাই করা হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
কারা ২য় ধাপে আবেদন করতে পারবে
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি চার দলের শিক্ষার্থীকে এই ধাপে আবেদনের সুযোগ দিয়েছে। নিজে কোন দলে পড়ো তা আগে ঠিক করো, কারণ ফি আর কৌশল দুটোই সেই অনুযায়ী বদলায়।
- যারা ১ম ধাপে আবেদনই করেনি
- যারা আবেদন করেও কোনো কলেজে মনোনীত হয়নি
- যারা মনোনীত হয়েও নিশ্চায়ন বা ভর্তি করেনি
- ভুল কোটা দাবির কারণে যাদের ফল আটকে গিয়েছিল
১ম ধাপে যে শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন ও ভর্তি সম্পন্ন করেছে, সে এই তালিকায় নেই — তার আসন বহাল থাকে, আর নতুন করে আবেদনের পথ খোলা নয়।
কার ফি লাগবে, কার লাগবে না
মনোনীত হলে নিশ্চায়নের সময় বোর্ডের আলাদা ৩৪০ টাকা দিতে হবে, যেমনটা ১ম ধাপেও ছিল। টাকা দেওয়া যাবে কেবল পোর্টালের ভেতর থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে — নিজে থেকে কোনো নম্বরে পাঠানো টাকা আবেদনে যুক্ত হয় না।
| তোমার অবস্থা | ২য় ধাপের আবেদন ফি |
|---|---|
| ১ম ধাপে আবেদন করেছিলাম, কোনো কলেজে মনোনীত হইনি | লাগবে না — বিনা ফিতে আবেদন |
| ১ম ধাপে আবেদনই করিনি | ২২০ টাকা |
| মনোনীত হয়েছিলাম, কিন্তু নিশ্চায়ন বা ভর্তি করিনি | ২২০ টাকা |
১ম ধাপের নির্বাচনের কী হয়
মেধাতালিকায় ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন কলেজ পেয়েছিল, কিন্তু মাইগ্রেশন শেষে চূড়ান্ত তালিকায় টিকে আছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন। মাঝের ফারাকটি মূলত তাদের, যারা নিশ্চায়ন করেনি — তাদের নির্বাচন বাতিল হয়ে গেছে, আর সেই আসনগুলোই এখন ২য় ধাপে ফিরে এসেছে।
নির্বাচন বাতিল হওয়া শিক্ষার্থী পুরোনো কলেজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পায় না। চাইলে নতুন তালিকায় সেটি আবার রাখা যায়, কিন্তু সেখানে ফাঁকা আসন আর তোমার মেধাক্রম দুটোই লাগবে — আগের নির্বাচন কোনো অগ্রাধিকার দেয় না।
- নির্বাচিত হয়েও যারা নিশ্চায়ন করেনি, তাদের ছেড়ে দেওয়া আসন।
- নিশ্চায়ন করেও যারা কলেজে গিয়ে ভর্তি হয়নি, তাদের আসন।
- দাবি না হওয়া কোটার আসন, যা মেধার ভাগে ফিরে যায়।
- মাইগ্রেশনে ওপরের কলেজে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীর পেছনে খালি হওয়া আসন।
শেষ কারণটির জন্যই নামী কলেজেও এই ধাপে কিছু আসন খোলে — তবে কোন কলেজে কটি, তা আগে থেকে কেউ জানে না।
১ম ধাপের ফল দেখে নতুন তালিকা সাজানো
সংখ্যাগুলো একটি কথাই বলে। কোনো কলেজ না পাওয়া ১৪ হাজার ৪১৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ২০৫ জনের জিপিএ ৫ — অর্থাৎ ফল ভালো হলেও তালিকার সব কলেজ যদি চাহিদার শীর্ষে থাকে, তবে কোথাও জায়গা হয় না। একই সময়ে ৫৫৭টি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি।
