উদ্দীপনা প্রান্তিক মাত্রার চেয়ে বেশি হলেই কেবল সংকেত অ্যাক্সন বেয়ে এগোবে (সব-অথবা-কিছুই নীতি)।
নিয়ন্ত্রণ
পরিমাপ
- পর্দা বিভব, V
- -৭০.০mV
- পর্দার দশা
- বিশ্রাম অবস্থা
- পরিবহন গতি
- ৬০.০m/s
- প্রান্তে পৌঁছাতে সময়
- ১৬.৭ms
- সংকেতের অগ্রগতি
- ০%
- প্রান্তিক মাত্রা
- ১৫mV
- সংকেতের অবস্থা
- উদ্দীপ্ত হয়নি
সিমুলেশনটি কীভাবে ব্যবহার করবে
- উদ্দীপনার মাত্রা কমিয়ে ১০ mV-এ আনো (প্রান্তিক মাত্রার নিচে) আর চালাও: পর্দা বিভব সামান্য বেড়ে আবার মিলিয়ে যায় — কোনো সংকেত অ্যাক্সনে যায় না।
- এবার উদ্দীপনা ২০ mV-এ (প্রান্তিকের ওপরে) সেট করে চালাও: ডানের লেখচিত্রে −৭০ থেকে +৩০ mV পর্যন্ত পূর্ণ অ্যাকশন পটেনশিয়াল দেখবে, তারপর সংকেতটি অ্যাক্সন বেয়ে ছুটবে।
- মায়েলিন সিদ বন্ধ করে দেখো: সংকেত এখন অ্যাক্সনের পুরো দৈর্ঘ্য জুড়ে অবিরাম এগোয়, র্যানভিয়ারের পর্বে লাফায় না — আর পরিমাপ প্যানেলে পরিবহন গতি অনেক কমে যায়।
- মায়েলিন আবার চালু করে অ্যাক্সনের ব্যাস বাড়াও-কমাও: পরিবহন গতি আর প্রান্তে পৌঁছানোর সময় কীভাবে বদলায় দেখো।
- সংকেতটি অ্যাক্সন প্রান্তে পৌঁছালে সিন্যাপসের দিকে তাকাও: ভেসিকল থেকে নিউরোট্রান্সমিটার সিন্যাপটিক ফাঁক পেরিয়ে পরের নিউরনের রিসেপ্টরে পৌঁছাতে দেখবে।
হাত পুড়ে গেলে সরিয়ে নেওয়ার আগেই কীভাবে টের পাও
গরম হাঁড়িতে হাত লাগার মুহূর্তেই, চোখে দেখে বোঝার আগেই হাতটা সরে যায়। এই পুরো ব্যাপারটা ঘটে কয়েক মিলিসেকেন্ডে। ত্বকের সংবেদী কোষ থেকে শুরু হয়ে মেরুরজ্জু পর্যন্ত, আবার মেরুরজ্জু থেকে হাতের পেশি পর্যন্ত — এই দীর্ঘ পথ একটামাত্র বার্তা কীভাবে এত দ্রুত পাড়ি দেয়?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে নিউরনের পর্দায়। পর্দাটা শুধু একটা প্যাসিভ খাম না, এটা নিজেই একটা তড়িৎ সংকেত তৈরি আর বহন করতে পারে। এই সংকেতের নাম স্নায়ু উদ্দীপনা বা অ্যাকশন পটেনশিয়াল, আর এই পাতার সিমুলেশনে তুমি ঠিক এই ঢেউটাই নিজের হাতে তৈরি করে অ্যাক্সন বেয়ে ছুটতে দেখবে।
মজার তথ্য: পাফার মাছের বিষ (টেট্রোডোটক্সিন) ঠিক এই সংকেতটাকেই বন্ধ করে দেয় — এটা Na⁺ চ্যানেল আটকে দেয়, তাই বিধ্রুবায়নই হতে পারে না, ফলে পেশি সংকেতই পায় না আর প্যারালাইসিস হয়ে যায়। ডেন্টিস্ট যে চেতনানাশক ইনজেকশন দেয় সেটাও একই নীতিতে কাজ করে, শুধু সাময়িকভাবে আর নিরাপদ মাত্রায়।
একদম শুরু থেকে: নিউরনের গঠন
নিউরন বা স্নায়ুকোষ হলো স্নায়ুতন্ত্রের গাঠনিক ও কার্যিক একক। এর প্রধান অংশ চারটি। প্রথমে ডেনড্রাইট — কোষদেহ থেকে বেরোনো ছোট ছোট শাখা, যা অন্য নিউরন বা সংবেদী অঙ্গ থেকে বার্তা গ্রহণ করে। এরপর কোষদেহ বা সোমা — এখানে নিউক্লিয়াস ও অন্যান্য অঙ্গাণু থাকে, এটাই কোষের প্রাণকেন্দ্র।
কোষদেহ থেকে বেরোয় একটিমাত্র লম্বা প্রক্ষেপ, অ্যাক্সন — এটাই বার্তা বহন করে দূরে পাঠায়। কিছু অ্যাক্সন মোড়ানো থাকে চর্বিযুক্ত মায়েলিন সিদে, যা শোয়ান কোষ (পরিধিয় স্নায়ুতন্ত্রে) দিয়ে তৈরি; মায়েলিনে ফাঁক ফাঁক জায়গা থাকে যাকে বলে র্যানভিয়ারের পর্ব। সবশেষে অ্যাক্সন প্রান্ত — এখানে অ্যাক্সন সরু সরু শাখায় ভাগ হয়ে পরের কোষের সাথে সিন্যাপস তৈরি করে।
মানুষের শরীরের কিছু অ্যাক্সন মাত্র কয়েক মিলিমিটার লম্বা (মস্তিষ্কের ভেতরের ইন্টারনিউরন), আবার কিছু অ্যাক্সন এক মিটারের বেশি লম্বা — যেমন মেরুরজ্জু থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত যাওয়া মোটর নিউরন। সিমুলেশনের অ্যাক্সন-দৈর্ঘ্য স্লাইডার এই বাস্তব পরিসরটাই দেখায়, ২ সেন্টিমিটার থেকে ১২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত।
