মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

গোলীয় দর্পণের রশ্মি চিত্র: বস্তু সরাও, প্রতিবিম্ব খোঁজো

গোলীয় দর্পণ হলো কোনো ফাঁপা গোলকের একটি অংশ, যার একপাশ চকচকে করে প্রতিফলক বানানো। ভেতরের দিক প্রতিফলক হলে অবতল দর্পণ, যা আলো কাছে টানে; বাইরের দিক প্রতিফলক হলে উত্তল দর্পণ, যা আলো ছড়িয়ে দেয়। নিচে বস্তু সরিয়ে দেখো প্রতিবিম্ব কোথায়, কেমন আর কত বড় হয়।

বস্তুর তীরটি টেনে প্রধান অক্ষ বরাবর সরাও

বস্তুআপতিত রশ্মিপ্রতিফলিত রশ্মিদর্পণের পেছনে বাড়ানো রেখাপ্রতিবিম্বচিহ্ন প্রথা: বাস্তব ধনাত্মক (1/u + 1/v = 1/f = 2/r, m = v/u)। অবাস্তব প্রতিবিম্বের v ঋণাত্মক, উত্তল দর্পণের f ঋণাত্মক।
গতি

নিয়ন্ত্রণ

দর্পণের ধরন

৩০.০ cm
১০.০ cm
৫.০ cm

বস্তু কোথায় রাখবে (অবতল দর্পণ)

পরিমাপ

বস্তু দূরত্ব, u
৩০.০cm
প্রতিবিম্ব দূরত্ব, v
১৫.০cm
ফোকাস দূরত্ব, f
১০.০cm
বক্রতার ব্যাসার্ধ, r
২০.০cm
বিবর্ধন, m = v/u
০.৫০
প্রতিবিম্বের উচ্চতা, h′ = m × h
২.৫cm
প্রতিবিম্বের প্রকৃতি
বাস্তব, উল্টো, খর্বিত

সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে

  1. “দর্পণের ধরন” থেকে অবতল, উত্তল বা সমতল দর্পণ বেছে নাও। প্রধান অক্ষের ওপর মেরু P, প্রধান ফোকাস F আর বক্রতার কেন্দ্র C চিহ্নিত আছে।
  2. বস্তুর নীল তীরটি মাউস বা আঙুল দিয়ে টেনে প্রধান অক্ষ বরাবর সরাও, অথবা “বস্তু দূরত্ব” স্লাইডার ব্যবহার করো।
  3. অবতল দর্পণে “বস্তু কোথায় রাখবে” বোতামগুলো চেপে পাঠ্যবইয়ের ছয়টি অবস্থান এক ক্লিকে দেখো: অসীমে, C-এর বাইরে, C-তে, F ও C-এর মাঝে, F-এ আর F ও P-এর মাঝে।
  4. “ফোকাস দূরত্ব” স্লাইডার সরালে বক্রতার ব্যাসার্ধ r = 2f নিজে থেকেই বদলায়, তাই F আর C দুটোই একসাথে সরে যায়।
  5. কমলা রেখা আপতিত রশ্মি, লাল রেখা প্রতিফলিত রশ্মি। প্রতিফলিত রশ্মি সত্যিই দর্পণের সামনে মিললে সবুজ প্রতিবিম্ব কঠিন রেখায় (বাস্তব); শুধু দর্পণের পেছনে বাড়ানো ড্যাশ রেখায় মিললে ড্যাশ দিয়ে (অবাস্তব) আঁকা হয়।
  6. পরিমাপ প্যানেলে u, v, f, r, বিবর্ধন m আর প্রতিবিম্বের প্রকৃতি দেখো, আর নিচের গাণিতিক উদাহরণগুলোর সাথে মিলিয়ে নাও।

চামচের পিঠে উল্টো মুখ: দর্পণের রহস্য তোমার খাবার টেবিলেই

একটা চকচকে স্টিলের চামচ হাতে নাও। চামচের ভেতরের গর্তের দিকে তাকাও, দেখবে তোমার মুখটা উল্টো হয়ে গেছে, মাথা নিচে আর থুতনি ওপরে। এবার চামচটা উল্টে পিঠের দিকে তাকাও, মুখটা সোজা, কিন্তু ছোট আর একটু মোটা দেখাচ্ছে। একই চামচ, দুই পাশে দুই রকম ছবি। এর কারণ হলো চামচের ভেতরটা একটা অবতল দর্পণ আর পিঠটা একটা উত্তল দর্পণের মতো কাজ করে।

এবার চামচটা খুব ধীরে ধীরে চোখের কাছে আনো। একটা জায়গায় এসে উল্টো মুখটা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাবে, তারপর আরও কাছে আনলে সোজা আর বড় একটা ছবি দেখা যাবে। এই যে বস্তু দূরত্ব বদলালে প্রতিবিম্ব উল্টো থেকে সোজা হয়ে যায়, এটাই এই পাতার মূল গল্প। উপরের সিমুলেশনে তুমি ঠিক এই পরীক্ষাটা ধাপে ধাপে করে দেখতে পারবে।

দর্পণ শুধু চামচে না, তোমার চারপাশে ছড়িয়ে আছে। বাসার আয়না সমতল দর্পণ। রিকশা, বাস আর মোটরসাইকেলের পাশের আয়না উত্তল দর্পণ। দাঁতের ডাক্তারের ছোট্ট আয়না, দাড়ি কামানোর আয়না আর টর্চের পেছনের চকচকে বাটি অবতল দর্পণ। তিনটা সহজ নিয়ম জানলেই তুমি কাগজে কয়েকটা সরল রেখা টেনে বলে দিতে পারবে এদের প্রতিবিম্ব কোথায় হবে, সোজা না উল্টো, বড় না ছোট।

একদম শুরু থেকে: আলোর প্রতিফলনের দুটি সূত্র

আলো যখন কোনো মসৃণ চকচকে তলে পড়ে আবার আগের মাধ্যমেই ফিরে আসে, তখন তাকে আলোর প্রতিফলন বলে। যে তলে প্রতিফলন হয় তাকে প্রতিফলক বা দর্পণ বলে। কাচের এক পাশে পারদ বা রুপার প্রলেপ দিয়ে সাধারণ আয়না বানানো হয়, প্রলেপের জন্য আলো কাচ পেরিয়ে যেতে না পেরে ফিরে আসে।

