যেকোনো ঘরে চাপ দিয়ে সেই মৌলের মান দেখো
নিয়ন্ত্রণ
ধর্ম বেছে নাও
পরিমাপ
- মৌল
- O — অক্সিজেন
- পারমাণবিক সংখ্যা, Z
- ৮
- পর্যায়
- ২
- গ্রুপ
- ১৬
- ইলেকট্রোনেগেটিভিটি
- ৩.৪৪
- শ্রেণি
- অধাতু
- মান
- ০.৮২ – ৩.৯৮
সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে
- শুরুতে ধর্ম “ইলেকট্রোনেগেটিভিটি”-তেই রেখে শুধু দেখো: সাদা ঘরটা পর্যায় ২ জুড়ে বাম থেকে ডানে (Li থেকে Ne) চলে যায়, তারপর গ্রুপ ১ বরাবর নিচে (Li → Na → K) নামে।
- “প্রবণতার তীর দেখাও” বন্ধ করে আবার চালু করো: ওপরের আর বাঁ পাশের তীর দুটো দেখো, প্রতিটির পাশে লেখা থাকে “বাড়ছে” না “কমছে”।
- সরাসরি ক্লোরিনের ঘরে চাপ দাও: ট্যুর থেমে যাবে, আর পরিমাপ প্যানেলে ক্লোরিনের প্রকৃত মান আটকে থাকবে।
- ধর্ম বদলে “পারমাণবিক ব্যাসার্ধ” বেছে নাও, রিসেট চাপো: এবার ওপরের তীরের রং আর দিক বদলে গেছে, কারণ ব্যাসার্ধ পর্যায়ে কমে।
- ধর্ম “আয়নিকরণ শক্তি”-তে দিয়ে বেরিলিয়াম আর বোরনের ঘরে একের পর এক চাপ দাও: সংখ্যা দুটো সোজা নিয়ম ভাঙে, ব্যতিক্রমটা নিচে ব্যাখ্যা করা আছে।
দোকানের সোডিয়াম বাতি আর ঘরের অক্সিজেন সিলিন্ডার
রাস্তার হলুদ সোডিয়াম বাতি, হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার, আর তোমার ব্যাগের অ্যালুমিনিয়াম বোতল — তিনটাই আলাদা মৌল, আলাদা ধর্ম। সোডিয়াম পানিতে ফেললে বিস্ফোরিত হয়, অক্সিজেন নিজে জ্বলে না কিন্তু জ্বলতে সাহায্য করে, অ্যালুমিনিয়াম হালকা কিন্তু মজবুত। এই ধর্মগুলো এলোমেলো নয় — পর্যায় সারণিতে মৌলটার ঠিকানা দেখলেই আগে থেকে বলে দেওয়া যায় সে কেমন আচরণ করবে।
ভাবো, কেউ তোমাকে না বলেই যদি প্রশ্ন করে, সোডিয়াম (Na) আর পটাশিয়াম (K) — কোনটা পানির সাথে বেশি তীব্রভাবে বিক্রিয়া করবে? পর্যায় সারণির একই কলামে (গ্রুপ ১) থাকা এই দুই মৌলের উত্তর একনজরেই বলা যায়, যদি তুমি জানো নিচের দিকে নামলে ধাতুর সক্রিয়তা কীভাবে বদলায়। এই পাতাই তোমাকে সেই “একনজরে বলে দেওয়ার” নিয়মগুলো শেখাবে।
মজার ব্যাপার হলো, ১৮৬৯ সালে দিমিত্রি মেন্দেলিভ যখন প্রথম পর্যায় সারণি সাজান, তখনও অনেক মৌল আবিষ্কারই হয়নি। তবু তিনি ফাঁকা ঘর রেখে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, এখানে যে মৌল বসবে তার ধর্ম হবে এমন এমন। বছর কয়েক পরে গ্যালিয়াম আবিষ্কার হলো, আর তার ধর্ম মেন্দেলিভের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে চমকে দেওয়ার মতো মিলে গেল। এই ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষমতাই পর্যায়বৃত্ত ধর্মের আসল জোর।
একদম শুরু থেকে: পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কাকে বলে
পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো পারমাণবিক সংখ্যার (Z) ক্রম অনুসারে সাজানো, সারিতে সারিতে। একটা আনুভূমিক সারিকে বলে পর্যায় (period), আর একটা লম্বালম্বি কলামকে বলে গ্রুপ (group)। এই সিমুলেশনে প্রথম ৩৬টি মৌল আছে — অর্থাৎ পর্যায় ১ থেকে ৪ (হাইড্রোজেন থেকে ক্রিপ্টন) আর ১৮টি গ্রুপ, ঠিক আসল পর্যায় সারণির প্রথম চার সারি।
যেসব ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম মৌলের পর্যায় বা গ্রুপ বদলানোর সাথে সাথে একটা নির্দিষ্ট, অনুমানযোগ্য নিয়মে বাড়ে বা কমে, তাদেরই বলে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম (periodic trend বা periodic property)। এই সিমুলেশন এমন চারটি ধর্ম দেখায়: পারমাণবিক ব্যাসার্ধ, আয়নিকরণ শক্তি, ইলেকট্রোনেগেটিভিটি (যাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতাও বলা হয়) আর ধাতব ধর্ম।
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম এলোমেলো নয়, কারণ একই পর্যায়ে বা একই গ্রুপে থাকা মৌলগুলোর পরমাণুর গঠনে একটা সাধারণ সুতো থাকে। একই পর্যায়ের সব মৌলের ইলেকট্রন একই সংখ্যক শক্তিস্তরে (শেল) থাকে, শুধু সেই শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়ে। একই গ্রুপের সব মৌলের বাইরের শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা এক, শুধু শক্তিস্তরের সংখ্যা বাড়ে। এই দুই সুতো ধরেই সব পর্যায়বৃত্ত ধর্মের ব্যাখ্যা দাঁড়ায়।
