মিয়োসিসের আগে: G₁ দশা: কোষ বড় হচ্ছে। প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটিই ক্রোমাটিড, সুতার মতো ছড়িয়ে আছে নিউক্লিয়াসে। এই কোষে 2n = 4, অর্থাৎ দুই জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোম।
সমসংস্থ জোড়া ১সমসংস্থ জোড়া ২স্পিন্ডল তন্তুগাঢ় ও হালকা রঙের একই ছায়া একটি সমসংস্থ জোড়া; দুই রঙ মেশা মানে ক্রসিং ওভারে পাওয়া নতুন অংশনিয়ন্ত্রণ
যেকোনো ধাপে যাও
ডান পাশে দেখো মাইটোসিস একই কোষ থেকে কী দিত
পরিমাপ
- বর্তমান দশা
- মিয়োসিসের আগে: G₁ দশা
- ক্রোমোজোম সংখ্যা
- 2n = ৪
- ক্রোমাটিড (এই কোষে)
- ৪
- মোট কোষ
- ১
- অগ্রগতি
- ০%
সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে
- শুরুতে “যেকোনো ধাপে যাও”-তে ইন্টারফেজ বেছে চালাও: কোষ বড় হচ্ছে, S দশায় প্রতিটি ক্রোমোজোমের দ্বিতীয় ক্রোমাটিড তৈরি হচ্ছে।
- প্রোফেজ I-তে থামো: দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম কাছে এসে জোড়া বাঁধছে, আর অর্ধেক সময় পার হলে একটি জোড়ায় রঙ বদল (ক্রসিং ওভার) দেখা যাবে।
- মেটাফেজ I দেখো: একক ক্রোমোজোম নয়, জোড়া (বাইভ্যালেন্ট) সারিবদ্ধ হয়েছে বিষুবীয় প্লেটে। এটাই মিয়োসিসের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব।
- অ্যানাফেজ I আর টেলোফেজ I পার করো: এখন দুটি কোষ, প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (n)। পরিমাপ প্যানেলে “ক্রোমোজোম সংখ্যা” 2n থেকে n হতে দেখো।
- মিয়োসিস II চালাও: দুটি কোষেই একসাথে সাধারণ মাইটোসিসের মতো সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে শেষে চারটি কোষ তৈরি হয়।
- “মাইটোসিসের সাথে পাশাপাশি তুলনা করো” টিক দিয়ে দেখো: একই কোষ মাইটোসিসে দিত দুটি অভিন্ন ডিপ্লয়েড কোষ, আর মিয়োসিসে দিল চারটি ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ।
বাবা-মায়ের মতো, তবু একদম এক নয় কেন
ভাইবোনদের চেহারায় মিল থাকে, কিন্তু দুজন কখনো একদম একরকম হয় না—উচ্চতা, চোখের রঙ, রক্তের গ্রুপ সব আলাদা। বাবা আর মা প্রত্যেকে তাদের ক্রোমোজোমের অর্ধেক সন্তানকে দেন, কিন্তু কোন অর্ধেকটা যায় তা প্রতিবারই আলাদা হয়। এই এলোমেলো ভাগাভাগির উৎস একটাই কোষ বিভাজন: মিয়োসিস।
মানুষের প্রতিটি সাধারণ কোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, ২৩ জোড়া। কিন্তু শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে থাকে মাত্র ২৩টি। দুটো মিলে সন্তানের কোষে আবার ৪৬টি হয়। এই অর্ধেক করার কাজটা কে করে? প্রতিটি নতুন জীবের জিনগত বৈচিত্র্য এখানেই তৈরি হয়, আর এই পাতার সিমুলেশনে সেটাই তুমি নিজের চোখে দেখতে পারবে।
প্রশ্ন হলো: কোষ বিভাজন তো মাইটোসিসেও হয়, তাহলে মাইটোসিস দিয়ে শুক্রাণু-ডিম্বাণু বানালে কী সমস্যা? সমস্যাটা সহজ—মাইটোসিস ক্রোমোজোম সংখ্যা একই রাখে। বাবা-মা দুজনেই যদি মাইটোসিসে জনন কোষ বানাতেন, প্রতি প্রজন্মে সন্তানের ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত। এই সমস্যার সমাধানই মিয়োসিস।
একদম শুরু থেকে: মিয়োসিস কাকে বলে ও কেন প্রয়োজন