কাজ অনুযায়ী নিউরন তিন রকম। সংবেদী নিউরন ত্বক, চোখ বা কানের মতো জ্ঞানেন্দ্রিয় থেকে বার্তা নিয়ে মেরুরজ্জু বা মস্তিষ্কের দিকে পাঠায়। মোটর নিউরন উল্টো পথে, মস্তিষ্ক বা মেরুরজ্জু থেকে বার্তা নিয়ে পেশি বা গ্রন্থির কাছে পৌঁছে দেয়, যাতে শরীর সাড়া দিতে পারে। আর ইন্টারনিউরন এই দুইয়ের মাঝে বসে, মস্তিষ্ক আর মেরুরজ্জুর ভেতরেই সংবেদী আর মোটর নিউরনকে জুড়ে দেয় — একটামাত্র প্রতিবর্ত ক্রিয়াতেও তিন ধরনের নিউরনই কাজ করে।
নিউরনের গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো
সূত্রে যাওয়ার আগে পরিভাষাগুলো ঝালিয়ে নিই — পরীক্ষার সংজ্ঞা-প্রশ্ন এখান থেকেই আসে।
| শব্দ | সহজ ভাষায় অর্থ |
|---|---|
| ডেনড্রাইট | অন্য কোষ থেকে বার্তা গ্রহণ করে এমন শাখা |
| কোষদেহ (সোমা) | নিউক্লিয়াসসহ কোষের প্রাণকেন্দ্র |
| অ্যাক্সন | বার্তা বহনকারী লম্বা প্রক্ষেপ |
| মায়েলিন সিদ | অ্যাক্সনকে ঘিরে থাকা তড়িৎ-অন্তরক আবরণ, পরিবহন দ্রুত করে |
| র্যানভিয়ারের পর্ব | মায়েলিনের ফাঁক, যেখানে আয়ন-চ্যানেল জমা থাকে |
| বিশ্রাম বিভব | উদ্দীপনা ছাড়া পর্দার ভেতর-বাইরের বিভব পার্থক্য |
| প্রান্তিক মাত্রা | যে মাত্রার বিধ্রুবায়নে অ্যাকশন পটেনশিয়াল আরম্ভ হয় |
| অ্যাকশন পটেনশিয়াল | প্রান্তিক ছাড়ালেই সৃষ্ট পূর্ণ, একরকম তড়িৎ ঢেউ |
| প্রতিসারণ কাল | অ্যাকশন পটেনশিয়ালের পরপরই যে সময় নতুন সংকেত তৈরি করা কঠিন বা অসম্ভব হয় |
| সিন্যাপস | দুই নিউরনের মিলনস্থল, যেখানে সংকেত রাসায়নিকভাবে পার হয় |
| নিউরোট্রান্সমিটার | সিন্যাপসে নিঃসৃত রাসায়নিক বার্তাবাহক |
বিশ্রাম বিভব: পর্দার ভেতরটা কেন ঋণাত্মক
উদ্দীপনা না থাকলেও নিউরনের পর্দা একেবারে শান্ত থাকে না — ভেতরে বাইরের চেয়ে প্রায় -৭০ mV কম বিভব থাকে। এটাই বিশ্রাম বিভব। এর পেছনে দুটো কারণ। প্রথমত, Na⁺-K⁺ পাম্প প্রতিবার ATP খরচ করে ৩টি Na⁺ কোষের বাইরে আর ২টি K⁺ কোষের ভেতরে ঠেলে দেয়, ফলে বাইরে Na⁺ আর ভেতরে K⁺ জমতে থাকে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্রামে পর্দা K⁺-এর জন্য Na⁺-এর চেয়ে অনেক বেশি প্রবেশ্য (K⁺-লিক চ্যানেল খোলা থাকে), তাই ভেতরের K⁺ কিছুটা বাইরে চুইয়ে যায় আর সাথে ধনাত্মক আধান নিয়ে যায়, ভেতরটা আরও ঋণাত্মক করে দেয়। এই দুটোর ভারসাম্যেই স্থির হয় প্রায় −৭০ mV।
পাম্পটা সবসময় চলে, কিন্তু অ্যাকশন পটেনশিয়ালের দ্রুত ওঠা-নামা মূলত ঘটে ভোল্টেজ-নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল খোলা-বন্ধ হওয়ায়, পাম্পের গতিতে নয় — পাম্পটা বরং দীর্ঘমেয়াদে আয়নের ঘনত্বের পার্থক্যটা টিকিয়ে রাখে।
প্রান্তিক মাত্রা আর সব-অথবা-কিছুই নীতি
উদ্দীপনা পেলে পর্দা কিছুটা বিধ্রুবিত হয় (ভেতরটা কম ঋণাত্মক হয়)। এই বিধ্রুবায়ন যদি একটি নির্দিষ্ট মাত্রা, প্রান্তিক মাত্রা -৫৫ mV পর্যন্ত না পৌঁছায়, তাহলে ভোল্টেজ-নিয়ন্ত্রিত Na⁺ চ্যানেল খোলেই না — পর্দা বিভব সামান্য বেড়ে আবার নিজে থেকে বিশ্রাম মানে ফিরে আসে। একে বলে স্থানীয় বা গ্রেডেড বিভব; এটা দূরে ছড়ায় না।
কিন্তু বিধ্রুবায়ন প্রান্তিক ছাড়ালেই ব্যাপারটা পুরো পাল্টে যায়: প্রচুর Na⁺ চ্যানেল হুড়মুড়িয়ে খুলে যায় আর একটি পূর্ণ অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়, চাই উদ্দীপনা প্রান্তিকের সামান্য ওপরে হোক বা অনেক বেশি — শীর্ষ মান সবসময় প্রায় ৩০ mV-ই হয়। একেই বলে সব-অথবা-কিছুই নীতি (all-or-none law): হয় সংকেত পুরোপুরি তৈরি হবে, নয়তো হবেই না, আধাআধি কিছু নেই।