উদাহরণ হিসেবে, লিথিয়াম, সোডিয়াম আর পটাশিয়াম (গ্রুপ ১) — তিনজনেরই বাইরের শক্তিস্তরে ঠিক ১টি ইলেকট্রন, তাই তিনজনেরই ধর্ম একই রকম (নরম ধাতু, পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া)। কিন্তু লিথিয়াম, বেরিলিয়াম, বোরন (পর্যায় ২) — তিনজনের বাইরের শক্তিস্তর একই (দ্বিতীয়), তবে ইলেকট্রন সংখ্যা আলাদা (১, ২, ৩), তাই ধর্মও আলাদা। এই সিমুলেশনের ৩৬টি মৌল ঠিক এই দুটো নিয়মেই সাজানো।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো
সূত্রে যাওয়ার আগে শব্দগুলো ঝালিয়ে নিই। পরীক্ষার সংজ্ঞামূলক প্রশ্ন এখান থেকেই আসে।
| শব্দ | সহজ ভাষায় অর্থ | একক / স্কেল |
|---|---|---|
| পারমাণবিক ব্যাসার্ধ | একটা পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে বাইরের ইলেকট্রন পর্যন্ত আনুমানিক দূরত্ব | পিকোমিটার (pm) |
| আয়নিকরণ শক্তি | গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণু থেকে এক মোল ইলেকট্রন সরিয়ে ধনাত্মক আয়নে বদলাতে যে শক্তি লাগে | kJ/mol |
| ইলেকট্রোনেগেটিভিটি | বন্ধনের ভাগাভাগি ইলেকট্রন জোড়াকে একটি পরমাণু কতটা জোরে টানে, তার তুলনামূলক মাপ | পাউলিং স্কেল (একক নেই) |
| ধাতব ধর্ম | ইলেকট্রন ছেড়ে ধনাত্মক আয়ন গড়ার আর ক্ষারীয় অক্সাইড বানানোর প্রবণতা | শ্রেণিগত (ধাতু/উপধাতু/অধাতু/নিষ্ক্রিয়) |
| কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ, Zeff | ভেতরের ইলেকট্রনের আড়াল সরিয়ে বাইরের ইলেকট্রন প্রকৃতপক্ষে যে টান অনুভব করে | একক নেই |
| আড়াল প্রভাব (shielding) | ভেতরের শক্তিস্তরের ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের টান কিছুটা ঠেকিয়ে রাখে | একক নেই |
| পর্যায় | পর্যায় সারণির একটি আনুভূমিক সারি; একই সারির সব মৌলের শক্তিস্তর সংখ্যা এক | — |
| গ্রুপ | পর্যায় সারণির একটি লম্বালম্বি কলাম; একই কলামের সব মৌলের বাইরের ইলেকট্রন সংখ্যা এক | — |
কেন এই ধর্মগুলো বদলায়: কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ ও আড়াল
নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা (Z) যত বেশি, ধনাত্মক টান তত বেশি — এটা সহজ। কিন্তু বাইরের একটা ইলেকট্রন পুরো Z-এর টান সরাসরি অনুভব করে না, কারণ তার আর নিউক্লিয়াসের মাঝে বসে থাকা ভেতরের ইলেকট্রনগুলো কিছুটা টান আড়াল করে দেয় (ঋণাত্মক ইলেকট্রন, ঋণাত্মক ইলেকট্রনকে কিছুটা ঠেকায়)। বাইরের ইলেকট্রন যে প্রকৃত টান পায়, তাকে বলে কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ বা Zeff।
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে প্রতিটা নতুন মৌলে একটা প্রোটন আর একটা ইলেকট্রন যোগ হয়, কিন্তু নতুন ইলেকট্রনটা একই বাইরের শক্তিস্তরে বসে — আগের ভেতরের আড়াল প্রায় একই থাকে। ফল: Zeff পর্যায় জুড়ে বাম থেকে ডানে বাড়তেই থাকে, আর বাইরের ইলেকট্রনগুলো আরও জোরে টানা পড়ে, কাছে চলে আসে।
একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচে নামলে প্রতিটা নতুন মৌলে পুরো একটা নতুন ভেতরের শক্তিস্তর যুক্ত হয়। Z বাড়ে, কিন্তু আড়ালও প্রায় সমান হারে বাড়ে (নতুন পুরো একটা কোর শক্তিস্তর), তাই Zeff মোটামুটি একই থাকে। তখন প্রধান খেলোয়াড় হয়ে যায় দূরত্ব: বাইরের ইলেকট্রন এখন নিউক্লিয়াস থেকে আরও দূরের একটা শক্তিস্তরে বসে, তাই টান কম অনুভব করে।
এই একটামাত্র ব্যাখ্যা — Zeff বাড়ে না কমে, আর দূরত্ব বাড়ে কি কমে — সিমুলেশনের চারটি ধর্মের প্রায় সব প্রবণতা ব্যাখ্যা করে দেয়। নিচের প্রতিটি ভাগে এই যুক্তিই ফিরে ফিরে আসবে।
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ: টান বাড়লে পরমাণু ছোট হয়