প্রতিফলনের দুটি সূত্র আছে, আর গোলীয় দর্পণেও এই দুটোই কাজ করে। প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর আঁকা অভিলম্ব আর প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। দ্বিতীয় সূত্র: আপতন কোণ প্রতিফলন কোণের সমান, অর্থাৎ i = r।

গোলীয় দর্পণে সমস্যা হলো তলটা বাঁকা, তাই প্রতিটা বিন্দুতে অভিলম্বের দিক আলাদা। মজার ব্যাপার হলো, গোলকের যেকোনো বিন্দুতে অভিলম্ব সবসময় গোলকের কেন্দ্র দিয়ে যায়। তাই বক্রতার কেন্দ্র থেকে দর্পণের যেকোনো বিন্দু পর্যন্ত টানা রেখাটাই সেই বিন্দুর অভিলম্ব। এই একটা তথ্য থেকেই পরের সব নিয়ম বেরিয়ে আসে।

গোলীয় দর্পণ দুই রকম। একটা ফাঁপা রাবারের বল কেটে একটা টুকরা নাও। টুকরার ভেতরের দিক (গর্তের দিক) চকচকে হলে সেটা অবতল দর্পণ, আর বাইরের দিক (ফোলা দিক) চকচকে হলে সেটা উত্তল দর্পণ। অবতল দর্পণ সমান্তরাল রশ্মিকে একটা বিন্দুতে মিলিয়ে দেয়, তাই একে অভিসারী দর্পণ বলে। উত্তল দর্পণ সমান্তরাল রশ্মিকে ছড়িয়ে দেয়, তাই একে অপসারী দর্পণ বলে।

গোলীয় দর্পণের গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো

রশ্মি চিত্র আঁকার আগে কয়েকটা শব্দ পরিষ্কার করে নিই। SSC-র জ্ঞানমূলক প্রশ্নে “কাকে বলে” এখান থেকেই আসে, আর সিমুলেশনের প্রতিটা চিহ্নও এগুলোই।

শব্দপ্রতীকসহজ ভাষায় অর্থ
মেরুPদর্পণের প্রতিফলক তলের ঠিক মাঝের বিন্দু; সব দূরত্ব এখান থেকে মাপা হয়
বক্রতার কেন্দ্রCদর্পণটি যে ফাঁপা গোলকের অংশ, সেই গোলকের কেন্দ্র
বক্রতার ব্যাসার্ধrসেই গোলকের ব্যাসার্ধ, অর্থাৎ মেরু থেকে বক্রতার কেন্দ্রের দূরত্ব PC
প্রধান অক্ষ—মেরু ও বক্রতার কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া সরলরেখা (চিত্রের আনুভূমিক রেখা)
প্রধান ফোকাসFপ্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর যে বিন্দুতে মেলে (অবতল) বা যে বিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয় (উত্তল)
ফোকাস দূরত্বfমেরু থেকে প্রধান ফোকাসের দূরত্ব PF; f = r/2
উন্মেষ—দর্পণের প্রতিফলক তলের কিনারা থেকে কিনারার দৈর্ঘ্য, অর্থাৎ দর্পণটা কতটা চওড়া
বাস্তব প্রতিবিম্ব—প্রতিফলিত রশ্মি সত্যিই মিলে যে প্রতিবিম্ব তৈরি করে; পর্দায় ফেলা যায়
অবাস্তব প্রতিবিম্ব—প্রতিফলিত রশ্মি শুধু মিলেছে বলে মনে হয় (দর্পণের পেছনে); পর্দায় ফেলা যায় না
বিবর্ধনmপ্রতিবিম্বের উচ্চতা আর বস্তুর উচ্চতার অনুপাত, m = h′/h

ফোকাস দূরত্ব কেন বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক: f = r/2

একটা অবতল দর্পণে প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একটা রশ্মি ধরো, যেটা দর্পণের M বিন্দুতে পড়ল। CM রেখাটা M বিন্দুতে অভিলম্ব, কারণ গোলকের কেন্দ্র থেকে টানা রেখা সবসময় তলের ওপর লম্ব। আপতন কোণ ধরো θ।

আপতিত রশ্মি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল, আর CM একটা ছেদক। তাই একান্তর কোণ হিসেবে ∠MCP = θ। প্রতিফলনের সূত্র অনুযায়ী প্রতিফলিত রশ্মিও অভিলম্বের সাথে θ কোণ করে, আর এটি প্রধান অক্ষকে F বিন্দুতে কাটে। তাহলে ত্রিভুজ FMC-তে দুটি কোণই θ, অর্থাৎ ত্রিভুজটি সমদ্বিবাহু, FM = FC।

দর্পণের উন্মেষ ছোট হলে M বিন্দু মেরু P-এর খুব কাছে থাকে, তাই FM ≈ FP। তখন FP = FC, অর্থাৎ F বিন্দুটা P আর C-এর ঠিক মাঝখানে। সুতরাং PF = PC/2, বা f = r/2। উত্তল দর্পণেও একই যুক্তি খাটে, শুধু F আর C দুটোই দর্পণের পেছনে থাকে।

f = r/2 বা r = 2fছোট উন্মেষের গোলীয় দর্পণের জন্য

f = ১০ cm হলে r = ২০ cmসিমুলেশনের ডিফল্ট দর্পণ

রশ্মি চিত্র আঁকার চারটি সহজ নিয়ম

বস্তুর মাথা থেকে অসংখ্য রশ্মি বের হয়, কিন্তু প্রতিবিম্ব খুঁজতে যেকোনো দুটি রশ্মিই যথেষ্ট। যেখানে দুটি প্রতিফলিত রশ্মি মেলে (বা মিলেছে বলে মনে হয়), সেখানেই বস্তুর মাথার প্রতিবিম্ব। নিচের চারটি রশ্মির পথ আমরা আগে থেকেই জানি, তাই এদের দিয়েই চিত্র আঁকা সহজ।

নিয়ম ১: প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি ফোকাস দিয়ে যায়

অবতল দর্পণে প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর প্রধান ফোকাস F দিয়ে যায়। উত্তল দর্পণে একই রশ্মি এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যেন দর্পণের পেছনের F বিন্দু থেকে আসছে। সিমুলেশনে বস্তুর মাথা থেকে সোজা আনুভূমিক যে রশ্মিটা দর্পণে যাচ্ছে, সেটাই এটা।