তাহলে জোরে চিমটি কাটলে বেশি ব্যথা লাগে কেন, যদি প্রতিটা অ্যাকশন পটেনশিয়ালই একরকম হয়? উত্তর: তীব্রতা বিভবের উচ্চতায় নয়, সংকেতের ফ্রিকোয়েন্সিতে (কত ঘনঘন স্পাইক হচ্ছে) আর কতগুলো তন্তু সক্রিয় হচ্ছে তাতে বোঝানো হয়। জোরালো উদ্দীপনা মানে বেশি স্পাইক প্রতি সেকেন্ডে, উঁচু স্পাইক নয়।
উদ্দীপনার প্রয়োজনীয় মাত্রা = -৫৫ − (-৭০) = ১৫ mVথ্রেশোল্ড − বিশ্রাম বিভব
অ্যাকশন পটেনশিয়ালের চারটি ধাপ
সিমুলেশনের ডান পাশের লেখচিত্রে এই পুরো ঘটনাটা প্রায় দুই-আড়াই মিলিসেকেন্ডে ঘটে। ধাপগুলো একে একে দেখি।
বিধ্রুবায়ন (depolarisation)
প্রান্তিক পার হওয়ার সাথে সাথে ভোল্টেজ-নিয়ন্ত্রিত Na⁺ চ্যানেল খুলে যায়। বাইরে Na⁺ বেশি থাকায় (ঘনত্ব-ঢাল অনুযায়ী) সেগুলো হুড়মুড়িয়ে কোষের ভেতরে ঢোকে, পর্দা বিভব -৭০ থেকে বেড়ে ৩০ mV পর্যন্ত ওঠে — মোট প্রায় ১০০ mV উত্থান। ভেতরটা এখন সাময়িকভাবে বাইরের চেয়ে ধনাত্মক!
পুনর্মেরুকরণ (repolarisation)
প্রায় ৩০ mV-এ Na⁺ চ্যানেল নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় (বন্ধ হয়ে যায়), আর একটু দেরিতে খোলা ভোল্টেজ-নিয়ন্ত্রিত K⁺ চ্যানেল দিয়ে K⁺ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যায়। ধনাত্মক আধান বেরিয়ে যাওয়ায় পর্দা বিভব দ্রুত নেমে আবার ঋণাত্মক দিকে ফিরতে থাকে।
অতি-মেরুকরণ (hyperpolarisation)
K⁺ চ্যানেল প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশি সময় খোলা থাকে, তাই বিভব বিশ্রাম মান ছাড়িয়ে আরও নিচে, প্রায় -৮০ mV পর্যন্ত নেমে যায় — বিশ্রামের চেয়ে প্রায় ১০ mV বেশি ঋণাত্মক। এরপর চ্যানেলগুলো বন্ধ হতে থাকলে বিভব আবার আস্তে আস্তে বিশ্রাম মানে ফিরে আসে।
প্রতিসারণ কাল (refractory period)
বিধ্রুবায়ন ও পুনর্মেরুকরণ চলাকালীন Na⁺ চ্যানেলগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে, তাই এই সময় উদ্দীপনা যত জোরালোই হোক না কেন নতুন অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি করা অসম্ভব — একে বলে পরম প্রতিসারণ কাল। অতি-মেরুকরণের সময়টায় নতুন স্পাইক তৈরি করা যায়, তবে স্বাভাবিকের চেয়ে জোরালো উদ্দীপনা লাগে — একে বলে আপেক্ষিক প্রতিসারণ কাল। এই কালটাই ঠিক করে দেয় একটা নিউরন প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ কতবার স্পাইক পাঠাতে পারে।
পরিবহন: অবিরাম বনাম লাফ দিয়ে (সল্টেটরি)
একবার তৈরি হওয়া অ্যাকশন পটেনশিয়াল নিজে থেকেই পাশের অংশকে প্রান্তিকের ওপরে ঠেলে দেয়, তাই ঢেউটা ক্রমাগত অ্যাক্সন বেয়ে এগোতে থাকে — একদিকেই, কারণ পেছনের অংশ তখনও প্রতিসারণ কালে আটকে থাকে।
মায়েলিনবিহীন অ্যাক্সনে পুরো পর্দা জুড়েই আয়ন-চ্যানেল ছড়ানো থাকে, তাই সংকেত ধাপে ধাপে, অবিরামভাবে (continuous conduction) এগোয়। মায়েলিনযুক্ত অ্যাক্সনে মায়েলিন তড়িৎ-অন্তরক হিসেবে কাজ করে, তাই চ্যানেল শুধু র্যানভিয়ারের পর্বেই জমা থাকে — সংকেত এক পর্ব থেকে পরের পর্বে লাফ দিয়ে এগোয় (সল্টেটরি পরিবহন), যা অনেক দ্রুত আর শক্তি-সাশ্রয়ীও (কম জায়গায় আয়ন-পাম্প চালাতে হয়)।
গতি ব্যাসের ওপরও নির্ভর করে। মায়েলিনযুক্ত অ্যাক্সনে গতি প্রায় ব্যাসের সমানুপাতিক — একে বলে হার্শের সূত্র (Hursh's rule): v ≈ ৬ × d (m/s, d মাইক্রোমিটারে)। মায়েলিনবিহীন অ্যাক্সনে গতি বাড়ে ব্যাসের বর্গমূলের সমানুপাতিক হারে, তাই একই ব্যাসে মায়েলিনযুক্ত অ্যাক্সন অনেক দ্রুত।