মিয়োসিস হলো এক প্রকার কোষ বিভাজন, যেখানে একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ পরপর দুবার বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ তৈরি করে। সিমুলেশনের কোষে 2n = ৪, অর্থাৎ দুই জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোম; বিভাজনের শেষে প্রতিটি কোষে থাকে n = ২টি ক্রোমোজোম, প্রতিটি জোড়া থেকে একটি করে।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জনন কোষ (গ্যামেট) তৈরি হয় মিয়োসিসেই, তাই একে বলে গ্যামেটোজেনেসিসের ভিত্তি। উদ্ভিদে পরাগরেণু আর বীজাণু তৈরির সময়েও একই প্রক্রিয়া কাজ করে। মিয়োসিস ছাড়া যৌন জননে ক্রোমোজোম সংখ্যা বংশপরম্পরায় স্থির রাখা সম্ভব হতো না।
মিয়োসিসের নাম দুটো ভাগে: মিয়োসিস I আর মিয়োসিস II। মিয়োসিস I-কে বলে হ্রাস বিভাজন, কারণ এখানেই ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n থেকে n হয়। মিয়োসিস II দেখতে সাধারণ মাইটোসিসের মতোই, কারণ এখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা বদলায় না, শুধু প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুই সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে যায়। দুই বিভাজন মিলে ক্রোমোজোম একবার অনুলিপন হয় (S দশায়) আর নিউক্লিয়াস দুইবার ভাগ হয়—এটাই মিয়োসিসের সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা।
শরীরের সব কোষে মিয়োসিস হয় না। মানুষে এটা ঘটে শুধু শুক্রাশয় (শুক্রাণু তৈরির জন্য) আর ডিম্বাশয়ে (ডিম্বাণু তৈরির জন্য); উদ্ভিদে পরাগধানী আর গর্ভাশয়ে। শরীরের বাকি কোষ, যেমন চামড়া বা যকৃত, বাড়ে আর মেরামত হয় মাইটোসিসে।
মিয়োসিসের গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো
ধাপে যাওয়ার আগে শব্দগুলো ঝালিয়ে নিই। পরীক্ষার সংজ্ঞামূলক প্রশ্ন এখান থেকেই আসে।
| শব্দ | সহজ ভাষায় অর্থ |
|---|---|
| সমসংস্থ ক্রোমোজোম | আকার, আকৃতি ও জিনের অবস্থানে একই রকম দুটি ক্রোমোজোম, একটি বাবার থেকে একটি মায়ের থেকে আসা |
| সিন্যাপসিস | প্রোফেজ I-এ দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম পাশাপাশি এসে শক্তভাবে জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়া |
| বাইভ্যালেন্ট (টেট্রাড) | সিন্যাপসিসের পর জোড়া বাঁধা দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম, মোট চারটি ক্রোমাটিড নিয়ে গঠিত |
| ক্রসিং ওভার | বাইভ্যালেন্টের মধ্যে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের অংশ বদল, যা নতুন জিন সমাহার তৈরি করে |
| কিয়াজমা | যে বিন্দুতে ক্রসিং ওভারের সময় দুটি ক্রোমাটিড একে অপরকে অতিক্রম করে জোড়া লাগে |
| হ্রাস বিভাজন | মিয়োসিস I-এর অন্য নাম, কারণ এখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় |
| হ্যাপ্লয়েড (n) | একসেট ক্রোমোজোমযুক্ত কোষ, প্রতিটি ধরনের ক্রোমোজোমের একটিমাত্র কপি |
| ডিপ্লয়েড (2n) | দুই সেট ক্রোমোজোমযুক্ত কোষ, প্রতিটি ধরনের ক্রোমোজোমের দুটি কপি (এক জোড়া) |
| জনন কোষ (গ্যামেট) | মিয়োসিসে তৈরি হ্যাপ্লয়েড কোষ, যেমন শুক্রাণু বা ডিম্বাণু |
মিয়োসিস I: হ্রাস বিভাজনের চার ধাপ
মিয়োসিস I-এর কাজ একটাই: সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়াকে আলাদা করে দেওয়া। সিস্টার ক্রোমাটিড এই বিভাজনে আলাদা হয় না, তারা একসাথেই থাকে।
প্রোফেজ I: সিন্যাপসিস আর ক্রসিং ওভার
প্রোফেজ I মিয়োসিসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতিটি ক্রোমোজোম তার সমসংস্থ জোড়াকে খুঁজে নিয়ে পাশাপাশি এসে শক্তভাবে জোড়া বাঁধে; এই জোড়া বাঁধাকে বলে সিন্যাপসিস, আর জোড়া বাঁধা কাঠামোকে বলে বাইভ্যালেন্ট বা টেট্রাড (কারণ এতে চারটি ক্রোমাটিড থাকে)।