নিয়ম ২: ফোকাস দিয়ে আসা রশ্মি সমান্তরাল হয়ে ফেরে

অবতল দর্পণে প্রধান ফোকাস দিয়ে আসা রশ্মি প্রতিফলনের পর প্রধান অক্ষের সমান্তরাল হয়ে ফিরে যায়। এটা নিয়ম ১-এর উল্টো পথ, কারণ আলোর পথ উল্টো দিকেও একই থাকে। উত্তল দর্পণে যে রশ্মি পেছনের F-এর দিকে যেতে চায়, সেটা সমান্তরাল হয়ে ফেরে।

নিয়ম ৩: বক্রতার কেন্দ্র দিয়ে আসা রশ্মি একই পথে ফেরে

বক্রতার কেন্দ্র C দিয়ে যাওয়া রশ্মি দর্পণে অভিলম্বভাবে পড়ে, কারণ C থেকে টানা রেখাই অভিলম্ব। আপতন কোণ শূন্য, তাই প্রতিফলন কোণও শূন্য, রশ্মিটা ঠিক যে পথে এসেছিল সেই পথেই ফিরে যায়। উত্তল দর্পণে যে রশ্মি পেছনের C-এর দিকে যায়, সেটাও একই পথে ফেরে।

নিয়ম ৪: মেরুতে পড়া রশ্মি সমান কোণে ফেরে

মেরু P-তে প্রধান অক্ষটাই অভিলম্ব। তাই মেরুতে তির্যকভাবে পড়া রশ্মি প্রধান অক্ষের অপর পাশে সমান কোণ করে প্রতিফলিত হয়, ঠিক বলটা মেঝেতে ড্রপ খাওয়ার মতো। এই রশ্মি থেকেই বিবর্ধনের সূত্র m = h′/h = v/u সহজে প্রমাণ করা যায়।

অবতল দর্পণে বস্তুর ছয়টি অবস্থান: প্রতিবিম্ব কোথায় ও কেমন

নিচের টেবিলটা SSC পরীক্ষার সবচেয়ে বেশি আসা টেবিলগুলোর একটা। শেষ কলামের সংখ্যাগুলো f = ১০ cm (r = ২০ cm) দর্পণের জন্য দর্পণের সূত্র থেকে হিসাব করা, বাস্তব ধনাত্মক প্রথায়। সিমুলেশনের “বস্তু কোথায় রাখবে” বোতাম চেপে প্রতিটা সারি মিলিয়ে দেখো।

বস্তুর অবস্থানপ্রতিবিম্বের অবস্থানপ্রতিবিম্বের প্রকৃতি ও আকারউদাহরণ (f = ১০ cm)
অসীমে (অনেক দূরে)প্রধান ফোকাস F-এবাস্তব, উল্টো, অত্যন্ত খর্বিত (প্রায় বিন্দু)u → ∞, v = f = ১০
C-এর বাইরেF ও C-এর মাঝেবাস্তব, উল্টো, খর্বিতu = ৩০, v = ১৫, m = ০.৫০
C-তেC-তেবাস্তব, উল্টো, বস্তুর সমানu = ২০, v = ২০, m = ১
F ও C-এর মাঝেC-এর বাইরেবাস্তব, উল্টো, বিবর্ধিতu = ১৫, v = ৩০, m = ২
F-এঅসীমেঅত্যন্ত বিবর্ধিত (প্রতিফলিত রশ্মি সমান্তরাল)প্রতিবিম্ব অসীমে
F ও P-এর মাঝেদর্পণের পেছনেঅবাস্তব, সোজা, বিবর্ধিতu = ৬, v = -১৫, m = -২.৫০

উত্তল দর্পণ ও সমতল দর্পণ: সবসময় একই রকম উত্তর

উত্তল দর্পণে বস্তু যেখানেই রাখো, প্রতিবিম্ব সবসময় দর্পণের পেছনে, মেরু P আর প্রধান ফোকাস F-এর মাঝে, অবাস্তব, সোজা আর খর্বিত হয়। বস্তু যত দূরে যায়, প্রতিবিম্ব তত ছোট হয়ে F-এর দিকে এগোয়, কিন্তু কখনো F পার হয় না। নিচের টেবিলে |f| = ১৫ cm উত্তল দর্পণের জন্য হিসাব দেওয়া হলো (বাস্তব ধনাত্মক প্রথায় উত্তল দর্পণের f = -১৫ cm)।

এই কারণেই গাড়ির পাশের আয়নায় উত্তল দর্পণ লাগানো হয়: ছোট প্রতিবিম্ব মানে অনেক বড় এলাকা একসাথে দেখা যায়, আর প্রতিবিম্ব সবসময় সোজা বলে চালক বিভ্রান্ত হন না। তবে জিনিসগুলো আসলে যতটা কাছে, তার চেয়ে দূরে মনে হয়। তাই অনেক গাড়ির আয়নায় সতর্কবার্তা লেখা থাকে: “আয়নায় দেখা বস্তু আসলে আরও কাছে”।

সমতল দর্পণকে এমন একটা গোলীয় দর্পণ ভাবা যায় যার বক্রতার ব্যাসার্ধ অসীম, তাই ফোকাস দূরত্বও অসীম। সূত্রে 1/f = 0 বসালে v = −u, অর্থাৎ প্রতিবিম্ব দর্পণের ঠিক ততটা পেছনে যতটা সামনে বস্তু, আর m = −1 মানে অবাস্তব, সোজা, সমান আকার। সিমুলেশনে “সমতল দর্পণ” বেছে নিয়ে দেখো, দুটি প্রতিফলিত রশ্মির পেছনে বাড়ানো রেখা ঠিক বস্তুর আয়না-ছবিতে মিলছে।

বস্তু দূরত্ব u (cm)প্রতিবিম্ব দূরত্ব v (cm)বিবর্ধন m = v/u
১০-৬-০.৬০
৩০-১০-০.৩৩
৬০-১২-০.২০

দর্পণের সূত্র: 1/u + 1/v = 1/f = 2/r

রশ্মি চিত্র দিয়ে প্রতিবিম্বের অবস্থান মোটামুটি বোঝা যায়, কিন্তু ঠিক কত সেন্টিমিটার দূরে তা বের করতে দর্পণের সূত্র লাগে। এখানে u বস্তু দূরত্ব, v প্রতিবিম্ব দূরত্ব, f ফোকাস দূরত্ব আর r বক্রতার ব্যাসার্ধ, সবই মেরু থেকে মাপা।