v_myelin ≈ ৬ × dd মাইক্রোমিটারে, v মিটার/সেকেন্ডে (হার্শের সূত্র)
v_unmyelinated ≈ k × √dছোট, মায়েলিনবিহীন তন্তুর জন্য একটি সরল আনুমানিক সম্পর্ক
সময় = দৈর্ঘ্য ÷ গতিপ্রান্তে পৌঁছাতে সময়
সিমুলেশনে নিজে পরীক্ষা করো
প্রতিটা পরীক্ষা আগে অনুমান করো, তারপর চালিয়ে মিলিয়ে দেখো।
- উদ্দীপনা ৫ mV করে দেখো: প্রান্তিকের অনেক নিচে, কোনো সংকেতই যায় না, লেখচিত্রে শুধু একটা ছোট্ট ঢেউ উঠে মিলিয়ে যায়।
- উদ্দীপনা ঠিক ১৫ mV-এ আনো: এটাই প্রান্তিক মাত্রা, এর সামান্য নিচে-ওপরে ফলাফল পুরো পাল্টে যায় — এটাই সব-অথবা-কিছুই নীতির প্রমাণ।
- উদ্দীপনা ২০ আর ৩০ mV-এ আলাদা করে চালাও: লেখচিত্রের শীর্ষ মান একই থাকে, শুধু প্রান্তিকে পৌঁছাতে সময় একটু কমে — বিভব বাড়ে না।
- মায়েলিন বন্ধ-চালু করে একই ব্যাস-দৈর্ঘ্যে পরিবহন গতি আর প্রান্তে পৌঁছানোর সময় তুলনা করো।
- অ্যাক্সনের ব্যাস সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ টেনে দেখো গতি রৈখিকভাবে (মায়েলিনে) বনাম বর্গমূল হারে (মায়েলিন ছাড়া) কীভাবে বদলায়।
গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান
প্রতিটা সমাধানে সূত্র লিখে তারপর মান বসানো হয়েছে — পরীক্ষায় এভাবে লিখলে পুরো নম্বর পাবে।
সমস্যা ১: সিমুলেশনের ডিফল্ট মায়েলিনযুক্ত অ্যাক্সন (d = ১০ µm, দৈর্ঘ্য = ১ m)
v = ৬ × d = ৬ × ১০ = ৬০ m/s। প্রান্তে পৌঁছাতে সময় = দৈর্ঘ্য ÷ গতি = ১/৬০ = ১৬.৬৭ ms। সিমুলেশনের পরিমাপ প্যানেলে ঠিক এই মানই দেখবে।
সমস্যা ২: একই অ্যাক্সন, কিন্তু মায়েলিন বন্ধ
v = k√d = ৩.১৬ m/s। সময় = ১/৩.১৬ × ১০০০ = ৩১৬.২ ms। অর্থাৎ মায়েলিন এই তন্তুকে প্রায় ১৯.০ গুণ দ্রুত করে দেয় — এটাই মায়েলিনের আসল সুবিধা।
সমস্যা ৩: উদ্দীপনা ১০ mV (প্রান্তিকের নিচে)
স্থানীয় বিভব সর্বোচ্চ পৌঁছায় -৭০ + ১০ = -৬০ mV পর্যন্ত, যা প্রান্তিক -৫৫ mV-এর নিচেই থেকে যায়। তাই কোনো অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয় না, অ্যাক্সনেও কিছু ভ্রমণ করে না।
সমস্যা ৪: মোট বিভব পরিবর্তন
বিশ্রাম থেকে শীর্ষ পর্যন্ত পর্দা বিভব বদলায় ৩০ − (-৭০) = ১০০ mV। এত বড় দোলনই নিশ্চিত করে সংকেতটা পরের অংশকেও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রান্তিক পার করাতে পারবে।
সমস্যা ৫: ব্যাস দ্বিগুণ (মায়েলিনযুক্ত, d = ১ µm বনাম d = ২০ µm)
v₁ = ৬ × ১ = ৬ m/s, v₂ = ৬ × ২০ = ১২০ m/s। অনুপাত v₂/v₁ = ২০ — ঠিক ব্যাসের অনুপাতের সমান, কারণ হার্শের সূত্র রৈখিক।
সমস্যা ৬: একই তন্তুর ওপর ছোট বনাম লম্বা অ্যাক্সন (২ cm বনাম ১২০ cm)
একই গতি ৬০ m/s ধরে: ছোট অ্যাক্সনে সময় = ০.৩৩ ms, লম্বাটায় ২০ ms। অনুপাত ৬০ — দৈর্ঘ্যের অনুপাতের সমান, যেহেতু সময় = দৈর্ঘ্য ÷ গতি একটি সরল রৈখিক সম্পর্ক।
সমস্যা ৭: অতি-মেরুকরণের গভীরতা
বিশ্রাম মান -৭০ mV থেকে অতি-মেরুকরণের সর্বনিম্ন -৮০ mV পর্যন্ত পার্থক্য = ১০ mV। এই সময়টায় নতুন স্পাইক তৈরি করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোরালো উদ্দীপনা লাগে (আপেক্ষিক প্রতিসারণ কাল)।
সমস্যা ৮: এক-সিন্যাপস প্রতিবর্ত ক্রিয়ার আনুমানিক সময়
১ মিটার লম্বা একটি সংবেদী স্নায়ু (৬০ m/s গতিতে) সংকেত পাঠাতে নেয় ১৬.৬৭ ms। পথে দুটো সিন্যাপস পড়লে, প্রতিটায় আনুমানিক ০.৫ ms দেরি যোগ হয়ে মোট প্রায় ১৭.৭ ms লাগে — এত অল্প সময়েই মনে হয় প্রতিক্রিয়াটা তাৎক্ষণিক!