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ মানে পরমাণুর আকারের একটা মাপ — নিউক্লিয়াস থেকে বাইরের ইলেকট্রন শক্তিস্তর পর্যন্ত আনুমানিক দূরত্ব, একক পিকোমিটার (pm), যা মিটারের এক লক্ষ কোটি ভাগের একভাগ।
পর্যায় জুড়ে: ব্যাসার্ধ কমে
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে Zeff বাড়ে কিন্তু শক্তিস্তর সংখ্যা একই থাকে, তাই নিউক্লিয়াস বাইরের ইলেকট্রনগুলোকে আরও জোরে ভেতরে টেনে নেয় — পরমাণু ছোট হয়ে যায়। পর্যায় ৩-এ সোডিয়াম থেকে আর্গন পর্যন্ত: Na ১৫৫ pm, Mg ১৩৯ pm, Al ১২৬ pm, Si ১১৬ pm, P ১১১ pm, S ১০৩ pm, Cl ৯৯ pm, Ar ৯৬ pm — একটানা কমছে।
সোডিয়াম থেকে ক্লোরিনে ব্যাসার্ধ ১৫৫ pm থেকে ৯৯ pm হয়ে যায়, অর্থাৎ প্রায় ৩৬.১% কমে যায় — অথচ দুটোই তৃতীয় পর্যায়ের মৌল, প্রায় একই সংখ্যক শক্তিস্তর নিয়ে।
গ্রুপ বরাবর নিচে: ব্যাসার্ধ বাড়ে
একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচে নামলে প্রতিবার একটা নতুন ভেতরের শক্তিস্তর যুক্ত হয়, তাই বাইরের ইলেকট্রন নিউক্লিয়াস থেকে দূরে সরে যায় আর Zeff প্রায় একই থাকে। গ্রুপ ১-এ: Li ১৩৩ pm, Na ১৫৫ pm, K ১৯৬ pm — লিথিয়াম থেকে পটাশিয়ামে ব্যাসার্ধ প্রায় ১.৪৭ গুণ বেড়ে যায়।
তুলনা করার জন্য: এই ৩৬টি মৌলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট পরমাণু হাইড্রোজেনের, ৩২ pm, আর সবচেয়ে বড় পটাশিয়ামের, ১৯৬ pm — পটাশিয়ামের পরমাণু হাইড্রোজেনের চেয়ে প্রায় ৬.১৩ গুণ বড়।
ব্যতিক্রম: d-ব্লকে ব্যাসার্ধ প্রায় স্থির থাকে
স্ক্যান্ডিয়াম থেকে জিংক পর্যন্ত (পর্যায় ৪-এর d-ব্লক) নতুন ইলেকট্রনগুলো বাইরের নয়, একটু ভেতরের (n−1)d উপশক্তিস্তরে ঢোকে। ফলে Zeff-এর বৃদ্ধি খুব ধীর হয়ে যায় আর ব্যাসার্ধ কমতে কমতে প্রায় স্থির হয়ে যায়: Sc ১৪৮ pm, Cr ১২২ pm, Ni ১১০ pm, তারপর Cu আর Zn-এ সামান্য বেড়ে যায় (১১২ pm আর ১১৮ pm) কারণ d উপশক্তিস্তর পূর্ণ হয়ে গিয়ে বাড়তি আড়াল দেয়। এটাই সরল বাম-থেকে-ডানে নিয়মের প্রথম বড় ব্যতিক্রম।
আয়নিকরণ শক্তি: শক্ত করে ধরে রাখা ইলেকট্রন সরাতে বেশি শক্তি লাগে
আয়নিকরণ শক্তি (প্রথম আয়নিকরণ শক্তি, IE₁) মানে গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণু থেকে সবচেয়ে দুর্বলভাবে ধরে রাখা এক মোল ইলেকট্রন সরিয়ে এক মোল ধনাত্মক আয়নে বদলাতে যে শক্তি লাগে, একক kJ/mol।
পর্যায় জুড়ে: আয়নিকরণ শক্তি বাড়ে
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ যেখানে কমে, ঠিক তার উল্টো ঘটনা এখানে: Zeff বাড়লে ইলেকট্রন আরও শক্ত করে ধরা থাকে, তাই তাকে সরাতে আরও বেশি শক্তি লাগে। এই কারণেই আয়নিকরণ শক্তি আর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ সবসময় বিপরীত দিকে চলে — একটা বাড়লে অন্যটা কমে, দুটোই একই Zeff-এর গল্প বলে, শুধু উল্টো পাশ থেকে।
পুরো এই ৩৬টি মৌলের মধ্যে সবচেয়ে কম আয়নিকরণ শক্তি পটাশিয়ামের, ৪১৮.৮ kJ/mol (তার একমাত্র বাইরের ইলেকট্রনটা সবচেয়ে দূরে, সবচেয়ে আলগাভাবে ধরা), আর সবচেয়ে বেশি হিলিয়ামের, ২,৩৭২.৩ kJ/mol (তার দুটো ইলেকট্রনই সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে আঁটোসাঁটো শক্তিস্তরে বসে আছে)।
গ্রুপ বরাবর নিচে: আয়নিকরণ শক্তি কমে
ব্যাসার্ধের মতো একই যুক্তি: নিচের দিকে নামলে বাইরের ইলেকট্রন আরও দূরের শক্তিস্তরে চলে যায়, নিউক্লিয়াসের টান কম অনুভব করে, তাই তাকে সরাতে কম শক্তি লাগে। এই জন্যই লিথিয়ামের চেয়ে সোডিয়ামের, সোডিয়ামের চেয়ে পটাশিয়ামের আয়নিকরণ শক্তি কম — আর ঠিক এই কারণেই পটাশিয়াম পানির সাথে সোডিয়ামের চেয়েও বেশি তীব্র বিক্রিয়া করে, ইলেকট্রনটা আরও সহজে ছেড়ে দেয়।
ব্যতিক্রম: পূর্ণ ও অর্ধপূর্ণ উপশক্তিস্তরের বাড়তি স্থিতিশীলতা