জোড়া বাঁধা অবস্থায় দুই সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিড একে অপরের সাথে ডিএনএ-র অংশ বদল করে। এই বদলকে বলে ক্রসিং ওভার, আর যে বিন্দুতে এটা ঘটে তাকে বলে কিয়াজমা। সিমুলেশনে এটা দেখানো হয়েছে রঙ বদল করে: একটি ক্রোমাটিডের বাইরের অংশ আরেকটির রঙ পেয়ে যায়। বাস্তবে ক্রসিং ওভার হয় ডিএনএ-র সত্যিকারের ভাঙন আর জোড়া লাগার মাধ্যমে, রঙ বদল শুধু বোঝার সুবিধার জন্য।
প্রোফেজ I-এর শেষে নিউক্লিয়ার পর্দা ভেঙে যায় আর স্পিন্ডল তৈরি শুরু হয়, ঠিক মাইটোসিসের প্রোফেজের মতো। পার্থক্য একটাই কিন্তু বিশাল: এখানে দুটো করে ক্রোমোজোম হাত ধরে আছে, একক নয়।
মেটাফেজ I: জোড়া সারিবদ্ধ, একক নয়
প্রতিটি বাইভ্যালেন্ট বিষুবীয় প্লেটে এসে সারিবদ্ধ হয়। সিমুলেশনের ৪ = ৪ ক্রোমোজোমের কোষে ২টি বাইভ্যালেন্ট তৈরি হয়, প্রতিটিতে ৮/২ = ৪ মানে দাঁড়ায় প্রতিটি বাইভ্যালেন্টে চারটি ক্রোমাটিড।
এখানেই মাইটোসিসের মেটাফেজ থেকে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায়। মাইটোসিসে প্রতিটি একক ক্রোমোজোম নিজে নিজে সারিতে দাঁড়ায়; মিয়োসিস I-এ দুটো সমসংস্থ ক্রোমোজোম একসাথে জোড়ায় দাঁড়ায়। কোন জোড়ার কোন দিকে কোন ক্রোমোজোম পড়বে, তা এলোমেলো—এটাই স্বাধীন বিন্যাসের (ইনডিপেন্ডেন্ট অ্যাসোর্টমেন্ট) শুরু।
অ্যানাফেজ I: সমসংস্থ ক্রোমোজোম আলাদা হলো
স্পিন্ডল তন্তুর টানে প্রতিটি জোড়ার দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম বিপরীত মেরুর দিকে ছুটতে শুরু করে। মাইটোসিসের অ্যানাফেজে যা ঘটে (সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হওয়া) তার থেকে এটা সম্পূর্ণ আলাদা—এখানে সেন্ট্রোমিয়ার ভাঙে না, প্রতিটি ক্রোমোজোম তার দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড নিয়েই একসাথে এক মেরুতে যায়।
এই কারণেই মিয়োসিস I-কে হ্রাস বিভাজন বলা হয়: বিভাজনের আগে কোষে ছিল ২n = ৪টি ক্রোমোজোম, বিভাজনের পর প্রতিটি ভবিষ্যৎ কোষে থাকবে মাত্র n = ২টি। সংখ্যাটা কমে গেল, কিন্তু প্রতিটি ক্রোমোজোম তখনও দ্বিগুণ (দুই ক্রোমাটিড)।
টেলোফেজ I: দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষ
নিউক্লিয়ার পর্দা দুই মেরুতে আবার তৈরি হয়, সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে যায়, আর ফল দাঁড়ায় দুটি কোষ—প্রতিটিতে n = ২টি ক্রোমোজোম, প্রতিটি ক্রোমোজোমে এখনও দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড। কিছু প্রজাতিতে এই দুই কোষ সরাসরি মিয়োসিস II-এ ঢুকে যায়, কিছুতে সংক্ষিপ্ত বিরতি (ইন্টারকাইনেসিস) থাকে, কিন্তু কোনোটাতেই নতুন DNA অনুলিপন হয় না।
মিয়োসিস II: সমীকরণিক বিভাজনের চার ধাপ
মিয়োসিস I-এর দুটি কোষেই একসাথে, স্বাধীনভাবে মিয়োসিস II চলে। এটাকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কারণ ক্রোমোজোম সংখ্যা বদলায় না—এটা দেখতে ও কাজে একদম সাধারণ মাইটোসিসের মতো, শুধু কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা এখন n, 2n নয়।
প্রোফেজ II ও মেটাফেজ II
প্রতিটি কোষে স্পিন্ডল আবার তৈরি হয়, ক্রোমোজোম সংকুচিত অবস্থায় থাকে। মেটাফেজ II-এ প্রতিটি ক্রোমোজোম এককভাবে (জোড়ায় নয়) নিজের কোষের বিষুবীয় প্লেটে দাঁড়ায়—এখানেই মিয়োসিস II আর সাধারণ মাইটোসিসের মেটাফেজ দেখতে একই রকম।
অ্যানাফেজ II: সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হলো