সিন্যাপস: তড়িৎ সংকেত থেকে রাসায়নিক বার্তায়
অ্যাক্সন প্রান্তে পৌঁছানো তড়িৎ সংকেত নিজে থেকে পরের নিউরনে লাফ দিতে পারে না — মাঝে থাকে সিন্যাপটিক ফাঁক, প্রায় ২০ ন্যানোমিটার চওড়া একটা ফাঁকা জায়গা। তাই সংকেতটা রাসায়নিক আকারে পার হয়।
ধাপগুলো এরকম: সংকেত প্রি-সিন্যাপটিক প্রান্তে পৌঁছালে Ca²⁺ চ্যানেল খুলে যায়, Ca²⁺ ঢুকে পড়ায় ভেসিকলগুলো প্রি-সিন্যাপটিক পর্দার সাথে মিশে নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন অ্যাসিটাইলকোলিন) ফাঁকে নিঃসরণ করে। নিউরোট্রান্সমিটার ছড়িয়ে গিয়ে পোস্ট-সিন্যাপটিক পর্দার রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়, নতুন আয়ন-চ্যানেল খুলে দেয়, আর পরের কোষে নতুন বিভব পরিবর্তন তৈরি করে।
শেষে এনজাইম নিউরোট্রান্সমিটারকে ভেঙে ফেলে বা প্রি-সিন্যাপটিক কোষ আবার শুষে নেয়, নইলে সংকেতটা চিরকাল লেগেই থাকত। যেহেতু শুধু প্রি-সিন্যাপটিক প্রান্তেই ভেসিকল আর পোস্ট-সিন্যাপটিক পর্দাতেই রিসেপ্টর থাকে, রাসায়নিক সিন্যাপস দিয়ে সংকেত সবসময় একমুখী চলে।
- সংকেত অ্যাক্সন প্রান্তে পৌঁছায়
- Ca²⁺ চ্যানেল খোলে, Ca²⁺ ভেতরে ঢোকে
- ভেসিকল মিশে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ করে
- নিউরোট্রান্সমিটার ফাঁক পেরিয়ে ছড়ায়
- রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে নতুন বিভব তৈরি করে
- এনজাইম বা পুনঃশোষণে নিউরোট্রান্সমিটার সরে যায়
যে ভুলগুলো সবাই করে
এই ভুলগুলো এড়ালে পরীক্ষায় নম্বর কাটার ভয় থাকে না।
- উদ্দীপনা যত জোরালো, অ্যাকশন পটেনশিয়াল তত বড়/উঁচু হয় ভাবা। শীর্ষ মান সবসময় একই থাকে (সব-অথবা-কিছুই); বদলায় শুধু স্পাইকের ফ্রিকোয়েন্সি।
- বিধ্রুবায়ন মানে পর্দা ছিদ্র হয়ে যাওয়া ভাবা। আসলে নির্দিষ্ট প্রোটিন চ্যানেল খুলে-বন্ধ হয়, পর্দা অক্ষত থাকে।
- সল্টেটরি পরিবহনকে ধীরগতির ভাবা। এটা বরং অনেক দ্রুত ও শক্তি-সাশ্রয়ী, কারণ কম জায়গায় আয়ন-পাম্প চালাতে হয়।
- প্রতিসারণ কালে “কিছুই হয় না” ভাবা। পরম প্রতিসারণ কালে সত্যিই কিছু হয় না, কিন্তু আপেক্ষিক প্রতিসারণ কালে জোরালো উদ্দীপনায় স্পাইক হতে পারে।
- সিন্যাপসে তড়িৎ সংকেত সরাসরি লাফ দেয় ভাবা। বেশিরভাগ সিন্যাপসে সংকেত রাসায়নিক (নিউরোট্রান্সমিটার) রূপে পার হয়, বৈদ্যুতিকভাবে না।
- অ্যাক্সন-দৈর্ঘ্য বাড়ালে পরিবহন গতিও বাড়ে ভাবা। গতি ঠিক করে দেয় ব্যাস আর মায়েলিন; দৈর্ঘ্য শুধু মোট পথটা লম্বা করে, তাই দৈর্ঘ্য বাড়লে প্রান্তে পৌঁছানোর সময় বাড়ে, গতি না।
বাস্তব জীবনে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে
একটামাত্র সরল আয়ন-চলাচলের নীতি পুরো স্নায়ুতন্ত্র আর অনেকটা চিকিৎসাবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে।
- স্থানীয় চেতনানাশক (যেমন দাঁতের ইনজেকশন) Na⁺ চ্যানেল সাময়িকভাবে বন্ধ করে, তাই ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতেই পারে না।
- মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (MS) শরীরের নিজের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মায়েলিন সিদ নষ্ট করে, ফলে পরিবহন ধীর ও বিশৃঙ্খল হয়ে যায়।
- নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি নামের পরীক্ষায় ডাক্তাররা ঠিক এই পরিবহন গতিই মেপে স্নায়ুর ক্ষতি নির্ণয় করেন।
- প্রতিবর্ত ক্রিয়া (যেমন হাঁটুর রিফ্লেক্স) দ্রুত কাজ করে কারণ সংকেত মস্তিষ্ক পর্যন্ত না গিয়ে মেরুরজ্জুতেই একটি সিন্যাপস পার হয়ে সরাসরি পেশিতে ফিরে যায়।
- হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব পেসমেকার কোষ আর কঙ্কাল-পেশির সংকোচনও একই Na⁺/K⁺ ভিত্তিক বিভব-পরিবর্তনের নীতিতে চলে।
- ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাম (EEG) মাথার ত্বকে বসানো ইলেকট্রোড দিয়ে লক্ষ লক্ষ নিউরনের একসাথে ঘটা এই বিভব-পরিবর্তনের সম্মিলিত ফলাফলই রেকর্ড করে, যা মৃগীরোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
- স্কুইডের বিশাল অ্যাক্সন (মানুষের চেয়ে অনেক মোটা কিন্তু মায়েলিনবিহীন) বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে অ্যাকশন পটেনশিয়াল গবেষণার প্রিয় বিষয় ছিল, কারণ এর বড় আকারে মাইক্রো-ইলেকট্রোড বসানো সহজ ছিল — হজকিন আর হাক্সলির সেই গবেষণাই আজকের এই ব্যাখ্যার ভিত্তি।
পরীক্ষার কর্নার: SSC ও HSC
নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞানে সমন্বয় অধ্যায়ে আর HSC জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে নিউরন ও স্নায়ু উদ্দীপনা নিয়মিত আসে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নে সংজ্ঞা, অনুধাবনে “সব-অথবা-কিছুই নীতি” বা “মায়েলিন সিদের গুরুত্ব কী”, আর উচ্চতর দক্ষতায় বিশ্রাম-প্রান্তিক-শীর্ষ বিভব ব্যাখ্যা প্রশ্নে আসে।
একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: রিমির পায়ে কাঁটা ফোটামাত্র সে টের পাওয়ার আগেই পা সরিয়ে ফেলল, কিন্তু কাঁটার ব্যথাটা বুঝল কিছুক্ষণ পরে।
ক) অ্যাকশন পটেনশিয়াল কাকে বলে? খ) সব-অথবা-কিছুই নীতি বলতে কী বোঝায়? গ) উদ্দীপকে বর্ণিত দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পেছনের স্নায়বিক পথ ব্যাখ্যা করো। ঘ) “মায়েলিন সিদ না থাকলে রিমির প্রতিক্রিয়া অনেক ধীর হতো” — বিশ্লেষণ করো।
ঘ-এর মূল কথা: মায়েলিনবিহীন হলে সংকেত অবিরাম পরিবহনে চলত, যা সল্টেটরির চেয়ে বহু গুণ ধীর — সিমুলেশনে দেখা গেছে একই তন্তুতে মায়েলিন প্রায় ১৯.০ গুণ পর্যন্ত দ্রুত করে দেয়, তাই প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া দেরি হয়ে যেত।
রিভিশন: শেষ মুহূর্তের সারসংক্ষেপ
পরীক্ষার আগের রাতে শুধু এই তালিকা আর ওপরের সারণিটা দেখে নিলেই যথেষ্ট।
- বিশ্রাম বিভব ≈ -৭০ mV, প্রান্তিক মাত্রা ≈ -৫৫ mV, শীর্ষ মান ≈ +৩০ mV।
- প্রান্তিকের নিচে: শুধু স্থানীয় গ্রেডেড বিভব, কোনো পরিবহন নয়। প্রান্তিকের ওপরে: পূর্ণ, একরকম অ্যাকশন পটেনশিয়াল (সব-অথবা-কিছুই)।
- ধাপ চারটি: বিধ্রুবায়ন (Na⁺ ভেতরে) → পুনর্মেরুকরণ (K⁺ বাইরে) → অতি-মেরুকরণ → প্রতিসারণ কাল।
- পরিবহন গতি: মায়েলিনযুক্তে v ≈ ৬ × d (রৈখিক), মায়েলিনবিহীনে v ∝ √d।
- মায়েলিনযুক্ত অ্যাক্সনে সংকেত র্যানভিয়ারের পর্বে পর্বে লাফায় (সল্টেটরি), মায়েলিনবিহীনে অবিরাম এগোয়।
- সিন্যাপসে সংকেত রাসায়নিক (নিউরোট্রান্সমিটার) রূপে একমুখী পার হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
স্নায়ু উদ্দীপনা বা অ্যাকশন পটেনশিয়াল কাকে বলে?