আমাদের পাঠ্যবই “বাস্তব ধনাত্মক” চিহ্ন প্রথা মেনে চলে। নিয়মটা খুব সহজ: বাস্তব বস্তু আর বাস্তব প্রতিবিম্বের দূরত্ব ধনাত্মক, অবাস্তব প্রতিবিম্বের দূরত্ব ঋণাত্মক। অবতল দর্পণের ফোকাস বাস্তব, তাই f ধনাত্মক; উত্তল দর্পণের ফোকাস অবাস্তব (পেছনে), তাই f ঋণাত্মক।

বিবর্ধন m = v/u = h′/h। এই প্রথায় m ধনাত্মক হলে প্রতিবিম্ব বাস্তব ও উল্টো, ঋণাত্মক হলে অবাস্তব ও সোজা। আর |m| > 1 হলে বিবর্ধিত, |m| < 1 হলে খর্বিত, |m| = 1 হলে সমান। সিমুলেশনের পরিমাপ প্যানেলও ঠিক এই প্রথায় সংখ্যা দেখায়।

1/u + 1/v = 1/f = 2/rদর্পণের সূত্র (বাস্তব ধনাত্মক প্রথা)

m = v/u = h′/hরৈখিক বিবর্ধন; ধনাত্মক → বাস্তব ও উল্টো

v = uf/(u − f)সূত্রকে সাজিয়ে সরাসরি v বের করার রূপ

সূত্রটি কোথা থেকে এলো (সংক্ষেপে)

বস্তু AB-কে C-এর বাইরে রাখো, আর প্রতিবিম্ব A′B′ ধরো। মেরুতে পড়া রশ্মি থেকে দুটি সদৃশ ত্রিভুজ পাওয়া যায়, যা থেকে A′B′/AB = PB′/PB = v/u। বক্রতার কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া রশ্মি থেকে আরেক জোড়া সদৃশ ত্রিভুজ পাওয়া যায়, যা থেকে A′B′/AB = CB′/CB = (r − v)/(u − r)।

দুটো সমান করে লিখলে v/u = (r − v)/(u − r)। আড়গুণ করে সাজালে uv + uv = ur + vr, অর্থাৎ 2uv = r(u + v)। দুই পাশকে uvr দিয়ে ভাগ করলে 2/r = 1/u + 1/v, আর r = 2f বসালে 1/u + 1/v = 1/f। HSC-তে এই প্রমাণটা পুরো নম্বরের প্রশ্ন হিসেবে আসতে পারে।

অন্য চিহ্ন প্রথা: নতুন কার্তেসীয় (1/v + 1/u = 1/f)

ভারতের NCERT বই এবং অনেক আন্তর্জাতিক বই নতুন কার্তেসীয় প্রথা মানে। সেখানে সব দূরত্ব মেরু থেকে মাপা হয়, আপতিত আলোর দিকে ধনাত্মক আর উল্টো দিকে ঋণাত্মক। ফলে বস্তু দূরত্ব u সবসময় ঋণাত্মক, অবতল দর্পণের f ঋণাত্মক, উত্তল দর্পণের f ধনাত্মক, আর বিবর্ধন m = −v/u।

যেমন আমাদের উদাহরণ ১-এ কার্তেসীয় প্রথায় u = -৩০ cm, f = -১০ cm, v = -১৫ cm আর m = -০.৫০ আসে। সংখ্যার মান একই, শুধু চিহ্ন আলাদা। SSC ও HSC পরীক্ষায় পাঠ্যবইয়ের বাস্তব ধনাত্মক প্রথাই ব্যবহার করবে, আর একটা প্রশ্নের মাঝখানে কখনো প্রথা বদলাবে না।

সিমুলেশনে যা যা করে দেখবে

নিচের পরীক্ষাগুলো একটা একটা করে করো। প্রতিটার পরে নিজেকে প্রশ্ন করো “কেন এমন হলো?”

পরীক্ষা ১: প্রতিবিম্বের দৌড়

অবতল দর্পণ, f = ১০ cm রেখে বস্তুকে একদম বাম দিক থেকে ধীরে ধীরে দর্পণের দিকে টানো। দেখবে সবুজ উল্টো প্রতিবিম্ব F থেকে শুরু করে C পার হয়ে বামে দৌড়াচ্ছে আর বড় হচ্ছে। বস্তু F-এ পৌঁছালে প্রতিবিম্ব হারিয়ে যায়, F পার হলে দর্পণের পেছনে ড্যাশ দেওয়া সোজা প্রতিবিম্ব হয়ে ফিরে আসে।

পরীক্ষা ২: C-তে সমান আকার

“C-তে” বোতাম চাপো। প্যানেলে u = v = ২০ cm আর m = ১ দেখবে। বস্তু ও প্রতিবিম্ব একই জায়গায়, শুধু প্রতিবিম্বটা উল্টো। এবার ফোকাস দূরত্ব বদলাও, বস্তু আবার C-তে রাখো, ফল একই থাকে কি না দেখো।

পরীক্ষা ৩: উত্তল দর্পণের জেদ

“উত্তল দর্পণ” বেছে বস্তুকে যেখানে খুশি টানো। প্রতিবিম্ব কখনো দর্পণের সামনে আসবে না, কখনো উল্টো হবে না, কখনো বস্তুর চেয়ে বড় হবে না। বিবর্ধনের ঘরটা সবসময় ঋণাত্মক আর তার মান ১-এর কম থাকবে।

পরীক্ষা ৪: সমতল দর্পণে দূরত্বের খেলা

“সমতল দর্পণ” বেছে বস্তু সরাও। প্যানেলে v সবসময় −u আর m সবসময় −১। অর্থাৎ বস্তু দর্পণ থেকে যত দূরে, প্রতিবিম্বও পেছনে তত দূরে, আর আকার বদলায় না।

পরীক্ষা ৫: দাড়ি কামানোর আয়না বানাও

অবতল দর্পণে বস্তুকে F ও P-এর মাঝে রাখো, তারপর ফোকাস দূরত্ব বাড়াও। দেখবে একই বস্তু দূরত্বে বড় f-এর দর্পণ কম বিবর্ধন দেয়, আর বস্তু F-এর যত কাছে যায় সোজা প্রতিবিম্ব তত বড় হয়। মেকআপ আয়না এজন্যই মুখের একটু কাছে ধরতে হয়।