প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার ভেঙে যায়, আর দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে যায়। প্রতিটি ক্রোমাটিড এখন নিজেই একটি স্বতন্ত্র ক্রোমোজোম। এই ধাপ অক্ষরে অক্ষরে মাইটোসিসের অ্যানাফেজের মতো, পার্থক্য শুধু এটা ঘটছে একটি হ্যাপ্লয়েড কোষের ভেতরে।
টেলোফেজ II: চারটি জনন কোষ
দুটি কোষই আবার ভাগ হয়ে যায়, ফল দাঁড়ায় চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ, প্রতিটিতে n = ২টি এক-ক্রোমাটিডের ক্রোমোজোম। মানুষে এগুলোই শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে পরিণত হয় সামান্য আকৃতিগত পরিবর্তনের পর।
চারটি কোষ কখনোই একরকম নয়। প্রতিটির ভেতরে ক্রসিং ওভারে বদলানো ক্রোমাটিড আর মেটাফেজ I-এ ভিন্নভাবে বিন্যস্ত হওয়া ক্রোমোজোমের মিশেল, তাই প্রতিটির জিন সমাহার আলাদা।
ক্রসিং ওভার আর স্বাধীন বিন্যাস: বৈচিত্র্যের দুই ইঞ্জিন
মিয়োসিসে জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি হয় দুটি আলাদা ঘটনায়। প্রথমটা ক্রসিং ওভার: প্রোফেজ I-এ নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের অংশ বদল হয়ে নতুন সমন্বয়ের ক্রোমাটিড তৈরি হয়। দ্বিতীয়টা স্বাধীন বিন্যাস: মেটাফেজ I-এ কোন বাইভ্যালেন্টের কোন ক্রোমোজোম কোন মেরুতে যাবে, তা প্রতিটি জোড়ার জন্য আলাদাভাবে ও এলোমেলোভাবে নির্ধারিত হয়।
n জোড়া ক্রোমোজোমের একটি কোষে স্বাধীন বিন্যাসের কারণে সম্ভাব্য ভিন্ন ক্রোমোজোম সমাহারের সংখ্যা হয় 2ⁿ। সিমুলেশনের কোষে n = ২, তাই সমাহার সংখ্যা 2^২ = ৪। মানুষে n = ২৩, তাই সংখ্যাটা 2^২৩ = ৮৩,৮৮,৬০৮—এবং এতে ক্রসিং ওভারের বৈচিত্র্য যুক্ত হয়নি। এইজন্যই দুই ভাইবোনের চেহারা কখনো এক হয় না।
বাইভ্যালেন্ট সংখ্যা = nn জোড়া সমসংস্থ ক্রোমোজোমে n = 2n/2
সম্ভাব্য জনন-কোষ সমাহার = 2ⁿশুধু স্বাধীন বিন্যাস থেকে, ক্রসিং ওভার ছাড়া
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য
দুটোই কোষ বিভাজন, দুটোতেই DNA একবার অনুলিপন হয়, কিন্তু ফল সম্পূর্ণ আলাদা। এই ওয়েবসাইটের মাইটোসিস অ্যানিমেশন পাতায় বিস্তারিত মাইটোসিস দেখেছ থাকলে নিচের সারণিটা সেই সাথে মিলিয়ে দেখো।
| বিষয় | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
|---|---|---|
| বিভাজনের সংখ্যা | একবার | দুইবার (মিয়োসিস I ও II) |
| অপত্য কোষ সংখ্যা | ২টি | ৪টি |
| ক্রোমোজোম সংখ্যা | অপরিবর্তিত (2n থেকে 2n) | অর্ধেক (2n থেকে n; ৪ থেকে ২) |
| সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধে? | না | হ্যাঁ, প্রোফেজ I-এ (সিন্যাপসিস) |
| ক্রসিং ওভার | হয় না | হয়, প্রোফেজ I-এ |
| অপত্য কোষ জিনগতভাবে | মাতৃকোষের অভিন্ন প্রতিরূপ | একে অপরের থেকে ও মাতৃকোষ থেকে ভিন্ন |
| কোথায় ঘটে | দেহের প্রায় সব বিভাজনক্ষম কোষে | শুধু জননকোষ তৈরির অঙ্গে |
| কাজ | বৃদ্ধি, মেরামত, অপত্য কোষ প্রতিস্থাপন | জনন কোষ (গ্যামেট) তৈরি |
মিয়োসিসের গুরুত্ব
সংক্ষেপে বলা যায়: মাইটোসিস কোষকে বাঁচিয়ে রাখে, মিয়োসিস প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখে।
- জনন কোষ তৈরি করে, তাই যৌন জনন সম্ভব হয়।
- ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্মে প্রজন্মে স্থির রাখে; মিয়োসিস ছাড়া নিষেকের পর ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রতি প্রজন্মে দ্বিগুণ হয়ে যেত।