প্রান্তিক মাত্রা (-৫৫ mV) পার হওয়া উদ্দীপনায় নিউরনের পর্দায় সৃষ্ট একটি দ্রুত, একরকম তড়িৎ-রাসায়নিক পরিবর্তন, যা বিশ্রাম বিভব -৭০ mV থেকে প্রায় +৩০ mV পর্যন্ত ওঠে আর অ্যাক্সন বেয়ে ভ্রমণ করে।
বিশ্রাম বিভব কেন ঋণাত্মক থাকে?
Na⁺-K⁺ পাম্প Na⁺ বাইরে আর K⁺ ভেতরে ঠেলে দেয়, আর বিশ্রামে পর্দা K⁺-এর জন্য বেশি প্রবেশ্য, তাই K⁺ কিছুটা বেরিয়ে যায়। দুটো মিলে ভেতরটা বাইরের চেয়ে প্রায় −৭০ mV ঋণাত্মক থাকে।
সব-অথবা-কিছুই নীতি কী?
প্রান্তিকের নিচে উদ্দীপনায় কোনো অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয় না; প্রান্তিক ছাড়ালেই একটি পূর্ণ, নির্দিষ্ট শীর্ষ মানের অ্যাকশন পটেনশিয়াল তৈরি হয়, উদ্দীপনা যত জোরালোই হোক না কেন। মাঝামাঝি কিছু হয় না।
সল্টেটরি পরিবহন কী আর এটা কেন দ্রুত?
মায়েলিনযুক্ত অ্যাক্সনে আয়ন-চ্যানেল শুধু র্যানভিয়ারের পর্বে জমা থাকায় সংকেত এক পর্ব থেকে পরের পর্বে লাফ দিয়ে এগোয়। মাঝের মায়েলিন-ঢাকা অংশে তড়িৎভাবে দ্রুত ছড়িয়ে যায় বলে পুরো প্রক্রিয়া অবিরাম পরিবহনের চেয়ে অনেক গুণ দ্রুত।
অতি-মেরুকরণ (hyperpolarisation) কেন হয়?
পুনর্মেরুকরণের সময় খোলা K⁺ চ্যানেল প্রয়োজনের একটু বেশি সময় খোলা থাকে, তাই বিভব বিশ্রাম মানের চেয়েও নিচে নেমে যায়, তারপর আস্তে আস্তে বিশ্রামে ফেরে।
প্রতিসারণ কাল কী কাজে লাগে?
এই সময় নতুন স্পাইক তৈরি করা কঠিন বা অসম্ভব থাকায় সংকেত পেছনের দিকে ফিরে যেতে পারে না — শুধু একদিকে এগোতে বাধ্য হয়, আর নিউরনের সর্বোচ্চ ফায়ারিং হারও এটাই ঠিক করে দেয়।
সিন্যাপসে সংকেত কীভাবে পার হয়?
তড়িৎ সংকেত অ্যাক্সন প্রান্তে পৌঁছালে Ca²⁺ ঢোকে, ভেসিকল থেকে নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয়ে সিন্যাপটিক ফাঁক পেরিয়ে পোস্ট-সিন্যাপটিক রিসেপ্টরে যুক্ত হয়, যা পরের কোষে নতুন বিভব তৈরি করে।
মায়েলিন সিদ নষ্ট হলে কী হয়?
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো রোগে মায়েলিন নষ্ট হলে পরিবহন ধীর ও অনিয়মিত হয়ে যায়, ফলে পেশি নিয়ন্ত্রণ ও সংবেদনে সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপনার মাত্রা বাড়ালে কি পর্দা বিভব আরও বেশি ওঠে?
না। প্রান্তিক ছাড়ানো যেকোনো উদ্দীপনায় শীর্ষ মান একই (+৩০ mV থাকে); উদ্দীপনার তীব্রতা বোঝানো হয় স্পাইকের ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে, উচ্চতা দিয়ে নয়।
সংবেদী, মোটর আর ইন্টারনিউরনের মধ্যে পার্থক্য কী?
সংবেদী নিউরন জ্ঞানেন্দ্রিয় থেকে মেরুরজ্জু/মস্তিষ্কের দিকে বার্তা নেয়, মোটর নিউরন মেরুরজ্জু/মস্তিষ্ক থেকে পেশি বা গ্রন্থির দিকে বার্তা নেয়, আর ইন্টারনিউরন এই দুইয়ের মাঝে বসে দুটোকে জুড়ে দেয় — একটা প্রতিবর্ত ক্রিয়াতেও তিনটাই একসাথে কাজ করে।
এই বিষয়ের আরও পড়াশোনা
অ্যানিমেশনে ধারণা পরিষ্কার হলো, এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি: সিলেবাস, সাজেশন, বই আর ভর্তি পরীক্ষার গাইড নিচে।
HSC
এইচএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি ২০২৬-২৭
SSC
এসএসসি জীববিজ্ঞান: সিলেবাস ও প্রস্তুতি
পাঠ্যবই
নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই
ভর্তি
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভর্তি
গুচ্ছ (GST) বিজ্ঞান ইউনিট ভর্তি ২০২৬-২৭
English
Composition: Climate Change (ইংরেজিতে)
বাংলা
রচনা: জলবায়ু পরিবর্তন
SSC
এসএসসি সাজেশন
HSC
এইচএসসি সাজেশন
ভর্তি
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার গাইড
SSC
এসএসসি সিলেবাস
HSC
এইচএসসি সিলেবাস
আরও জীববিজ্ঞান অ্যানিমেশন
SSC · HSC
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
মাইটোসিস কাকে বলে, কোষ বিভাজন কত প্রকার ও কী কী? প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ও সাইটোকাইনেসিস চলমান চিত্রে দেখো, ক্রোমোজোম গোনার নিয়মসহ।
SSC · HSC
ব্যাপন ও অভিস্রবণ