একটা সহজ নিয়ম বলবে বেরিলিয়ামের চেয়ে বোরনের আয়নিকরণ শক্তি বেশি হওয়া উচিত (বোরনের Z বেশি), কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টো: Be = ৮৯৯.৫ kJ/mol, B = ৮০০.৬ kJ/mol — বেরিলিয়ামেরটাই প্রায় ৯৮.৯ kJ/mol বেশি। কারণ বেরিলিয়ামের বাইরের উপশক্তিস্তর (2s²) পূর্ণ, আর এমন পূর্ণ উপশক্তিস্তর বাড়তি স্থিতিশীল, ভাঙতে বেশি শক্তি লাগে। বোরনের একলা 2p¹ ইলেকট্রনটা তুলনায় সহজেই সরে যায়।
ঠিক একই কারণে নাইট্রোজেনের আয়নিকরণ শক্তি অক্সিজেনের চেয়ে বেশি: N = ১,৪০২.৩ kJ/mol, O = ১,৩১৩.৯ kJ/mol, পার্থক্য প্রায় ৮৮.৪ kJ/mol। নাইট্রোজেনের 2p³ উপশক্তিস্তর ঠিক অর্ধপূর্ণ (প্রতিটা অরবিটালে একটা করে ইলেকট্রন), আর অর্ধপূর্ণ উপশক্তিস্তরও বাড়তি স্থিতিশীল। অক্সিজেনের চতুর্থ ইলেকট্রনটা একটা অরবিটালে জোড়া বাঁধতে বাধ্য হয়, আর জোড়া ইলেকট্রন দুটো একে অপরকে কিছুটা ঠেলে দেয়, তাই সরানো তুলনায় সহজ।
তৃতীয় পর্যায়েও একই প্যাটার্ন হুবহু ফিরে আসে: Mg (2s²-এর মতো 3s²) = ৭৩৭.৭ kJ/mol, Al (3p¹) = ৫৭৭.৫ kJ/mol, পার্থক্য ১৬০.২ kJ/mol; আর P (3p³, অর্ধপূর্ণ) = ১,০১১.৮ kJ/mol, S (3p⁴) = ৯৯৯.৬ kJ/mol, পার্থক্য ১২.২ kJ/mol। একবার নিয়মটা ধরতে পারলে দুই পর্যায়েই এক নিয়মে মেলে।
ইলেকট্রোনেগেটিভিটি: কে বেশি জোরে টানে
ইলেকট্রোনেগেটিভিটি মানে একটা বন্ধনে ভাগাভাগি করা ইলেকট্রন জোড়াকে একটা পরমাণু কতটা জোরে নিজের দিকে টানে, তার তুলনামূলক মাপ। এটা কোনো একক দিয়ে মাপা কোনো বল না, বরং লিনাস পাউলিং ১৯৩২ সালে যে স্কেল বানান (পাউলিং স্কেল), তাতে ফ্লুরিনকে সর্বোচ্চ ৩.৯৮ ধরে সব মৌলের মান তুলনামূলকভাবে বসানো হয়েছে।
পর্যায় জুড়ে: ইলেকট্রোনেগেটিভিটি বাড়ে
Zeff বাড়ার সরাসরি ফল: নিউক্লিয়াস যত জোরে টানে, বন্ধনের ভাগাভাগি জোড়াকেও তত জোরে টানবে। পর্যায় ২-এ: Li ০.৯৮, Be ১.৫৭, B ২.০৪, C ২.৫৫, N ৩.০৪, O ৩.৪৪, F ৩.৯৮ — লিথিয়াম থেকে ফ্লুরিন পর্যন্ত একটানা বাড়ছে। ফ্লুরিনই এই স্কেলে (এবং পুরো পর্যায় সারণিতে) সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রোনেগেটিভ মৌল।
গ্রুপ বরাবর নিচে: ইলেকট্রোনেগেটিভিটি কমে
দূরত্ব বাড়ায় বাইরের ইলেকট্রন জোড়ার ওপর নিউক্লিয়াসের টান কমে যায়, তাই একই গ্রুপে নিচে নামলে ইলেকট্রোনেগেটিভিটি কমে। এই ৩৬টি মৌলের মধ্যে সবচেয়ে কম ইলেকট্রোনেগেটিভিটি পটাশিয়ামের, ০.৮২ (মান নির্ধারিত মৌলগুলোর মধ্যে), আর সবচেয়ে বেশি ফ্লুরিনের, ৩.৯৮ — পুরো বিস্তার প্রায় ৩.১৬।
হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গনের কোনো মান নেই কেন
নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো (He, Ne, Ar) প্রায় কখনো বন্ধন গড়ে না, কারণ তাদের বাইরের শক্তিস্তর এমনিতেই পূর্ণ। পাউলিং যে স্কেল বানিয়েছিলেন তা বন্ধন-শক্তির পরিমাপ থেকে গণনা করা, তাই যে মৌল বন্ধনই গড়ে না, তার জন্য এই স্কেলে কোনো মান বসানো যায় না। এই সিমুলেশনে তাই তাদের ঘরে “মান নির্ধারিত নয়” লেখা থাকে, শূন্য নয়।
ধাতব ধর্ম: ইলেকট্রন ছাড়ার সহজতা
ধাতব ধর্ম বলে কোনো একক পদার্থগত রাশি নেই, তাই এই সিমুলেশনে একে একটা শ্রেণিগত স্কোরে দেখানো হয়েছে: ধাতু = ১.০০, উপধাতু = ০.৫৫, অধাতু = ০.২০, নিষ্ক্রিয় গ্যাস = ০.০৫। এই স্কোর বলে দেয় একটা মৌল কতটা সহজে ইলেকট্রন ছেড়ে ধনাত্মক আয়ন গড়তে আর ক্ষারীয় (ভিত্তিক) অক্সাইড বানাতে পারে।
ধাতব ধর্মের প্রবণতা আসলে কম আয়নিকরণ শক্তির প্রবণতার আরেক রূপ: আয়নিকরণ শক্তি যত কম, ইলেকট্রন ছাড়া তত সহজ, ধাতব ধর্ম তত বেশি। তাই ধাতব ধর্ম পর্যায়ে ডানে গেলে কমে, গ্রুপে নিচে নামলে বাড়ে — ঠিক আয়নিকরণ শক্তির বিপরীত। সোডিয়াম (ধাতু, স্কোর ১.০০) আর ক্লোরিন (অধাতু, স্কোর ০.২০) — পার্থক্য ০.৮০, ঠিক এই বিশাল পার্থক্যের কারণেই দুজনে মিলে আয়নিক বন্ধন গড়ে, ইলেকট্রন হাতবদল হয়ে যায়।