গাণিতিক উদাহরণ (বাস্তব ধনাত্মক প্রথায়)

প্রতিটা উদাহরণে আগে দেওয়া রাশিগুলো লেখো, তারপর সূত্র, তারপর মান বসাও। উদাহরণ ১ সিমুলেশনের ডিফল্ট অবস্থা, তাই পাতা খুললেই প্যানেলে একই উত্তর দেখবে।

উদাহরণ ১: ১০ cm ফোকাস দূরত্বের অবতল দর্পণ থেকে ৩০ cm দূরে বস্তু

দেওয়া আছে u = ৩০ cm, f = ১০ cm। সূত্র থেকে 1/v = 1/f − 1/u = 1/১০ − 1/৩০ = 1/১৫, তাই v = ১৫ cm।

বিবর্ধন m = v/u = ১৫/৩০ = ০.৫০। v ধনাত্মক, তাই প্রতিবিম্ব বাস্তব ও উল্টো, দর্পণের সামনে; m < 1, তাই খর্বিত। বস্তু C-এর বাইরে, প্রতিবিম্ব F ও C-এর মাঝে, ঠিক টেবিলের মতো।

উদাহরণ ২: বস্তু বক্রতার কেন্দ্রে (২০ cm)

r = 2f = ২০ cm, তাই বস্তু C-তে। 1/v = 1/১০ − 1/২০, তাই v = ২০ cm এবং m = ১। প্রতিবিম্ব C-তেই, বাস্তব, উল্টো আর বস্তুর সমান।

উদাহরণ ৩: বস্তু F ও C-এর মাঝে (১৫ cm)

1/v = 1/১০ − 1/১৫, তাই v = ৩০ cm এবং m = ২। প্রতিবিম্ব C-এর বাইরে, বাস্তব, উল্টো ও বিবর্ধিত। দেয়ালে বড় উল্টো ছবি ফেলতে চাইলে বস্তু এখানেই রাখতে হবে।

উদাহরণ ৪: দাড়ি কামানোর আয়না, মুখ ৬ cm দূরে

এবার u = ৬ cm, যা f = ১০ cm-এর চেয়ে কম। 1/v = 1/১০ − 1/৬ ঋণাত্মক, তাই v = -১৫ cm।

v ঋণাত্মক মানে প্রতিবিম্ব অবাস্তব, দর্পণের পেছনে ১৫ cm দূরে। m = v/u = -২.৫০; ঋণাত্মক তাই সোজা, আর |m| > 1 তাই বিবর্ধিত। দাড়ি কামানোর সময় মুখটা বড় আর সোজা দেখায় ঠিক এই কারণে।

উদাহরণ ৫: গাড়ির উত্তল দর্পণ, |f| = ১৫ cm, বস্তু ৩০ cm দূরে

উত্তল দর্পণে f = -১৫ cm। 1/v = 1/f − 1/u = −1/১৫ − 1/৩০, তাই v = -১০ cm।

প্রতিবিম্ব অবাস্তব, দর্পণের পেছনে ১০ cm দূরে, F-এর চেয়ে কাছে; m = -০.৩৩, অর্থাৎ সোজা আর খর্বিত। সিমুলেশনে উত্তল দর্পণ, |f| = ১৫ cm আর বস্তু ৩০ cm দিয়ে মিলিয়ে দেখো।

উদাহরণ ৬: পর্দার প্রতিবিম্ব থেকে ফোকাস দূরত্ব ও বক্রতার ব্যাসার্ধ

ল্যাবে একটা অবতল দর্পণ থেকে ৩৬ cm দূরে মোমবাতি রেখে দর্পণের সামনেই ১৮ cm দূরে পর্দায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব পাওয়া গেল। প্রতিবিম্ব পর্দায় পড়েছে, তাই বাস্তব, v ধনাত্মক।

1/f = 1/৩৬ + 1/১৮, তাই f = ১২ cm এবং r = 2f = ২৪ cm। ব্যবহারিক খাতায় “অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব নির্ণয়” পরীক্ষাটা এভাবেই হয়।

উদাহরণ ৭: প্রতিবিম্বের উচ্চতা

উদাহরণ ৩-এর বস্তুটির উচ্চতা ২ cm হলে প্রতিবিম্বের উচ্চতা h′ = m × h = ২ × ২ = ৪ cm। বাস্তব ধনাত্মক প্রথায় m ধনাত্মক, তাই প্রতিবিম্ব উল্টো, প্রধান অক্ষের নিচে আঁকতে হবে। সিমুলেশনে বস্তুর উচ্চতা ২ cm আর দূরত্ব ১৫ cm করে প্রতিবিম্বের উচ্চতার ঘরটা দেখো।

উদাহরণ ৮: দাঁতের ডাক্তারের আয়নায় ৩ গুণ বড় সোজা প্রতিবিম্ব

f = ১০ cm অবতল দর্পণে দাঁতের ৩ গুণ বড় সোজা প্রতিবিম্ব চাই। সোজা মানে অবাস্তব, তাই এই প্রথায় m = −৩, অর্থাৎ v = −৩u।

সূত্রে বসাই: 1/u − 1/(৩u) = 1/১০। বাম পাশ সরল করলে u = ৬.৬৭ cm, আর v = -২০ cm, মানে প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে ২০ cm দূরে। তাই দাঁত থেকে আয়না F-এর চেয়ে একটু কাছে ধরতে হয়।

উদাহরণ ৯: সমতল দর্পণের সামনে ১.৫০ m দূরে দাঁড়ানো

সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে ১.৫০ m দূরে, তাই তোমার আর তোমার প্রতিবিম্বের দূরত্ব ৩ m। তুমি ০.৫০ m এগিয়ে গেলে নতুন দূরত্ব ২ m, অর্থাৎ প্রতিবিম্ব তোমার দিকে ১ m এগিয়ে এলো, তুমি যতটা হেঁটেছ তার দ্বিগুণ।

অবতল দর্পণ ও উত্তল দর্পণের পার্থক্য

পরীক্ষায় “পার্থক্য লেখো” প্রশ্নের জন্য এক নজরে পুরোটা:

বিষয়অবতল দর্পণউত্তল দর্পণ
প্রতিফলক তলগোলকের ভেতরের (গর্তের) দিকগোলকের বাইরের (ফোলা) দিক
আলোর ওপর প্রভাবঅভিসারী (রশ্মি মিলিয়ে দেয়)অপসারী (রশ্মি ছড়িয়ে দেয়)
প্রধান ফোকাস ও Cদর্পণের সামনে, বাস্তবদর্পণের পেছনে, অবাস্তব
f-এর চিহ্ন (বাস্তব ধনাত্মক প্রথা)ধনাত্মকঋণাত্মক
প্রতিবিম্ববস্তুর অবস্থান অনুযায়ী বাস্তব বা অবাস্তবসবসময় অবাস্তব, সোজা, খর্বিত
ব্যবহারদাড়ি কামানো ও মেকআপ আয়না, দাঁতের ডাক্তারের আয়না, টর্চ ও হেডলাইট, সোলার কুকারগাড়ির পাশের আয়না, রাস্তার বাঁকের আয়না, দোকানের নিরাপত্তা আয়না

যে ভুলগুলো সবাই করে

খাতা দেখতে গিয়ে শিক্ষকেরা বারবার এই ভুলগুলো পান। নিজের উত্তরে এগুলো খুঁজে দেখো।

  • চিহ্ন প্রথা মিশিয়ে ফেলা: বাস্তব ধনাত্মক প্রথায় হঠাৎ u ঋণাত্মক বসানো। আমাদের বইয়ের প্রথায় বাস্তব বস্তুর u সবসময় ধনাত্মক।
  • উত্তল দর্পণের f ধনাত্মক বসানো। বাস্তব ধনাত্মক প্রথায় উত্তল দর্পণের f ঋণাত্মক, কারণ ফোকাস দর্পণের পেছনে, অবাস্তব।
  • r আর f গুলিয়ে ফেলা: প্রশ্নে বক্রতার ব্যাসার্ধ দিলে আগে f = r/2 করে নিতে হয়।
  • রশ্মি চিত্রে দর্পণের পেছনের অংশ কঠিন দাগে আঁকা। অবাস্তব রেখা আর অবাস্তব প্রতিবিম্ব সবসময় ড্যাশ দিয়ে আঁকতে হয়।
  • রশ্মিতে তীরচিহ্ন না দেওয়া, অথবা তীর উল্টো দিকে দেওয়া। আলো বস্তু থেকে দর্পণে যায়, তারপর দর্পণ থেকে ফেরে।
  • বস্তু F-এ থাকলে প্রতিবিম্ব “F-এ” লেখা। আসলে প্রতিফলিত রশ্মি সমান্তরাল হয়, প্রতিবিম্ব অসীমে।
  • উত্তল দর্পণে কখনো বাস্তব বা বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব হয় বলে ধরে নেওয়া। একটা বাস্তব বস্তুর জন্য তা কখনো হয় না।

দৈনন্দিন জীবনে গোলীয় দর্পণ

দাড়ি কামানো ও মেকআপের আয়না: বড় ফোকাস দূরত্বের অবতল দর্পণ। মুখ F-এর ভেতরে থাকে, তাই মুখের সোজা, বড় প্রতিবিম্ব দেখা যায় আর ছোট খুঁটিনাটি পরিষ্কার চোখে পড়ে।

দাঁতের ডাক্তারের আয়না: ছোট হাতলওয়ালা অবতল দর্পণ দাঁতের কাছে ধরা হয়, ফলে দাঁতের সোজা ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব দেখা যায়। নাক-কান-গলার ডাক্তার মাথায় যে গোল আয়না পরেন, সেটাও অবতল; আলোকে এক জায়গায় জড়ো করে কানের ভেতর আলোকিত করে।

টর্চ, গাড়ির হেডলাইট ও সার্চলাইট: বাল্বটা অবতল প্রতিফলকের প্রধান ফোকাসে বসানো থাকে। F থেকে আসা রশ্মি প্রতিফলনের পর সমান্তরাল হয়ে যায় (নিয়ম ২), তাই আলো ছড়িয়ে না গিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত একটা শক্তিশালী রশ্মিগুচ্ছ হিসেবে যায়।

সোলার কুকার ও সৌরচুল্লি: বড় অবতল দর্পণ সূর্যের সমান্তরাল আলো ফোকাসে জড়ো করে। ফোকাসে রাখা কালো পাত্র অনেক গরম হয়ে রান্না করতে পারে।

গাড়ির পাশের আয়না ও রিয়ার-ভিউ: উত্তল দর্পণ ছোট কিন্তু সোজা প্রতিবিম্ব দেয়, তাই পেছনের অনেক বড় এলাকা একটা ছোট আয়নায় ধরা পড়ে।

রাস্তার বাঁকের আয়না ও দোকানের নিরাপত্তা আয়না: পাহাড়ি রাস্তার অন্ধ বাঁকে বা সুপারশপের কোণে বড় উত্তল দর্পণ বসানো থাকে, যাতে বাঁকের ওপাশ থেকে আসা গাড়ি বা দোকানের পুরো ঘর একসাথে দেখা যায়।

গোলীয় অপেরণ ও অধিবৃত্তীয় দর্পণ (সংক্ষেপে)

f = r/2 সূত্রটা শুধু ছোট উন্মেষের দর্পণের জন্য ঠিক। দর্পণ অনেক চওড়া হলে কিনারার কাছে পড়া সমান্তরাল রশ্মিগুলো F-এর একটু আগে (দর্পণের কাছে) প্রধান অক্ষকে কাটে। ফলে সব রশ্মি একটা বিন্দুতে না মিলে একটা ছোট জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে আর প্রতিবিম্ব ঝাপসা হয়। একে গোলীয় অপেরণ বলে।

এই সমস্যা এড়াতে টর্চ, হেডলাইট, ডিশ অ্যান্টেনা আর বড় দুরবিনে গোলীয় নয়, অধিবৃত্তীয় (প্যারাবোলিক) দর্পণ ব্যবহার করা হয়। অধিবৃত্তের বিশেষ ধর্ম হলো, প্রধান অক্ষের সমান্তরাল সব রশ্মি, কিনারার হোক বা মাঝের, ঠিক একটা ফোকাসে মেলে। আমাদের সিমুলেশন পাঠ্যবইয়ের মতো ছোট উন্মেষ ধরে নেয়, তাই সেখানে সব রশ্মি নিখুঁতভাবে এক বিন্দুতে মেলে।