তাই একই তালিকা আবার জমা দিলে ফলও একই হবে। ১ম ধাপে যে কলেজগুলো ভরে গেছে, সেগুলোর জন্য এবার ফাঁকা আসন সামান্যই থাকবে। নতুন তালিকা সাজাও তিন স্তরে: ওপরে দু-তিনটি কলেজ যেখানে সুযোগ কম কিন্তু আছে, মাঝে কয়েকটি যেখানে তোমার ফল গত বছরের ভর্তির কাছাকাছি, আর নিচে অন্তত তিনটি কলেজ যেখানে ভর্তি প্রায় নিশ্চিত।
পছন্দ দেওয়া যাবে সর্বনিম্ন ৫টি, সর্বোচ্চ ১০টি। সব ঘর ভরে ফেলো — বাড়তি পছন্দে বাড়তি খরচ নেই, আর খালি রাখা ঘর মানে একটি নিরাপদ বিকল্প কম।
xiclassadmission.gov.bd-এ ২য় ধাপের আবেদন — ধাপে ধাপে
- xiclassadmission.gov.bd-এ ঢুকে এসএসসির রোল, বোর্ড ও পাসের সাল দাও। ১ম ধাপে আবেদন করে থাকলে আগের তথ্যই দেখাবে।
- আবেদন ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য ও মোবাইল নম্বর মিলিয়ে নাও — ফল ও নিশ্চায়নের বার্তা এই নম্বরেই আসবে।
- কোটা দাবি করলে কেবল তখনই করো যখন সনদ হাতে আছে। ভুল কোটা দাবির কারণেই ১ম ধাপে অনেকের ফল আটকে গিয়েছিল।
- নতুন তিন-স্তরের তালিকা থেকে কলেজ, শিফট, ভার্সন ও গ্রুপ বেছে পছন্দক্রম সাজাও, তারপর পুরো তালিকা আরেকবার পড়ে দেখো।
- ফি প্রযোজ্য হলে পোর্টাল থেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পরিশোধ করো; বিনা ফির আবেদনকারীর জন্য এই ধাপটি আসবে না।
- জমা দেওয়ার পর আবেদনের কপি ডাউনলোড করে রাখো, আর শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে প্রথম দিনেই কাজটি সেরে ফেলো।
ফল প্রকাশের পর নিশ্চায়নের সময় ১–৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত। মনোনীত হয়ে নিশ্চায়ন না করলে এই ধাপের নির্বাচনও বাতিল হবে, আর এর পরে কোনো ধাপ আছে কি না তা এখনো ঘোষণা হয়নি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নির্ভর করে তোমার অবস্থার ওপর। ১ম ধাপে আবেদন করে কোথাও মনোনীত না হলে এবার কোনো ফি লাগবে না। প্রথমবার আবেদনকারী বা মনোনীত হয়েও নিশ্চায়ন না করা শিক্ষার্থীকে দিতে হবে ২২০ টাকা।
না। বিজ্ঞপ্তির যোগ্য তালিকায় নিশ্চায়ন ও ভর্তি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী নেই। ওপরের কলেজে যাওয়ার পথ ছিল মাইগ্রেশন, যার ফল ১ম ধাপেই প্রকাশিত হয়েছে।
তালিকার নিচের অংশ। জিপিএ ৫ পেয়েও বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় সাধারণত কেবল সবচেয়ে চাহিদার কলেজ থাকে। এবার অন্তত তিনটি এমন কলেজ রাখো যেখানে গত বছরের ন্যূনতম জিপিএ তোমার ফলের চেয়ে স্পষ্টভাবে কম।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৩য় ধাপের কোনো ঘোষণা আসেনি। গত শিক্ষাবর্ষে একটি ৩য় ধাপ হয়েছিল, কিন্তু এবার হবে কি না তা নিশ্চিত নয় — তাই ২য় ধাপকেই শেষ সুযোগ ধরে তালিকা সাজানো নিরাপদ।
১ম ধাপের মতোই — সর্বনিম্ন ৫টি, সর্বোচ্চ ১০টি। তবে যে কলেজে আর ফাঁকা আসন নেই, সেটি তালিকায় রাখলে ঘরটি নষ্ট হবে।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