একটা মৌল স্পষ্ট ধাতু না স্পষ্ট অধাতু, তার মাঝামাঝি বসে থাকে উপধাতু (metalloid) — যেমন বোরন, সিলিকন, জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক। এরা কিছুটা ধাতুর মতো (চকচকে) আবার কিছুটা অধাতুর মতো (তড়িৎ কম চালায়) আচরণ করে, আর ঠিক এই আধা-চালকতার জন্যই সিলিকন কম্পিউটার চিপের ভিত্তি।
সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো
খাতা-কলম নিয়ে বসো। প্রতিটি পরীক্ষা আগে অনুমান করো, তারপর চালিয়ে মিলিয়ে দেখো।
- ধর্ম “পারমাণবিক ব্যাসার্ধ” রেখে সোডিয়াম থেকে ক্লোরিন পর্যন্ত একে একে চাপ দাও, প্রতিটার মান লিখে রাখো, দেখো একটানা কমছে কি না।
- ধর্ম “আয়নিকরণ শক্তি”-তে বেরিলিয়াম আর বোরনে পর্যায়ক্রমে চাপ দাও: বোরনের মান বেরিলিয়ামের চেয়ে কম দেখে চমকে যাবে, এটাই ব্যতিক্রম।
- “ধাতব ধর্ম” বেছে নিয়ে সোডিয়াম আর ক্লোরিনের রং তুলনা করো: হিটম্যাপে দুটো ঘর একদম বিপরীত প্রান্তের রঙে থাকবে।
- “ইলেকট্রোনেগেটিভিটি”-তে হিলিয়াম, নিয়ন বা আর্গনে চাপ দাও: পরিমাপ প্যানেলে “মান নির্ধারিত নয়” দেখবে, শূন্য নয়।
- প্লে চেপে ট্যুরটা পুরোটা চলতে দাও, তারপর “প্রবণতার তীর দেখাও” চালু রেখে প্রতিটা ধর্মের জন্য দুটো তীরের রং (বাড়ছে না কমছে) নোট করো।
গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান
প্রতিটি সমাধানে প্রথমে দরকারি মান, তারপর যুক্তি, তারপর হিসাব। সব মানই সিমুলেশনের নিজের উপাত্ত থেকে নেওয়া, আলাদা করে মুখস্থ করার দরকার নেই।
সমস্যা ১: সোডিয়াম থেকে ক্লোরিনে ব্যাসার্ধ কত শতাংশ কমল
দেওয়া আছে: Na-এর ব্যাসার্ধ ১৫৫ pm, Cl-এর ব্যাসার্ধ ৯৯ pm, দুটোই পর্যায় ৩-এ।
শতকরা কমা = (Na − Cl) ÷ Na × ১০০ = (১৫৫ − ৯৯) ÷ ১৫৫ × ১০০ ≈ ৩৬.১%। এত কম দূরত্বে (একই পর্যায়ে পাশাপাশি) এত বড় পরিবর্তন দেখায় Zeff-এর প্রভাব কতটা জোরালো।
সমস্যা ২: লিথিয়াম থেকে পটাশিয়ামে ব্যাসার্ধ কত গুণ বাড়ল
দেওয়া আছে: Li = ১৩৩ pm, K = ১৯৬ pm, একই গ্রুপ ১-এ।
গুণ = K ÷ Li = ১৯৬ ÷ ১৩৩ ≈ ১.৪৭। তুলনায়, পুরো ৩৬টি মৌলের সবচেয়ে ছোট (H, ৩২ pm) আর সবচেয়ে বড় (K, ১৯৬ pm) পরমাণুর অনুপাত প্রায় ৬.১৩ গুণ।
সমস্যা ৩: বেরিলিয়াম-বোরন ব্যতিক্রমের সংখ্যায় প্রমাণ
দেওয়া আছে: Be-এর IE₁ = ৮৯৯.৫ kJ/mol, B-এর IE₁ = ৮০০.৬ kJ/mol।
পার্থক্য = ৮৯৯.৫ − ৮০০.৬ ≈ ৯৮.৯ kJ/mol, বেরিলিয়ামেরই বেশি — যদিও বোরনের পারমাণবিক সংখ্যা বেশি। কারণ ইতিমধ্যে বলা হয়েছে: বেরিলিয়ামের পূর্ণ 2s² উপশক্তিস্তর।
সমস্যা ৪: নাইট্রোজেন-অক্সিজেন ব্যতিক্রমের সংখ্যায় প্রমাণ
দেওয়া আছে: N-এর IE₁ = ১,৪০২.৩ kJ/mol, O-এর IE₁ = ১,৩১৩.৯ kJ/mol।
পার্থক্য = ১,৪০২.৩ − ১,৩১৩.৯ ≈ ৮৮.৪ kJ/mol। নাইট্রোজেনের অর্ধপূর্ণ 2p³ উপশক্তিস্তরের বাড়তি স্থিতিশীলতাই এই উল্টো ফলের কারণ।
সমস্যা ৫: একই ব্যতিক্রম তৃতীয় পর্যায়ে
দেওয়া আছে: Mg-এর IE₁ = ৭৩৭.৭ kJ/mol, Al-এর IE₁ = ৫৭৭.৫ kJ/mol; আর P-এর IE₁ = ১,০১১.৮ kJ/mol, S-এর IE₁ = ৯৯৯.৬ kJ/mol।
দুই পার্থক্যই বলে একই গল্প: Mg − Al ≈ ১৬০.২ kJ/mol (পূর্ণ 3s² বনাম একলা 3p¹), আর P − S ≈ ১২.২ kJ/mol (অর্ধপূর্ণ 3p³ বনাম জোড়াবাঁধা 3p⁴)। পর্যায় ২ আর ৩-এ ব্যতিক্রম হুবহু একই নিয়মে ঘটে।
সমস্যা ৬: NaCl বনাম H₂O-র বন্ধনে ΔEN তুলনা
দেওয়া আছে: Na-এর En = ০.৯৩, Cl-এর En = ৩.১৬; H-এর En = ২.২০, O-এর En = ৩.৪৪।
NaCl-এ ΔEN = ৩.১৬ − ০.৯৩ ≈ ২.২৩ (আয়নিক বন্ধন)। H₂O-র O–H বন্ধনে ΔEN = ৩.৪৪ − ২.২০ ≈ ১.২৪ (পোলার সমযোজী বন্ধন)। বড় ΔEN আয়নিক দিকে ঠেলে দেয়, ছোট ΔEN সমযোজী দিকে রাখে।
সমস্যা ৭: সোডিয়াম-ক্লোরিনের ধাতব-স্কোর পার্থক্য
দেওয়া আছে: ধাতুর স্কোর ১.০০, অধাতুর স্কোর ০.২০।
পার্থক্য = ১.০০ − ০.২০ = ০.৮০, ০ থেকে ১-এর স্কেলে প্রায় সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পার্থক্য — বোঝা যায় কেন সোডিয়াম ও ক্লোরিনের রাসায়নিক আচরণ এত আলাদা।
সমস্যা ৮: পুরো ডেটাসেটে আয়নিকরণ শক্তির বিস্তার
দেওয়া আছে: সর্বনিম্ন IE₁ = ৪১৮.৮ kJ/mol (K), সর্বোচ্চ = ২,৩৭২.৩ kJ/mol (He)।