পরীক্ষার কোণ: SSC ও HSC সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

SSC পদার্থবিজ্ঞানের “আলোর প্রতিফলন” অধ্যায় থেকে দর্পণের প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছর আসে, আর HSC-তে জ্যামিতিক আলোকবিজ্ঞান পড়তে গিয়ে একই সূত্র আবার লাগে। সৃজনশীল প্রশ্ন সাধারণত এভাবে সাজানো থাকে:

  • জ্ঞানমূলক (ক): মেরু কাকে বলে? বক্রতার কেন্দ্র কাকে বলে? প্রধান ফোকাস কাকে বলে? বিবর্ধন কাকে বলে?
  • অনুধাবনমূলক (খ): গাড়ির পাশের আয়নায় উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয় কেন? অবতল দর্পণকে অভিসারী দর্পণ বলা হয় কেন? f = r/2 বলতে কী বোঝায়?
  • প্রয়োগমূলক (গ): উদ্দীপকের দর্পণের বক্রতার ব্যাসার্ধ ও বস্তু দূরত্ব দেওয়া থাকলে প্রতিবিম্ব দূরত্ব ও বিবর্ধন নির্ণয় করো (উপরের উদাহরণ ১–৫-এর মতো)।
  • উচ্চতর দক্ষতা (ঘ): বস্তু সরালে প্রতিবিম্বের প্রকৃতি কীভাবে বদলাবে, রশ্মি চিত্রসহ বিশ্লেষণ করো; অথবা দুটি দর্পণের মধ্যে কোনটি দাড়ি কামানোর জন্য উপযোগী, গাণিতিক যুক্তি দাও।
  • বহুনির্বাচনি: “কোন দর্পণে সবসময় অবাস্তব, সোজা ও খর্বিত প্রতিবিম্ব হয়?” (উত্তল); “r = 40 cm হলে f কত?” (20 cm); “বস্তু C-তে থাকলে বিবর্ধন কত?” (১)।

এক নজরে রিভিশন

পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই অংশটা পড়ে নিলেও মূল কথাগুলো মনে পড়বে।

  • অবতল দর্পণ অভিসারী, উত্তল দর্পণ অপসারী; সমতল দর্পণের f অসীম।
  • f = r/2; ফোকাস দূরত্ব বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক।
  • চার রশ্মি: সমান্তরাল → F দিয়ে; F দিয়ে → সমান্তরাল; C দিয়ে → একই পথে ফেরত; P-তে → সমান কোণে।
  • দর্পণের সূত্র 1/u + 1/v = 1/f = 2/r (বাস্তব ধনাত্মক); বিবর্ধন m = v/u = h′/h।
  • অবতল দর্পণে বস্তু F-এর বাইরে → বাস্তব ও উল্টো; F ও P-এর মাঝে → অবাস্তব, সোজা, বিবর্ধিত।
  • C-তে বস্তু → C-তে সমান আকারের প্রতিবিম্ব; F-এ বস্তু → প্রতিবিম্ব অসীমে।
  • উত্তল দর্পণ → প্রতিবিম্ব সবসময় অবাস্তব, সোজা, খর্বিত, P ও F-এর মাঝে।
  • সিমুলেশনের ডিফল্ট: f = ১০ cm, u = ৩০ cm → v = ১৫ cm, m = ০.৫০।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

অবতল দর্পণ কাকে বলে?

যে গোলীয় দর্পণের প্রতিফলক তলটি গোলকের ভেতরের দিকে (বাঁকা গর্তের দিকে), তাকে অবতল দর্পণ বলে। এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মিকে প্রতিফলনের পর প্রধান ফোকাসে মিলিত করে, তাই একে অভিসারী দর্পণও বলে।

উত্তল দর্পণ কাকে বলে?

যে গোলীয় দর্পণের প্রতিফলক তলটি গোলকের বাইরের দিকে (ফোলা দিকে), তাকে উত্তল দর্পণ বলে। এটি সমান্তরাল রশ্মিকে ছড়িয়ে দেয়, যেন রশ্মিগুলো দর্পণের পেছনের ফোকাস থেকে আসছে, তাই একে অপসারী দর্পণ বলে।

বক্রতার কেন্দ্র কাকে বলে?

গোলীয় দর্পণটি যে গোলকের অংশ, সেই গোলকের কেন্দ্রকে দর্পণের বক্রতার কেন্দ্র বলে। একে C দিয়ে লেখা হয়। অবতল দর্পণে এটি দর্পণের সামনে, উত্তল দর্পণে পেছনে থাকে।

ফোকাস দূরত্ব ও বক্রতার ব্যাসার্ধের সম্পর্ক কী?

ছোট উন্মেষের গোলীয় দর্পণে ফোকাস দূরত্ব বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক, f = r/2। যেমন r = ২০ cm হলে f = ১০ cm।

অবতল দর্পণে কখন অবাস্তব প্রতিবিম্ব হয়?

বস্তু যখন প্রধান ফোকাস ও মেরুর মাঝে থাকে। তখন প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে, সোজা ও বিবর্ধিত হয়। দাড়ি কামানোর আয়না এই নীতিতে কাজ করে।

উত্তল দর্পণ কি কখনো বাস্তব প্রতিবিম্ব তৈরি করে?

একটি বাস্তব বস্তুর জন্য না। উত্তল দর্পণ বস্তু যেখানেই থাকুক, সবসময় দর্পণের পেছনে P ও F-এর মাঝে অবাস্তব, সোজা ও খর্বিত প্রতিবিম্ব তৈরি করে।

গাড়ির লুকিং গ্লাসে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তল দর্পণ সবসময় সোজা ও খর্বিত প্রতিবিম্ব দেয়, তাই ছোট একটা আয়নায় পেছনের অনেক বড় এলাকা দেখা যায়। এর দৃষ্টিক্ষেত্র সমতল দর্পণের চেয়ে অনেক বেশি।

বিবর্ধন ঋণাত্মক হলে কী বোঝায়?