- ক্রসিং ওভার আর স্বাধীন বিন্যাসের মাধ্যমে জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি করে, যা প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।
- ক্ষতিকর মিউটেশন ছড়িয়ে দিয়ে অথবা উপকারী মিউটেশনকে নতুন সমাহারে একসাথে নিয়ে এসে বিবর্তনের গতি বাড়ায়।
সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো
প্রতিটি পরীক্ষার আগে অনুমান করো, তারপর চালিয়ে মিলিয়ে দেখো।
- ইন্টারফেজ থেকে টেলোফেজ I পর্যন্ত ধীরে (0.5×) চালিয়ে দেখো ঠিক কখন 2n = 4 লেখা readout n = 2 হয়ে যায়।
- প্রোফেজ I-এ থামিয়ে সময়রেখার স্লাইডার ধীরে সরাও: রঙ বদল (ক্রসিং ওভার) কোন মুহূর্তে দেখা যায়, তা লক্ষ করো।
- মেটাফেজ I আর মেটাফেজ II পাশাপাশি জাম্প করে দেখো: একটায় জোড়া সারিবদ্ধ, আরেকটায় একক ক্রোমোজোম—পার্থক্যটা চোখে পড়বে।
- “মাইটোসিসের সাথে পাশাপাশি তুলনা করো” চালু করে পুরো সিমুলেশন চালাও: ডান পাশের দুটি অভিন্ন ডিপ্লয়েড কোষের সাথে বাম পাশের চারটি ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ মিলিয়ে দেখো।
- “কোষ সংখ্যা” readout-এ নজর রাখো: এটা ১ থেকে ২, তারপর ২ থেকে ৪ হওয়ার মুহূর্তগুলো টেলোফেজ I আর টেলোফেজ II-এর শেষে ঘটে কি না যাচাই করো।
গাণিতিক উদাহরণ: ধাপে ধাপে সমাধান
মিয়োসিসের অঙ্ক মূলত গোনার অঙ্ক: ক্রোমোজোম, ক্রোমাটিড, বাইভ্যালেন্ট আর সম্ভাব্য সমাহার।
সমস্যা ১: সিমুলেশনের কোষে বাইভ্যালেন্ট সংখ্যা
2n = ৪ হলে সমসংস্থ জোড়ার সংখ্যা n = ৪/২ = ২। প্রতিটি জোড়া একটি বাইভ্যালেন্ট তৈরি করে, তাই মেটাফেজ I-এ বাইভ্যালেন্ট সংখ্যা = ২।
সমস্যা ২: মেটাফেজ I-এ মোট ক্রোমাটিড
প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড থাকে, আর কোষে ৪টি ক্রোমোজোম, তাই মোট ক্রোমাটিড = ৪ × ২ = ৮। এই ৮টি ক্রোমাটিড ২টি বাইভ্যালেন্টে ভাগ হয়ে থাকে, প্রতিটিতে ৪টি।
সমস্যা ৩: টেলোফেজ I-এর পরে প্রতিটি কোষে
অ্যানাফেজ I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম আলাদা হয়ে প্রতিটি কোষে n = ২টি ক্রোমোজোম যায়, কিন্তু সিস্টার ক্রোমাটিড এখনও জোড়া লাগানো। তাই প্রতিটি কোষে ক্রোমাটিড সংখ্যা = ২ × ২ = ৪।
সমস্যা ৪: টেলোফেজ II-এর পরে প্রতিটি কোষে
অ্যানাফেজ II-এ সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে যায়, তাই প্রতিটি চূড়ান্ত কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা = n = ২, প্রতিটি একক ক্রোমাটিডের। মোট চারটি কোষ, প্রতিটিতে ২টি করে, সব মিলিয়ে ২ × ৪ = ৪ = মাতৃকোষের সমান ক্রোমোজোম-সমতুল্য চার কোষে ছড়িয়ে গেল।
সমস্যা ৫: সিমুলেশনের কোষে সম্ভাব্য গ্যামেট সমাহার
স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র 2ⁿ প্রয়োগ করলে, n = ২ জোড়ার জন্য সম্ভাব্য ভিন্ন ক্রোমোজোম সমাহার = 2^২ = ৪। ক্রসিং ওভার যুক্ত হলে সংখ্যাটা আরও বাড়বে।
সমস্যা ৬: মানুষের কোষে বাইভ্যালেন্ট ও সমাহার
মানুষের 2n = ৪৬, তাই n = ২৩ আর বাইভ্যালেন্ট সংখ্যা = ২৩। শুধু স্বাধীন বিন্যাস থেকেই সম্ভাব্য গ্যামেট সমাহার = 2^২৩ = ৮৩,৮৮,৬০৮—আট মিলিয়নের বেশি, ক্রসিং ওভার আলাদা।
সমস্যা ৭: ড্রসোফিলা মাছির কোষে
ফল মাছি ড্রসোফিলার 2n = ৮, তাই n = ৪ আর সম্ভাব্য গ্যামেট সমাহার = 2^৪ = ১৬। মানুষের চেয়ে জোড়া কম, তাই সম্ভাব্য সমাহারও কম—কিন্তু শূন্য নয়।
সমস্যা ৮: মটর গাছে (মেন্ডেলের উদ্ভিদ)