বিস্তার = ২,৩৭২.৩ − ৪১৮.৮ ≈ ১,৯৫৩.৫ kJ/mol। এত বড় ফাঁক বোঝায়, প্রথম ৩৬টি মৌলের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু আর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন-আচরণ কতটা বিপরীত।
যে ভুলগুলো সবাই করে
এই ভুলগুলো এড়ালে পর্যায়বৃত্ত ধর্মের ধারণামূলক ও গাণিতিক প্রশ্নে নম্বর কাটার ভয় থাকে না।
- সব ধর্ম একই দিকে বাড়ে বা কমে ভাবা। ব্যাসার্ধ আর ধাতব ধর্ম পর্যায়ে ডানে গেলে কমে, কিন্তু আয়নিকরণ শক্তি ও ইলেকট্রোনেগেটিভিটি বাড়ে — উল্টো জোড়া।
- ব্যতিক্রমগুলো (Be–B, N–O, Mg–Al, P–S) দেখে ভাবা প্রবণতাটাই ভুল। প্রবণতা ঠিক আছে, শুধু পূর্ণ বা অর্ধপূর্ণ উপশক্তিস্তরের বাড়তি স্থিতিশীলতা মাঝে মাঝে সাধারণ নিয়মকে ছাপিয়ে যায়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি শূন্য ভাবা। আসলে পাউলিং স্কেলে তাদের কোনো মানই নির্ধারিত নয়, শূন্য নয়।
- কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ আর পারমাণবিক সংখ্যা গুলিয়ে ফেলা। Z হলো মোট প্রোটন, Zeff হলো আড়াল বাদ দেওয়ার পরে বাইরের ইলেকট্রন যে টান আসলে পায়।
- d-ব্লকে ব্যাসার্ধ সাধারণ পর্যায়ের নিয়মেই কমবে ভাবা। স্ক্যান্ডিয়াম থেকে জিংক পর্যন্ত ব্যাসার্ধ প্রায় স্থির থাকে, একদম শেষে সামান্য বেড়েও যায়।
- ধাতব ধর্ম আর ধাতুর ঘনত্ব বা কঠোরতা এক ভাবা। এখানে ধাতব ধর্ম মানে শুধু ইলেকট্রন ছেড়ে আয়ন গড়ার আর ক্ষারীয় অক্সাইড বানানোর রাসায়নিক প্রবণতা।
বাস্তব জীবনে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম শুধু পরীক্ষার জন্য না, চারপাশের অনেক প্রযুক্তি আর প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাখ্যা এখানেই।
- লবণ শিল্প ও ব্যাটারি: সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো কম আয়নিকরণ শক্তির ধাতু সহজে আয়ন গড়ে, তাই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ভেতরে চার্জ পরিবহনে কাজে লাগে।
- জীবাণুনাশক ও পানি বিশুদ্ধিকরণ: ক্লোরিনের উচ্চ ইলেকট্রোনেগেটিভিটি আর সক্রিয়তা একে শক্তিশালী জীবাণুনাশক বানায়, পানির ট্যাংক ও সুইমিং পুলে ব্যবহৃত হয়।
- কম্পিউটার চিপ: সিলিকন ও জার্মেনিয়াম উপধাতু, ধাতু আর অধাতুর মাঝামাঝি তড়িৎ-চালকতা রাখে বলেই সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
- নিয়ন সাইনবোর্ড: নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো বন্ধন গড়ে না বলেই টিউবের ভেতর আলাদা আলাদা রঙের আলো দিতে পারে, প্রতিক্রিয়া করে গ্যাস হারায় না।
- অ্যান্টাসিড ও চুন: ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো ধাতু ক্ষারীয় অক্সাইড ও হাইড্রক্সাইড গড়ে, যা পেটের অতিরিক্ত অম্ল প্রশমনে কাজে লাগে।
পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC
SSC রসায়নের চতুর্থ অধ্যায় (পর্যায় সারণি) আর HSC-র প্রথম পত্রে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নিয়মিত আসে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নে সংজ্ঞা, অনুধাবনে “কেন কমে/বাড়ে” যুক্তি, আর প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতায় দুটো মৌলের তুলনা বা ব্যতিক্রম ব্যাখ্যার সৃজনশীল প্রশ্ন থাকে।
একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: রুবিনা লক্ষ করল, পর্যায় সারণিতে সোডিয়াম আর ক্লোরিন একই পর্যায়ে (৩) থাকলেও তাদের ধর্ম সম্পূর্ণ বিপরীত — একটা ধাতু, অন্যটা অধাতু।
ক) কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ কাকে বলে? খ) একই পর্যায়ে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমে কেন, ব্যাখ্যা করো। গ) সোডিয়াম ও ক্লোরিনের ইলেকট্রোনেগেটিভিটির পার্থক্য নির্ণয় করো। ঘ) “বেরিলিয়ামের আয়নিকরণ শক্তি বোরনের চেয়ে বেশি হওয়া পর্যায়বৃত্ত ধর্মের নিয়মের ব্যতিক্রম নয়” — উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