আমাদের পাঠ্যবইয়ের বাস্তব ধনাত্মক প্রথায় m = v/u ঋণাত্মক মানে প্রতিবিম্ব অবাস্তব ও সোজা, আর m ধনাত্মক মানে বাস্তব ও উল্টো। ভারতীয় বইয়ের কার্তেসীয় প্রথায় m = −v/u, সেখানে অর্থটা ঠিক উল্টো।

বস্তু বক্রতার কেন্দ্রে রাখলে প্রতিবিম্ব কোথায় হয়?

বক্রতার কেন্দ্রেই, বাস্তব, উল্টো ও বস্তুর সমান আকারের। যেমন f = ১০ cm হলে u = ২০ cm-এ বস্তু রাখলে v = ২০ cm এবং m = ১।

টর্চ বা হেডলাইটে কোন দর্পণ থাকে?

অবতল দর্পণ (আসলে অধিবৃত্তীয় প্রতিফলক)। বাল্বটা এর প্রধান ফোকাসে থাকে, তাই প্রতিফলিত আলো প্রধান অক্ষের সমান্তরাল হয়ে দূর পর্যন্ত যায়।

এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা

অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।

আরও পদার্থবিজ্ঞান অ্যানিমেশন

SSC · HSC

আলোর প্রতিসরণ

আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে, প্রতিসরণের সূত্র, সংকট কোণ ও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন — সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা, ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যানিমেশন ও গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

ওহমের সূত্র

ওহমের সূত্র কাকে বলে, বিবৃতি ও ব্যাখ্যা, V-I লেখচিত্র — বিভব পার্থক্য ও রোধ বদলে তড়িৎ প্রবাহ দেখো। শ্রেণি ও সমান্তরাল সমবায়, গাণিতিক উদাহরণসহ।

HSC

প্রাসের গতি

প্রাস কাকে বলে? কোণ ও আদিবেগ বদলে প্রাসের গতিপথ দেখো — বিচরণকাল, সর্বাধিক উচ্চতা ও আনুভূমিক পাল্লার সূত্র, গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

সরল দোলক

সরল দোলক কাকে বলে, দোলনকালের সূত্র T=2π√(L/g) ও দোলকের সূত্রসমূহ — দৈর্ঘ্য বদলে দেখো। অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ণয়ের গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

তড়িৎ ক্ষেত্র

তড়িৎ ক্ষেত্র কাকে বলে, তড়িৎ তীব্রতার সূত্র ও একক, বলরেখার বৈশিষ্ট্য — আধান বসিয়ে বলরেখা দেখো। কুলম্বের সূত্রের গাণিতিক উদাহরণসহ।

HSC

তরঙ্গের ব্যতিচার

তরঙ্গের উপরিপাতন নীতি ও ব্যতিচার কাকে বলে, গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক ব্যতিচারের শর্ত, ডোরার প্রস্থ — দুই উৎস সরিয়ে নিজে দেখো, গাণিতিক উদাহরণসহ।

SSC · HSC

পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র

পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কী, কে আবিষ্কার করেন, অভিকর্ষজ ত্বরণ ৯.৮ বলতে কী বোঝায়: মুদ্রা আর পালক ফেলে নিজে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে, প্রতিবিম্ব কীভাবে গঠিত হয়, লেন্সের সূত্র 1/u + 1/v = 1/f, বিবর্ধন ও লেন্সের ক্ষমতা: বস্তু টেনে সরিয়ে রশ্মি চিত্র নিজে দেখো।

SSC · HSC

নিউটনের গতির সূত্র

নিউটনের গতির তিনটি সূত্র, জড়তা, ভরবেগ, F = ma, ঘাত বল আর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া: ট্রলি ঠেলে নিজে দেখো, সহজ উদাহরণ, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ (SSC, HSC)।

SSC · HSC

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র

তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ কাকে বলে, ফ্যারাডের সূত্র ও লেঞ্জের সূত্র কী বলে: চুম্বক টেনে কুণ্ডলীর ভেতর দিয়ে নিয়ে নিজে দেখো, গ্যালভানোমিটারের কাঁটা কেন দোলে, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ

ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র কী, স্থিতিস্থাপক ও অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের পার্থক্য কী: দুটো গাড়ি সংঘর্ষ করিয়ে নিজে দেখো, পুনরুদ্ধার সহগ e বদলে ভরবেগ ও গতিশক্তির বার-লেখচিত্র মিলিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।

SSC · HSC

কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

কাজ কাকে বলে, গতিশক্তি ও বিভবশক্তির সূত্র কী, ক্ষমতা কীভাবে মাপা হয়: গড়িয়ে পড়া কার্টের সিমুলেশনে শক্তির রূপান্তর নিজে দেখো, সূত্র ও গাণিতিক সমস্যাসহ।

SSC · HSC

নততল

নততলে ওজন কীভাবে দুই উপাংশে ভাগ হয়, স্থিতি কোণ কী, ঘর্ষণ কীভাবে ব্লককে ধরে রাখে বা পিছলে দেয়: কোণ বদলে ব্লক নিজে ছেড়ে দিয়ে বল-চিত্র ও সূত্র দেখো।

অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন

রসায়ন

পরমাণুর গঠন

রসায়ন

এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল

রসায়ন

ইলেকট্রন বিন্যাস

রসায়ন

গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ

রসায়ন

আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়

রসায়ন

তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র

রসায়ন

সমযোজী বন্ধন

রসায়ন

পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

জীববিজ্ঞান

মাইটোসিস কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান

ব্যাপন ও অভিস্রবণ

জীববিজ্ঞান

সালোকসংশ্লেষণ

জীববিজ্ঞান

মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

জীববিজ্ঞান

মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র

জীববিজ্ঞান

ডিএনএ রেপ্লিকেশন

জীববিজ্ঞান

কোষীয় শ্বসন

জীববিজ্ঞান

এনজাইম ক্রিয়া

জীববিজ্ঞান

স্নায়ু উদ্দীপনার পরিবহন ও অ্যাকশন পটেনশিয়াল

জীববিজ্ঞান

নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া

জীববিজ্ঞান

মিয়োসিস কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান

পরিপাকতন্ত্র

গণিত

পিথাগোরাসের উপপাদ্য

গণিত

ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত

গণিত

দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র

গণিত

বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য

গণিত

দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ

গণিত

সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা

গণিত

সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা

গণিত

গড়, মধ্যক ও প্রচুরক