মেন্ডেলের মটর গাছের 2n = ১৪, তাই n = ৭ আর সম্ভাব্য গ্যামেট সমাহার = 2^৭ = ১২৮। এই বিশাল সংখ্যক সমাহারই মেন্ডেলের একই গাছ থেকে বহু ভিন্ন সন্তান গাছ পাওয়ার একটা কারণ।
সমস্যা ৯: একটি শুক্রাণুকোষ ও একটি ডিম্বাণুকোষ থেকে
একটি প্রাথমিক শুক্রাণুকোষ (স্পার্মাটোসাইট) মিয়োসিস শেষে ৪টি কার্যকর শুক্রাণু দেয়, সবগুলোই কার্যকর। একটি প্রাথমিক ডিম্বাণুকোষ (ওওসাইট) একই বিভাজনে মোট ৪টি কোষ দেয়, কিন্তু তার মধ্যে ১টি বড় কার্যকর ডিম্বাণু আর ৩টি ছোট পোলার বডি (যা কার্যকর জনন কোষ হয় না)। সাইটোপ্লাজম সমান ভাগ না হওয়াই এই পার্থক্যের কারণ।
যে ভুলগুলো সবাই করে
এই ভুলগুলো এড়ালে মিয়োসিসের প্রশ্নে নম্বর কাটার ভয় থাকে না।
- মেটাফেজ I-তে একক ক্রোমোজোম সারিবদ্ধ হয় ভাবা। আসলে জোড়া (বাইভ্যালেন্ট) সারিবদ্ধ হয়; একক ক্রোমোজোম সারিবদ্ধ হয় মেটাফেজ II-এ।
- অ্যানাফেজ I-কে অ্যানাফেজ II-এর মতো ভাবা। অ্যানাফেজ I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম আলাদা হয় (সেন্ট্রোমিয়ার অক্ষত), অ্যানাফেজ II-এ সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা হয় (সেন্ট্রোমিয়ার ভাঙে)।
- ক্রসিং ওভার আর স্বাধীন বিন্যাসকে একই ঘটনা ভাবা। প্রথমটা একটি বাইভ্যালেন্টের ভেতরে ক্রোমাটিডের অংশ বদল, দ্বিতীয়টা আলাদা আলাদা বাইভ্যালেন্ট কোন মেরুতে যাবে তার এলোমেলো নির্ধারণ।
- মিয়োসিসে চারটি কোষ সবসময় সমান আকারের ভাবা। শুক্রাণুতে তা সত্যি, কিন্তু ডিম্বাণু তৈরিতে সাইটোপ্লাজম অসমান ভাগ হয়ে একটি বড় ডিম্বাণু আর কয়েকটি ছোট পোলার বডি হয়।
- মিয়োসিস I আর II-এর মধ্যে নতুন DNA অনুলিপন হয় ভাবা। মিয়োসিসে DNA অনুলিপন হয় মাত্র একবার, মিয়োসিস I শুরুর আগে S দশায়।
বাস্তব জীবনে মিয়োসিস
মিয়োসিস কেবল বইয়ের অধ্যায় না, প্রতিটি নতুন প্রজন্মের চেহারা কেমন হবে তার নিয়ম এখানেই লেখা।
- মানব প্রজনন: শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে মিয়োসিসের মাধ্যমেই শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি হয়, যা নিষেকের পর নতুন মানুষের সূচনা করে।
- ফসলের নতুন জাত: কৃষিবিজ্ঞানীরা মিয়োসিসের সময় ক্রসিং ওভার ও স্বাধীন বিন্যাসের সুবিধা নিয়ে সংকরায়ণে নতুন গুণসম্পন্ন ফসলের জাত তৈরি করেন।
- জিনগত রোগ নির্ণয়: মিয়োসিসে ক্রোমোজোম ঠিকভাবে ভাগ না হলে (নন-ডিসজাংশন) ডাউন সিনড্রোমের মতো অবস্থা হতে পারে; ভ্রূণের ক্রোমোজোম পরীক্ষায় এই জ্ঞান কাজে লাগে।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: বিপন্ন প্রাণীর প্রজনন কর্মসূচিতে জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার হিসাব মিয়োসিসের স্বাধীন বিন্যাসের ধারণা থেকেই আসে।
- বংশগতি পরামর্শ: সন্তানের সম্ভাব্য জিনগত গঠন নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মিয়োসিস আর মেন্ডেলের নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়।
পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC
HSC জীববিজ্ঞানের কোষ বিভাজন অধ্যায়ে মিয়োসিস নিয়মিত আসে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নে সংজ্ঞা, অনুধাবনে “মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয় কেন” বা “ক্রসিং ওভার কীভাবে বৈচিত্র্য আনে”, আর প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতায় মাইটোসিস-মিয়োসিস তুলনা বা সংখ্যাগত হিসাব থাকে।
একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: একটি প্রাণীর দেহকোষে 2n = ৪টি ক্রোমোজোম আছে। এই কোষ মিয়োসিস বিভাজনে অংশ নিয়ে জনন কোষ তৈরি করল।
ক) সিন্যাপসিস কাকে বলে? খ) ক্রসিং ওভার কোন ধাপে ঘটে, ব্যাখ্যা করো। গ) উদ্দীপকের কোষে মেটাফেজ I-এ বাইভ্যালেন্ট সংখ্যা নির্ণয় করো। ঘ) “মিয়োসিসে তৈরি চারটি জনন কোষ একে অপরের থেকে ভিন্ন”—উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
গ-এর উত্তর: n = ৪/২ = ২, তাই বাইভ্যালেন্ট সংখ্যা = ২। ঘ-এর মূল কথা: ক্রসিং ওভার (নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের অংশ বদল) আর স্বাধীন বিন্যাস (মেটাফেজ I-এ এলোমেলো মেরু নির্ধারণ) মিলে প্রতিটি জনন কোষের জিন সমাহার আলাদা করে দেয়, তাই উক্তিটি যথার্থ।
রিভিশন: শেষ মুহূর্তের সারসংক্ষেপ
পরীক্ষার আগে শুধু এই তালিকা আর মাইটোসিস-মিয়োসিস সারণিটা একবার দেখে নিলেই যথেষ্ট।
- মিয়োসিস: একটি ডিপ্লয়েড (2n) কোষ থেকে দুই বিভাজনে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ তৈরি হয়; সিমুলেশনে ৪ → ২।
- মিয়োসিস I = হ্রাস বিভাজন: প্রোফেজ I-এ সিন্যাপসিস ও ক্রসিং ওভার, মেটাফেজ I-এ জোড়া সারিবদ্ধ, অ্যানাফেজ I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম আলাদা।
- মিয়োসিস II = সমীকরণিক বিভাজন: প্রতিটি কোষে একক ক্রোমোজোম সারিবদ্ধ (মেটাফেজ II), সিস্টার ক্রোমাটিড আলাদা (অ্যানাফেজ II)।
- ক্রসিং ওভার আর স্বাধীন বিন্যাস মিলে বৈচিত্র্য তৈরি করে; n জোড়ায় সম্ভাব্য সমাহার = 2ⁿ।
- মাইটোসিস: একবার বিভাজন, দুটি অভিন্ন ডিপ্লয়েড কোষ। মিয়োসিস: দুইবার বিভাজন, চারটি ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ।
- DNA অনুলিপন মিয়োসিসে হয় মাত্র একবার, মিয়োসিস I-এর আগে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
মিয়োসিস কাকে বলে?
যে কোষ বিভাজনে একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ পরপর দুবার ভাগ হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ তৈরি করে, তাকে মিয়োসিস বলে। সিমুলেশনে ৪ → ২।
মিয়োসিস কয়টি ধাপে সম্পন্ন হয়?
দুটি প্রধান বিভাজনে: মিয়োসিস I (প্রোফেজ I, মেটাফেজ I, অ্যানাফেজ I, টেলোফেজ I) আর মিয়োসিস II (প্রোফেজ II, মেটাফেজ II, অ্যানাফেজ II, টেলোফেজ II), মোট আটটি ধাপ, শুরুর ইন্টারফেজ আলাদা।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মূল পার্থক্য কী?
মাইটোসিসে একবার বিভাজনে দুটি অভিন্ন ডিপ্লয়েড কোষ হয়; মিয়োসিসে দুইবার বিভাজনে চারটি জিনগতভাবে ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ হয়, যার মাঝে ক্রসিং ওভার ঘটে।
ক্রসিং ওভার কী ও কখন ঘটে?
প্রোফেজ I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ডিএনএ অংশ বদলকে ক্রসিং ওভার বলে; এটাই জনন কোষে নতুন জিন সমাহার তৈরি করে।
ক্রোমোজোম সংখ্যা কোন ধাপে অর্ধেক হয়?
অ্যানাফেজ I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম আলাদা হয়ে টেলোফেজ I-এ দুটি কোষ তৈরি হওয়ার সময় সংখ্যা 2n থেকে n হয়ে যায়; মিয়োসিস II-এ সংখ্যা আর বদলায় না।
সিন্যাপসিস ও বাইভ্যালেন্ট কী?
প্রোফেজ I-এ দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম কাছে এসে শক্তভাবে জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস বলে; জোড়া বাঁধা কাঠামোকে বলে বাইভ্যালেন্ট বা টেট্রাড, যাতে চারটি ক্রোমাটিড থাকে।
মিয়োসিসের চারটি অপত্য কোষ কি একরকম?