গ-এর উত্তর: ΔEN = ৩.১৬ − ০.৯৩ ≈ ২.২৩। ঘ-এর মূল কথা: সাধারণ নিয়ম Zeff-নির্ভর, কিন্তু পূর্ণ উপশক্তিস্তরের বাড়তি স্থিতিশীলতা একটা আলাদা, সমান বৈধ কারণ; দুটোই একসাথে সত্য, তাই এটা নিয়ম ভাঙা নয়, নিয়মের দ্বিতীয় স্তর।
রিভিশন: শেষ মুহূর্তের সারসংক্ষেপ
পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই তালিকা আর ওপরের গ্লসারি টেবিলটা একবার দেখে নিলেই যথেষ্ট।
- পর্যায়বৃত্ত ধর্ম: পর্যায় বা গ্রুপ বদলানোর সাথে সাথে নির্দিষ্ট নিয়মে বদলানো ধর্ম।
- মূল কারণ: কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ (Zeff) পর্যায়ে ডানে বাড়ে, গ্রুপে নিচে নামলে প্রায় একই থাকে (কিন্তু দূরত্ব বাড়ে)।
- পর্যায়ে ডানে গেলে: ব্যাসার্ধ কমে, আয়নিকরণ শক্তি বাড়ে, ইলেকট্রোনেগেটিভিটি বাড়ে, ধাতব ধর্ম কমে।
- গ্রুপে নিচে নামলে: ব্যাসার্ধ বাড়ে, আয়নিকরণ শক্তি কমে, ইলেকট্রোনেগেটিভিটি কমে, ধাতব ধর্ম বাড়ে।
- ব্যতিক্রম: পূর্ণ (Be, Mg) বা অর্ধপূর্ণ (N, P) উপশক্তিস্তরের বাড়তি স্থিতিশীলতা আয়নিকরণ শক্তিতে সাধারণ নিয়ম উল্টে দেয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি নির্ধারিত নয়, শূন্য নয়। d-ব্লকে ব্যাসার্ধ প্রায় স্থির থাকে।
- বড় ΔEN আয়নিক বন্ধনের দিকে, ছোট ΔEN সমযোজী বন্ধনের দিকে নিয়ে যায় — এই পাতা আগের দুই বন্ধনের পাতার সাথে সরাসরি যুক্ত।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম কাকে বলে?
মৌলসমূহের যেসব ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম পর্যায় সারণির পর্যায় বা গ্রুপ বদলানোর সাথে সাথে একটা নির্দিষ্ট, অনুমানযোগ্য নিয়মে বাড়ে বা কমে, তাদের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে। যেমন পারমাণবিক ব্যাসার্ধ, আয়নিকরণ শক্তি, ইলেকট্রোনেগেটিভিটি ও ধাতব ধর্ম।
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে কমে কেন?
বাম থেকে ডানে গেলে নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা বাড়ে কিন্তু শক্তিস্তর সংখ্যা একই থাকে, তাই কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ (Zeff) বাড়ে আর বাইরের ইলেকট্রনগুলো আরও জোরে ভেতরে টানা পড়ে, পরমাণু ছোট হয়ে যায়।
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ একই গ্রুপে ওপর থেকে নিচে বাড়ে কেন?
নিচে নামলে প্রতিবার একটা নতুন ভেতরের শক্তিস্তর যুক্ত হয়, বাইরের ইলেকট্রন নিউক্লিয়াস থেকে দূরে সরে যায়, আর Zeff প্রায় একই থাকে, তাই দূরত্বই মূল ফ্যাক্টর হয়ে যায়।
আয়নিকরণ শক্তি কাকে বলে?
গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণু থেকে সবচেয়ে দুর্বলভাবে ধরে রাখা এক মোল ইলেকট্রন সরিয়ে এক মোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি প্রয়োজন, তাকে (প্রথম) আয়নিকরণ শক্তি বলে, একক kJ/mol।
বেরিলিয়ামের আয়নিকরণ শক্তি বোরনের চেয়ে বেশি কেন, যদিও বোরনের Z বেশি?
বেরিলিয়ামের বাইরের উপশক্তিস্তর (2s²) পূর্ণ, আর পূর্ণ উপশক্তিস্তর বাড়তি স্থিতিশীল হয়। বোরনের একলা 2p¹ ইলেকট্রনটা তুলনায় কম স্থিতিশীল, তাই সহজে সরে যায়, আয়নিকরণ শক্তি কম হয়।
ইলেকট্রোনেগেটিভিটি কাকে বলে এবং সবচেয়ে বেশি কার?
একটা রাসায়নিক বন্ধনে ভাগাভাগি ইলেকট্রন জোড়াকে একটা পরমাণু কতটা জোরে নিজের দিকে টানে, তার তুলনামূলক মাপকে ইলেকট্রোনেগেটিভিটি বলে (পাউলিং স্কেল)। পুরো পর্যায় সারণিতে সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রোনেগেটিভিটি ফ্লুরিনের, প্রায় ৩.৯৮।
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি নির্ধারিত নয় কেন?
পাউলিং স্কেল বন্ধন গড়ার শক্তি থেকে গণনা করা, আর হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন প্রায় কখনো বন্ধন গড়ে না (বাইরের শক্তিস্তর এমনিতেই পূর্ণ), তাই তাদের জন্য এই স্কেলে কোনো মান বসানো সম্ভব হয় না।
ধাতব ধর্ম কাকে বলে এবং এটি কীভাবে বদলায়?