ব্যাপন ও অভিস্রবণ কাকে বলে, এদের মধ্যে পার্থক্য, প্লাজমোলাইসিস, রসস্ফীতি ও ইমবাইবিশন: কণার সিমুলেশনে নিজে দেখে সহজ ভাষায় শেখো, উদাহরণ ও গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ কাকে বলে, সমীকরণ, আলোক ও অন্ধকার পর্যায়, ক্যালভিন চক্র, প্রভাবক ও সীমাবদ্ধ উপাদান: পাতা, হাইড্রিলা আর ক্লোরোপ্লাস্টের অ্যানিমেশনে নিজে দেখো।
SSC · HSC
মানব হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ
হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠ, কপাটিকা, লাব-ডাব শব্দ আর চলমান ইসিজি একসাথে দেখো। দ্বিচক্রী সংবহন, হৃৎচক্র ও কার্ডিয়াক আউটপুট শেখো, গাণিতিক সমস্যাসহ।
SSC · HSC
মেন্ডেলের বংশগতি সূত্র
মেন্ডেলের সূত্র, একসংকর ও দ্বিসংকর জনন, টেস্ট ক্রস, অসম্পূর্ণ প্রকটতা, রক্তের গ্রুপ আর সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ — নিজে পানেট বর্গ বানিয়ে বংশগতির অনুপাত হিসাব করে দেখো।
HSC
ডিএনএ রেপ্লিকেশন
ডিএনএ রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন কাকে বলে, অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি, এনজাইমগুলোর কাজ আর মেসেলসন-স্টাল পরীক্ষা—সব অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও হিসাব করো।
SSC · HSC
কোষীয় শ্বসন
কোষীয় শ্বসন কাকে বলে, সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য, গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র আর ATP হিসাব: মাইটোকন্ড্রিয়ার অ্যানিমেশনে নিজে দেখো ও গণনা করো।
SSC · HSC
এনজাইম ক্রিয়া
এনজাইম কী, সক্রিয় স্থান, তালা-চাবি ও আবিষ্ট মিলন মডেল, তাপমাত্রা-pH-এর প্রভাব, মিকেলিস-মেন্টেন সমীকরণ ও প্রতিবন্ধক — নিজে বদলে দেখো এনজাইম ক্রিয়ার অ্যানিমেশনে।
SSC · HSC
নেফ্রন ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া
বৃক্ক প্রতিদিন প্রায় ১৮০ লিটার রক্ত ছেঁকে মাত্র দেড় লিটার মূত্র তৈরি করে কীভাবে? গ্লোমেরুলাসে ছাঁকন, নালিকায় পুনঃশোষণ আর গ্লুকোজের প্রান্তিক মাত্রা — সিমুলেশনে নিজে চালিয়ে দেখো, সূত্র ও অঙ্কসহ।
SSC · HSC
মিয়োসিস কোষ বিভাজন
মিয়োসিস কাকে বলে, ক্রসিং ওভার কী, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য কী: 2n = 4 কোষে প্রোফেজ I থেকে টেলোফেজ II পর্যন্ত নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।
SSC
পরিপাকতন্ত্র
পরিপাকতন্ত্র কী, কোন এনজাইম কোথায় কাজ করে, ভিলাই কীভাবে শোষণ করে: মুখ থেকে বৃহদান্ত্র পর্যন্ত খাদ্যের যাত্রা নিজে চালিয়ে দেখো, সমাধান করা অঙ্কসহ।
অন্য বিষয়ের অ্যানিমেশন
পদার্থবিজ্ঞান
আলোর প্রতিসরণ
পদার্থবিজ্ঞান
ওহমের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাসের গতি
পদার্থবিজ্ঞান
সরল দোলক
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎ ক্ষেত্র
পদার্থবিজ্ঞান
তরঙ্গের ব্যতিচার
পদার্থবিজ্ঞান
পড়ন্ত বস্তু ও পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
লেন্সে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
নিউটনের গতির সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
গোলীয় দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন
পদার্থবিজ্ঞান
তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ ও ফ্যারাডের সূত্র
পদার্থবিজ্ঞান
ভরবেগের সংরক্ষণ ও সংঘর্ষ
পদার্থবিজ্ঞান
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি
পদার্থবিজ্ঞান
নততল
রসায়ন
পরমাণুর গঠন
রসায়ন
এসিড, ক্ষারক ও pH স্কেল
রসায়ন
ইলেকট্রন বিন্যাস
রসায়ন
গ্যাসের সূত্র: বয়েল, চার্লস ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
রসায়ন
আয়নিক বন্ধন কীভাবে গঠিত হয়
রসায়ন
তড়িৎ বিশ্লেষণ ও ফ্যারাডের সূত্র
রসায়ন
সমযোজী বন্ধন
রসায়ন
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
গণিত
পিথাগোরাসের উপপাদ্য
গণিত
ত্রিকোণমিতিক অনুপাত ও একক বৃত্ত
গণিত
দ্বিঘাত সমীকরণ ও দ্বিঘাত ফাংশনের লেখচিত্র
গণিত
বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য
গণিত
দূরত্ব ও উচ্চতা: উন্নতি কোণ ও অবনতি কোণ
গণিত
সম্ভাবনা: পরীক্ষালব্ধ বনাম তাত্ত্বিক সম্ভাবনা
গণিত
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
গণিত






