না। ক্রসিং ওভার আর স্বাধীন বিন্যাসের কারণে চারটি কোষের জিন সমাহার একে অপরের থেকে ও মাতৃকোষ থেকে ভিন্ন হয়, যদিও ক্রোমোজোম সংখ্যা সবগুলোতে সমান (n)।
মিয়োসিস মানবদেহের কোথায় ঘটে?
পুরুষে শুক্রাশয়ে (শুক্রাণু তৈরি) এবং নারীতে ডিম্বাশয়ে (ডিম্বাণু তৈরি)। উদ্ভিদে পরাগধানী ও গর্ভাশয়ে একই প্রক্রিয়া ঘটে।
মিয়োসিস না হলে কী সমস্যা হতো?
জনন কোষ মাইটোসিসে তৈরি হলে ক্রোমোজোম সংখ্যা কমত না; নিষেকের পর প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত, যা কোষের কাজ ব্যাহত করত।
নন-ডিসজাংশন কী?
অ্যানাফেজে ক্রোমোজোম বা ক্রোমাটিড ঠিকভাবে আলাদা না হয়ে একই মেরুতে চলে যাওয়াকে নন-ডিসজাংশন বলে; এতে জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা বেশি বা কম হয়ে যায়, যেমন ডাউন সিনড্রোমে অতিরিক্ত একটি ২১ নম্বর ক্রোমোজোম থাকে।
এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা
অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।
HSC
এইচএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি ২০২৬-২৭
SSC
এসএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভর্তি
গুচ্ছ (GST) বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭
English
Composition: Climate Change (ইংরেজিতে)
বাংলা
রচনা: জলবায়ু পরিবর্তন
SSC
এসএসসি সাজেশন
HSC
এইচএসসি সাজেশন
ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড
SSC
এসএসসি সিলেবাস
HSC
এইচএসসি সিলেবাস
আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন
SSC · HSC
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
মাইটোসিস কাকে বলে, কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী? প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ও সাইটোকাইনেসিস চলমান চিত্রে দেখো, ক্রোমোজোম গোনার নিয়মসহ।
SSC · HSC
ব্যাপন ও অভিস্রবণ
ব্যাপন ও অভিস্রবণ কাকে বলে, এদের মধ্যে পার্থক্য, প্লাজমোলাইসিস, রসস্ফীতি ও ইমবাইবিশন: কণার সিমুলেশনে নিজে দেখে সহজ ভাষায় শেখো, উদাহরণ ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।
SSC · HSC
মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ
হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, লাব-ডাব শব্দ আর চলমান ইসিজি একসাথে দেখো। দ্বিচক্রী সংবহন, হৃৎচক্র ও কার্ডিয়াক আউটপুট শেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র
মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।
HSC
ডিএনএ রেপ্লিকেশন
ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।
SSC · HSC
কোষীয় শ্বসন
কোষীয় শ্বসন কাকে বলে, সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য, গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব: মাইটোকন্ড্রিয়ার অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও গণনা করো।
SSC · HSC
এনজাইম ক্রিয়া
এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।
SSC · HSC
স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল
প্রান্তিক মাত্রা (−৫৫ mV) পার হলেই অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়ে অ্যাক্সন বেয়ে ছোটে, তারপর সিন্যাপসে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয় — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া
বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে মাত্র দেড় লিটার মূত্র তৈরি করে কীভাবে? গ্লোমেরুলাসে ছাঁকন, নালিকায় পুনঃশোষণ আর গ্লুকোজের প্রান্তিক মাত্রা — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC
পরিপাকতন্ত্র
পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।
অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন
পদার্থবিজ্ঞান
আলোর প্রতিসরণ
পদার্থবিজ্ঞান
ওহমের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাসের গতি
পদার্থবিজ্ঞান
সরল দোলক
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎ ক্ষেত্র
পদার্থবিজ্ঞান
তরঙ্গের ব্যতিচার
পদার্থবিজ্ঞান
পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
নিউটনের গতির সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ
পদার্থবিজ্ঞান
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
পদার্থবিজ্ঞান
নততল
রসায়ন
পরমাণুর গঠন
রসায়ন
এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল
রসায়ন
ইলেকট্রন বিন্যাস
রসায়ন
গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
রসায়ন
আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়
রসায়ন
তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র
রসায়ন
সমযোজী বন্ধন
রসায়ন
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
গণিত
পিথাগোরাসের উপপাদ্য
গণিত
ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত
গণিত
দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র
গণিত
বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য
গণিত
দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ
গণিত
সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা
গণিত
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
গণিত






