ইলেকট্রন ছেড়ে ধনাত্মক আয়ন গড়ার আর ক্ষারীয় অক্সাইড বানানোর প্রবণতাকে ধাতব ধর্ম বলে। এটি কম আয়নিকরণ শক্তির সাথে যুক্ত, তাই পর্যায়ে ডানে গেলে কমে আর গ্রুপে নিচে নামলে বাড়ে — আয়নিকরণ শক্তির ঠিক বিপরীত।
পর্যায়বৃত্ত ধর্মের সব ব্যতিক্রম কি ভুল, নাকি নিয়মেরই অংশ?
নিয়মেরই অংশ। সাধারণ প্রবণতা কার্যকর নিউক্লিয় চার্জ দিয়ে ব্যাখ্যা হয়, কিন্তু পূর্ণ (Be, Mg) বা অর্ধপূর্ণ (N, P) উপশক্তিস্তরের বাড়তি স্থিতিশীলতা একটা আলাদা, সমান বৈধ প্রভাব যা মাঝে মাঝে সাধারণ প্রবণতাকে ছাপিয়ে যায়।
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম আয়নিক ও সমযোজী বন্ধনের সাথে কীভাবে যুক্ত?
দুই মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটির পার্থক্য (ΔEN) বড় হলে (যেমন সোডিয়াম আর ক্লোরিনে) একটা ধাতু ইলেকট্রন পুরোপুরি ছেড়ে দেয়, আয়নিক বন্ধন গড়ে। ΔEN ছোট হলে (যেমন হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনে) দুই অধাতু ইলেকট্রন জোড়া ভাগাভাগি করে, সমযোজী বন্ধন গড়ে।
এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা
অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।
HSC
এইচএসসি রসায়ন: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
ভর্তি
ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
SSC
এসএসসি রসায়ন: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন বই
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভর্তি
ঢাবি বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭
English
Paragraph: Environment Pollution (ইংরেজিতে)
বাংলা
রচনা: পরিবেশ দূষণ
English
Composition: Wonders of Modern Science (ইংরেজিতে)
SSC
এসএসসি সাজেশন
HSC
এইচএসসি সাজেশন
ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড
SSC
এসএসসি সিলেবাস
HSC
এইচএসসি সিলেবাস
আরও রসায়ন অ্যানিমেশন
SSC · HSC
পরমাণুর গঠন
পরমাণুর গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন, পারমাণবিক সংখ্যা, ভরসংখ্যা, আইসোটোপ ও ইলেকট্রন বিন্যাস। নিজে পরমাণু বানিয়ে দেখো, গাণিতিক উদাহরণসহ।
SSC · HSC
এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল
pH কি বা কাকে বলে, pH স্কেল কীভাবে কাজ করে, এসিড ও ক্ষারকের পার্থক্য, নির্দেশক ও প্রশমন বিক্রিয়া: বুরেট থেকে ফোঁটা ফেলে নিজে টাইট্রেশন করে দেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
ইলেকট্রন বিন্যাস
ইলেকট্রন বিন্যাস কাকে বলে, লেখার সহজ নিয়ম, আউফবাউ, পাউলির বর্জন ও হুন্ডের নীতি, Cr-Cu ব্যতিক্রম, আয়ন: ইলেকট্রন একটি একটি করে বসতে দেখো, ১-৩৬ মৌলের তালিকাসহ।
SSC · HSC
গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, চাপীয় সূত্র, অ্যাভোগেড্রোর সূত্র ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT: পিস্টন টেনে নিজে দেখো, লেখচিত্র, R-এর মান ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়
আয়নিক বন্ধন কাকে বলে, কীভাবে ধাতুর ইলেকট্রন অধাতুতে গিয়ে আয়ন তৈরি করে, আর সংকেত কীভাবে চার্জ মিলিয়ে বের হয়: NaCl, MgO, CaCl₂ বেছে নিয়ে নিজে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র
তড়িৎ বিশ্লেষণ কাকে বলে, ক্যাথোড-অ্যানোডে কী উৎপন্ন হয়, আর ফ্যারাডের সূত্রে ভর কীভাবে হিসাব হয়: গলিত NaCl, CuSO₄ বা অম্লীভূত পানি বেছে নিয়ে নিজে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
সমযোজী বন্ধন
সমযোজী বন্ধন কাকে বলে, একক-দ্বি-ত্রিবন্ধন কীভাবে গঠিত হয়, অক্টেট নিয়ম কী: H₂O, NH₃, CH₄, CO₂ অণুর ডট-ক্রস চিত্র সিমুলেশনে নিজে বানিয়ে দেখো, পোলারিটিসহ।
অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন
পদার্থবিজ্ঞান
আলোর প্রতিসরণ
পদার্থবিজ্ঞান
ওহমের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাসের গতি
পদার্থবিজ্ঞান
সরল দোলক
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎ ক্ষেত্র
পদার্থবিজ্ঞান
তরঙ্গের ব্যতিচার
পদার্থবিজ্ঞান
পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
নিউটনের গতির সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ
পদার্থবিজ্ঞান
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
পদার্থবিজ্ঞান
নততল
জীববিজ্ঞান
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান
ব্যাপন ও অভিস্রবণ
জীববিজ্ঞান
সালোকসংশ্লেষণ
জীববিজ্ঞান
মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ
জীববিজ্ঞান
মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র
জীববিজ্ঞান
ডিএনএ রেপ্লিকেশন
জীববিজ্ঞান
কোষীয় শ্বসন
জীববিজ্ঞান
এনজাইম ক্রিয়া
জীববিজ্ঞান
স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল
জীববিজ্ঞান
নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া
জীববিজ্ঞান
মিয়োসিস কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান
পরিপাকতন্ত্র
গণিত
পিথাগোরাসের উপপাদ্য
গণিত
ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত
গণিত
দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র
গণিত
বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য
গণিত
দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ
গণিত
সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা
গণিত
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
গণিত






















